ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০১৬
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
এবিসি ফ্যাশন চিরন্তন অস্তিত্ববিশিষ্ট একটি গার্মেন্টস শিল্প। দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে দেশের স্বনামধন্য পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আনন্দ ফ্যাশন লি. এবিসি ফ্যাশনের ৫০%-এর অধিক শেয়ার ক্রয় করে নেয় এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এবিসি ফ্যাশনের নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা আনন্দ ফ্যাশনসের কাছে চলে আসে।
- ক)(1)
স্মারকলিপি কী?
- খ)(2)
কোম্পানির কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
এবিসি ফ্যাশনের শেয়ার ক্রয় করে আনন্দ ফ্যাশনস্ নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে যে সংগঠন করে তার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করো।
- ঘ)(4)
অধিকাংশ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে এবিসি কোম্পানির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থা উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্মারকলিপি হলো যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূল দলিল বা সংবিধান, যাতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধন, শেয়ারহোল্ডারদের দায় ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লিপিবদ্ধ থাকে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানির কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলতে বোঝায় রক্ত-মাংসের মানুষ না হয়েও আইনের দ্বারা কোনো প্রতিষ্ঠানের স্বতন্ত্র ব্যক্তির মতো মর্যাদা ও অধিকার লাভ করা।
আইনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়ার কারণে একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি নিজ নামে পরিচিতি পায়, চুক্তি সম্পাদন করতে পারে, সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে এবং প্রয়োজনে অন্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পারে কিংবা অন্য কেউ কোম্পানির নামে মামলা করতে পারে। ব্যক্তি না হয়েও ব্যক্তির ন্যায় এসব আইনগত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার ক্ষমতাকেই কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এবিসি ফ্যাশনের শেয়ার ক্রয় করে আনন্দ ফ্যাশনস্ নিয়ন্ত্রণের ভিত্তিতে যে সংগঠন গড়ে তুলেছে তা হলো 'হোল্ডিং কোম্পানি'। নিচে এর কার্যকারিতা আলোচনা করা হলো:
কোম্পানি আইনের দৃষ্টিতে যখন কোনো কোম্পানি অন্য একটি কোম্পানির ৫০%-এর অধিক শেয়ারের মালিকানা অর্জন করে বা তার পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে, তখন নিয়ন্ত্রণকারী কোম্পানিটিকে 'হোল্ডিং কোম্পানি' (Holding Company) এবং নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিটিকে 'সাবসিডিয়ারি কোম্পানি' (Subsidiary Company) বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, এবিসি ফ্যাশন দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে সংকটে পড়েছিল। এ অবস্থায় আনন্দ ফ্যাশন লি. প্রতিষ্ঠানটির ৫০%-এর অধিক শেয়ার ক্রয় করে পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও নীতি নির্ধারণের দায়িত্বভার গ্রহণ করে। ফলে আনন্দ ফ্যাশন লি. একটি হোল্ডিং কোম্পানিতে রূপ নেয়। এ ধরনের সাংগঠনিক রূপ কাঠামোর কার্যকারিতা অনেক বেশি। এর মাধ্যমে দুর্বল কোম্পানিকে দেউলিয়াত্ব বা অবসায়ন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়, বৃহদায়তন উৎপাদনের সুবিধা পাওয়া যায়, দক্ষ ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ঘটে এবং মূলধন সংকট দূর করে ব্যবসায়টিকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখা সহজ হয়। সুতরাং, আনন্দ ফ্যাশনের এই হোল্ডিং কোম্পানি গঠন অত্যন্ত কার্যকর একটি পদক্ষেপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধিকাংশ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে এবিসি কোম্পানির বর্তমান সাংগঠনিক অবস্থাটি মূলত একটি 'সাবসিডিয়ারি কোম্পানি' (Subsidiary Company)-তে রূপান্তরিত হয়েছে।
কোনো কোম্পানির ৫০%-এর অধিক শেয়ার বা ভোটাধিকার অন্য কোনো কোম্পানি ক্রয় করে নিলে এবং তার নিয়ন্ত্রণ অন্যের অধীনে চলে গেলে তাকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বলে। সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পৃথক আইনগত অস্তিত্ব বজায় থাকলেও এর মূল পরিচালনা ও নীতি নির্ধারণের নিয়ন্ত্রণ হোল্ডিং কোম্পানির হাতে থাকে।
উদ্দীপকে এবিসি ফ্যাশন লিমিটেড তাদের ৫০%-এর অধিক শেয়ার দেশের স্বনামধন্য পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান আনন্দ ফ্যাশন লিমিটেডের কাছে বিক্রি করেছে। এর ফলে কোম্পানিটির পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ এবং নীতি নির্ধারণের যাবতীয় ক্ষমতা সরাসরি আনন্দ ফ্যাশনসের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। তাই এবিসি ফ্যাশন এখন আর সম্পূর্ণ স্বাধীন বা একক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি আনন্দ ফ্যাশন লিমিটেডের অধীনস্থ একটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে।
তবে এই রূপান্তরের ইতিবাচক দিক হলো, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত মূলধনের যে অভাবের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, আনন্দ ফ্যাশনসের মতো বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের ছত্রছায়ায় আসায় সেই সংকটগুলো দূর হবে। এবিসি ফ্যাশন নিজ নাম ও অস্তিত্ব বজায় রেখেই আনন্দ ফ্যাশনসের অভিজ্ঞতা, সুনাম ও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সফলভাবে টিকে থাকতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও