সাহিত্য পাঠ • অপরিচিতা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
পড়াশুনা শেষ করে সবিতা এখন গ্রামের একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। বছর কয়েক আগে শহরের এক ধনী ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে তাঁর বিবাহ স্থির হয়। পাত্রপক্ষ বিয়েতে মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করলে তাঁর আত্মসম্মানে আঘাত লাগে। সবিতা নিজেই যৌতুককে প্রত্যাখ্যান করে বিয়ে না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। পিতা-মাতা ও সহকর্মীদের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি তাঁর চিন্তা চেতনায় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তিনি ছাত্র-ছাত্রীর প্রাণ। মায়ের মতো ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন সবাইকে। তিনি বলেন, “দেশকে মাতৃজ্ঞানে সেবা করা, দেশকে ভালোবাসা প্রত্যেকের কর্তব্য।" পরহিতে জীবন উৎসর্গ করাই তাঁর ধর্ম।
- ক)(1)
অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কাজ করে?
- খ)(2)
"এইটে একবার পরখ করিয়া দেখো।” ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
“উদ্দীপকের 'সবিতা' ও 'অপরিচিতা' গল্পের 'কল্যাণী' উভয়েই যৌতুকের শিকার। " মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
- ঘ)(4)
“সবিতার দেশপ্রেম কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার সাথে একই সূত্রে গাঁথা।”—উক্তিটির যথার্থতা বিচার কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অনুপমের বন্ধু হরিশ কানপুরে কাজ করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্ধৃত কথাটি শম্ভুনাথ সেন অনুপমের মামাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন। বিয়ের আসরে পাত্রের মামা কন্যার সমস্ত গহনা খাঁটি কি না তা যাচাই করার জন্য স্যাকরা নিয়ে এসেছিলেন। শম্ভুনাথ বাবু মেয়ের গা থেকে একটি বালা খুলে স্যাকরার হাতে দিয়ে তা পরীক্ষা করতে বলেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষের হীন মানসিকতা ও চরম অবিশ্বাসের প্রতি তীব্র শ্লেষ ও আত্মমর্যাদাবোধ প্রকাশ করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ‘সবিতা’ ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের ‘কল্যাণী’ উভয়েই সমাজের ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথার শিকার হলেও আত্মমর্যাদাবোধের কারণে তারা এর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছে—মন্তব্যটি যথার্থ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ গল্পে দেখা যায়, কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন একজন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের আসরে অনুপমের মামা যৌতুকের গহনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে স্যাকরা দিয়ে পরীক্ষা করাতে চান। এই চরম অপমান ও যৌতুকলোভী মানসিকতার শিকার হয়ে কল্যাণীর বিয়ে ভেঙে যায় এবং পরবর্তীতে কল্যাণী নিজে আর কখনো বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়।
উদ্দীপকের সবিতাও একই সামাজিক ব্যাধির মুখোমুখি হয়েছেন। ধনী ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে তাঁর বিয়ে ঠিক হলে পাত্রপক্ষ বিপুল অঙ্কের যৌতুক দাবি করে। এতে সবিতার আত্মসম্মানে আঘাত লাগে এবং তিনি যৌতুকের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিয়ে ভেঙে দেন।
সুতরাং দেখা যায়, সবিতা ও কল্যাণী উভয়েই পিতৃতান্ত্রিক যৌতুকপ্রথার শিকার হলেও মাথা নত না করে দৃঢ় মানসিকতার সাথে সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে। এদিক থেকে মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যুক্তিসংগত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“সবিতার দেশপ্রেম কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞার সাথে একই সূত্রে গাঁথা”—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত।
‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী যৌতুকের লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত হয়ে জীবনের গতিপথ বদলে ফেলেছিল। সে নারীশিক্ষার বিস্তার ও দেশসেবার ব্রত গ্রহণ করে এবং দেশমাতৃকার সেবাকেই নিজের পরম ধর্ম হিসেবে মেনে নেয়। অনুপম যখন পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তখন কল্যাণী দৃঢ়ভাবে জানায়, ‘মাতৃআজ্ঞা’—অর্থাৎ দেশমাতৃকার সেবার আদেশের কারণেই সে আর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। দেশকে ভালোবাসাই ছিল কল্যাণীর জীবনের মূল অঙ্গীকার।
উদ্দীপকের সবিতাও বিয়ের মতো সামাজিক বন্ধনের চেয়ে পরোপকার ও দেশসেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিনি শিক্ষকতার মাধ্যমে শিশুদের মাতৃস্নেহে গড়ে তুলছেন এবং বিশ্বাস করেন যে দেশকে মাতৃজ্ঞানে সেবা করা এবং ভালোবাসা প্রত্যেকের প্রধান কর্তব্য। পরহিতে আত্মোৎসর্গই তাঁর কাছে জীবনের ধর্ম।
উভয় চরিত্রেই দেখা যায়, ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা বা প্রত্যাখ্যানকে অতিক্রম করে তারা বৃহৎ দেশপ্রেম ও মানবতার সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেছেন। কল্যাণীর ‘মাতৃআজ্ঞা’ ছিল মূলত দেশমাতৃকার সেবা, যা উদ্দীপকের সবিতার ‘দেশকে মাতৃজ্ঞানে সেবা করা’র জীবনাদর্শের সাথেই পরিপূর্ণভাবে মিলে যায়। তাই বলা যায়, সবিতার দেশপ্রেম ও কল্যাণীর মাতৃআজ্ঞা একই সূত্রে গাঁথা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও