বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

অজ পাড়াগাঁয়ের মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম নিজের মুদি দোকানের সামান্য উপার্জনে কোনোভাবে সংসার খরচ নির্বাহ করেন। অজ্ঞ গ্রামবাসী অসুখ-বিসুখে প্রায়শই তার কাছে আসে টাকাপয়সার বিনিময়ে পানিপড়া ও তাবিজ-কবজ নেওয়ার জন্য। কিন্তু মাওলানা সাহেব তা না করে রোগীদের শহরের ডাক্তারের কাছে পাঠিয়ে দেন। তিনি গ্রামবাসীকে শিক্ষা দেন- ধর্ম ব্যাবসার বিষয় নয়, মানুষকে প্রতারণা বা নিপীড়নের জন্য নয়।

  1. ক)

    মাছ ধরার ডিঙিতে কতজন মৎস্য শিকারি ছিল?

    (1)
  2. খ)

    ঔপন্যাসিক মজিদের গ্রামে প্রবেশকে নাটকীয় বলেছেন কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আদর্শগত পার্থক্য নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের মূলভাব 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতার মানসচিন্তাকে ধারণ করে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছ ধরার ডিঙিতে তিনজন মৎস্য শিকারি ছিল।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মজিদের মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশের ধরনটি ছিল সম্পূর্ণ আকস্মিক ও নাটকীয় ভঙ্গিযুক্ত, তাই ঔপন্যাসিক একে নাটকীয় বলেছেন।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ গ্রামে প্রবেশের সময় কোনো সাধারণ পথচারীর মতো আসেনি। সে মতিগঞ্জের সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে নাটকের অভিনেতার মতো দুহাত তুলে গ্রামবাসীর উদ্দেশে চিৎকার করে বলেছিল, "আপনারা জাহেল, বে-এলেম, আনপাড়া!" এমন চমকপ্রদ ও দৃষ্টি-আকর্ষণকারী নাটকীয় অভিনয়ের মাধ্যমেই সে গ্রামবাসীকে চমকে দিয়েছিল এবং ধর্মভীতির আবহ তৈরি করেছিল। এ কারণেই ঔপন্যাসিক তার প্রবেশকে নাটকীয় বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ইমাম মাওলানা আবুল কালামের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের চারিত্রিক ও আদর্শগত ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী পার্থক্য বিদ্যমান।

    'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ ধর্মকে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ও বৈষয়িক স্বার্থসিদ্ধির উপায় বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। সে একটি অচেনা বাঁশের ঝাড়সংলগ্ন অজ্ঞাত কবরকে 'মোদাচ্ছের পিরের মাজার' বলে প্রচার করে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করে এবং ভণ্ডামির মাধ্যমে অজ্ঞ গ্রামবাসীকে শাসন ও শোষণ করে। মানুষের অন্ধবিশ্বাস আর কুসংস্কারকে পুঁজি করে সে নিজের আখের গুছিয়েছে।

    অন্যদিকে, উদ্দীপকের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম ধর্মের অপব্যবহারের সম্পূর্ণ বিরোধী। তিনি মুদি দোকানের সামান্য আয়ে সৎভাবে জীবনধারণ করেন। গ্রামের মানুষ রোগমুক্তির আশায় তাবিজ বা পানিপড়ার জন্য এলে তিনি অর্থলোভে তাদের বিভ্রান্ত না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে বলেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ধর্ম কোনো ব্যবসার বিষয় বা প্রতারণার হাতিয়ার নয়। অর্থাৎ, মজিদ যেখানে ধর্মব্যবসায়ী ও প্রতারক, মাওলানা আবুল কালাম সেখানে নিঃস্বার্থ, সচেতন ও সৎ নীতিবান মানুষ। এই আদর্শিক ভিন্নতাই তাদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, উদ্দীপকের মূলভাব 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর মূল মানসচিন্তা তথা সমাজসংস্কারমূলক চেতনাকে ধারণ করে।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তাঁর 'লালসালু' উপন্যাসে মূলত তৎকালীন গ্রামীণ সমাজের ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার এবং ধর্মব্যবসায়ীদের কপট শোষণের রূপটি উন্মোচন করতে চেয়েছিলেন। মজিদের মতো এক সুবিধাবাদী ভণ্ড ধর্মীয় লেবাস ধারণ করে কীভাবে সাধারণ নিরক্ষর ও ধর্মানুরাগী মানুষকে জিম্মি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে, ঔপন্যাসিক তারই নিখুঁত ও ব্যঙ্গাত্মক চিত্র এঁকেছেন। এই প্রতিকূলতাকে প্রকাশ করার পেছনে লেখকের উদ্দেশ্য ছিল ধর্মকে শোষণ ও ব্যবসার হাতিয়ার করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করা।

    উদ্দীপকের ইমাম মাওলানা আবুল কালাম সরাসরি সেই সত্যকেই উচ্চকিত করেছেন যা ঔপন্যাসিক তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন। মাওলানা সাহেব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, ধর্ম মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে ব্যবসা করা কিংবা কাউকে নিপীড়ন বা প্রতারণা করার বিষয় নয়। তিনি ধর্মের নামে পানিপড়া বা তাবিজের ভণ্ডামি না করে মানুষকে বাস্তবসম্মত চিকিৎসার পথ দেখান এবং কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেন।

    সুতরাং, 'লালসালু' উপন্যাসে লেখক পরোক্ষভাবে যে ধর্মব্যবসাবিরোধী ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছেন, উদ্দীপকের মাওলানা আবুল কালামের বক্তব্যে ও আচরণে প্রত্যক্ষভাবে সেই প্রগতিশীল ও যুক্তিবাদী মানসচিন্তারই প্রতিফলন ঘটেছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন