অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
হাবিব একজন গ্রাম্য কৃষক। তুষার সে গ্রামের গ্রাম্য মহাজন। হাবিব তার কৃষিকাজ পরিচালনার জন্য অ-প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হতে ঋণ নিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে হাবিব প্রতিমণ আলু ৬০০ টাকা দরে ও প্রতিমণ ধান ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন। ২০১৫ সালে বাজারে দাম একটু বেশি। সে আলু প্রতিমণ ৯০০ টাকা দরে ও ধান প্রতিমণ ৬০০ টাকায় বিক্রি করেন। বেশি দামে আলু ও ধান বিক্রি করতে পেরে হাবিব খুব খুশি। কিন্তু তুষারের মন বেশ খারাপ।
- ক)(1)
সূচক সংখ্যা কাকে বলে?
- খ)(2)
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থের যোগানের পরিবর্তন আবশ্যক- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ২০১৪ সালের ভিত্তিতে ২০১৫ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার নির্ণয় করো।
- ঘ)(4)
মুদ্রাস্ফীতির ফলে হাবিব ও তুষারের মনোভাব ভিন্নরকম হওয়ার কারণ কি? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কোনো চলকের বা চলকসমূহের সমষ্টির মানের পরিবর্তনের পরিমাপ যে আনুপাতিক সংখ্যার সাহায্যে প্রকাশ করা হয়, তাকে সূচক সংখ্যা (Index Number) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাজারে অর্থের যোগান বৃদ্ধি। সামগ্রিক যোগানের তুলনায় সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পেলে বা বাজারে অতিরিক্ত অর্থের যোগান সৃষ্টি হলে দ্রব্যের দামস্তর ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করে অর্থের যোগান হ্রাস করে থাকে। যেমন—ব্যাংক হার বৃদ্ধি, খোলা বাজারে ঋণপত্র বিক্রয় এবং জমার অনুপাত বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ঋণ প্রবাহ সংকুচিত করে দ্রব্যের সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস করা যায়। ফলে দামস্তর কমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তাই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থের যোগানের পরিবর্তন আবশ্যক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক অনুসারে,
ভিত্তি বছর (২০১৪):
আলুর দাম () = ৬০০ টাকা
ধানের দাম () = ৪০০ টাকা
২০১৪ সালের মোট দামস্তর () = ৬০০ + ৪০০ = ১,০০০ টাকা।চলতি বছর (২০১৫):
আলুর দাম () = ৯০০ টাকা
ধানের দাম () = ৬০০ টাকা
২০১৫ সালের মোট দামস্তর () = ৯০০ + ৬০০ = ১,৫০০ টাকা।২০১৪ সালের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI):
অতএব, মুদ্রাস্ফীতির হার ():
সুতরাং, উদ্দীপকের তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৫ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার ৫০%।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মুদ্রাস্ফীতির ফলে সমাজে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপর এর প্রভাব ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। উদ্দীপকে হাবিব ও তুষারের মনোভাবের ভিন্নতার প্রধান কারণ হলো তাদের অর্থনৈতিক অবস্থানের পার্থক্য—হাবিব হলেন একজন উৎপাদনকারী ও ঋণগ্রহীতা এবং তুষার হলেন একজন মহাজন বা ঋণদাতা।
মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বা মূল্য হ্রাস পায় এবং দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি পায়। হাবিব একজন কৃষক এবং উৎপাদনকারী। ২০১৫ সালে দাম বৃদ্ধির ফলে তিনি তাঁর উৎপাদিত আলু ও ধান যথাক্রমে ৯০০ ও ৬০০ টাকা মণ দরে বেশি দামে বিক্রি করতে সক্ষম হন। এতে তাঁর আর্থিক আয় বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া হাবিব ঋণগ্রহীতা হওয়ায় পূর্বে গৃহীত ঋণের অর্থ এখন কম মূল্যের অর্থে পরিশোধ করতে পারবেন, যার ফলে ঋণগ্রহীতা হিসেবেও তিনি লাভবান হন। এই কারণে হাবিব খুব খুশি।
অন্যদিকে, তুষার গ্রামের একজন মহাজন বা ঋণদাতা। মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থের প্রকৃত মূল্য কমে যায়। ঋণদাতা হিসেবে তুষার পূর্বে যে পরিমাণ ঋণ দিয়েছিলেন, বর্তমান বাজারে সেই অর্থের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। অর্থাৎ ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে টাকা ফেরত পেলে তিনি আগের চেয়ে কম পণ্য বা সেবা কিনতে পারবেন। ফলে ঋণদাতা হিসেবে তুষারের প্রকৃত আয় হ্রাস পায় এবং তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ কারণেই তুষারের মন খারাপ।
পরিশেষে বলা যায়, মুদ্রাস্ফীতির ফলে উৎপাদনকারী ও ঋণগ্রহীতারা সাধারণত লাভবান হন এবং ঋণদাতা ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন বলেই হাবিব ও তুষারের মধ্যে বিপরীতমুখী মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও