অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশে ক্যালরিযুক্ত খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ভিত্তিক দারিদ্র্যের শতকরা হিসাব নিম্নরূপ:-উক্ত দারিদ্র্য পরিস্থিতির কারণে খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা যাতে বিঘ্নিত না হয় তার জন্য সরকার OMS কার্যক্রম পরিচালনা, সুলভমূল্য কার্ডের প্রচলন এবং সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

- ক)(1)
খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
'শুধুমাত্র খাদ্যের অবাধ সরবরাহ থাকলেই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না'- বুঝিয়ে লিখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে পল্লি দারিদ্র্যের হারের উপর স্তম্ভচিত্র অংকন করো।
- ঘ)(4)
খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপসমূহ মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা (Food Accessibility/Affordability) বলতে বোঝায় একটি পরিবারের বা ব্যক্তির প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য বাজার থেকে ক্রয় করার আর্থিক সক্ষমতা বা ক্ষমতা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাদ্য নিরাপত্তার তিনটি প্রধান দিক রয়েছে: খাদ্যের প্রাপ্যতা বা সরবরাহ, খাদ্যের ক্রয়ক্ষমতা বা অভিগম্যতা এবং খাদ্যের পুষ্টিমান ও সঠিক ব্যবহার।
দেশে খাদ্যশস্যের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও আমদানির ফলে বাজারে খাদ্যের অবাধ সরবরাহ বজায় থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের যদি তা কিনে খাওয়ার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা বা আয় না থাকে, তবে তারা অনাহারে বা অপুষ্টিতে ভুগবে। খাদ্য সহজলভ্য হলেও ক্রয়ক্ষমতার অভাবে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হতে পারে না। তাই কেবল খাদ্য সরবরাহ নয়, একই সাথে ক্রয়ক্ষমতা এবং সঠিক পুষ্টি উপযোগ নিশ্চিত হলেই সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা অর্জিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের পল্লি দারিদ্র্যের হার নিচে দেওয়া হলো:
- ১৯৮১-৮২ অর্থবছর: ৭৩.৮০%
- ১৯৯১-৯২ অর্থবছর: ৪৭.৮০%
- ২০১০-১১ অর্থবছর: ৩৫.২০%
স্তম্ভচিত্র অঙ্কন ও বিবরণ:
১. চিত্রে আনুভূমিক অক্ষে (X-অক্ষ) সময়কাল (১৯৮১-৮২, ১৯৯১-৯২ এবং ২০১০-১১) এবং উলম্ব বা লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) পল্লি দারিদ্র্যের হার (%) নির্দেশ করা হয়। লম্ব অক্ষে সুবিধাজনক স্কেল (যেমন: ০ থেকে ৮০ পর্যন্ত প্রতি ১০ একক পর পর) নির্ধারণ করা হয়।
২. ১৯৮১-৮২ সালের জন্য X-অক্ষের নির্দিষ্ট স্থানে ৭৩.৮০ উচ্চতাবিশিষ্ট একটি খাড়া স্তম্ভ (bar) আঁকা হয়।
৩. ১৯৯১-৯২ সালের জন্য সম-প্রস্থের এবং ৪৭.৮০ উচ্চতাবিশিষ্ট দ্বিতীয় একটি স্তম্ভ আঁকা হয়।
৪. ২০১০-১১ সালের জন্য ৩৫.২০ উচ্চতাবিশিষ্ট তৃতীয় স্তম্ভটি আঁকা হয়।স্তম্ভচিত্রটি থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ১৯৮১-৮২ সাল থেকে ২০১০-১১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পল্লি দারিদ্র্যের হার ক্রমান্বয়ে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা নিশ্চিতকরণে সরকারের পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। নিম্নে পদক্ষেপসমূহের মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো:
১. ওএমএস (Open Market Sale - OMS) কার্যক্রম: বাজারে খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সময়ে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে চাল ও আটা সরবরাহ করতে সরকার খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি (OMS) কর্মসূচি পরিচালনা করে। এটি দরিদ্র মানুষের খাদ্য ব্যয় হ্রাস করে ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে বড় ভূমিকা রাখে।
২. সুলভমূল্য কার্ড (ফেয়ার প্রাইস কার্ড) প্রবর্তন: খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নির্দিষ্ট কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ চাল স্বল্পমূল্যে প্রদান করা হয়। এর ফলে লক্ষ্যভিত্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠী সরাসরি উপকৃত হচ্ছে এবং খাদ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে।
৩. সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি (Social Safety Net Programs): বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিডি (VGD), ভিজিএফ (VGF), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে হতদরিদ্রদের সরাসরি খাদ্য সহায়তা বা অর্থ প্রদান করা হয়। এটি সরাসরি হতদরিদ্র শ্রেণির প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
মূল্যায়ন: এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠী চরম খাদ্য ঘাটতি ও অপুষ্টি থেকে রক্ষা পাচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হচ্ছে। তবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস এবং বিতরণ প্রক্রিয়ার অপচয় ও অনিয়ম দূর করতে পারলে খাদ্যের ক্রয়যোগ্যতা ও সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা আরও টেকসইভাবে নিশ্চিত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও