বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
কল্পনার রাজকুমার তার ছোট ভাইকে নিয়ে একদিন পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে উড়ে উড়ে মঙ্গল গ্রহে গিয়ে নামে। সেখানে অদ্ভুত আকৃতির অসংখ্য প্রাণী দেখে তারা বিমোহিত হয়। একটি বাগানে প্রবেশ করতেই নীল রঙের তিন পা বিশিষ্ট একদল প্রাণী তাদের আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার তাগিদে রাজকুমার তার ছোট ভাইকে রেখেই পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় উঠে বসে। নিমেষেই রাজকুমার একাকী মঙ্গল গ্রহ হতে আপন রাজ্যে ফিরে আসে।
- ক)(1)
সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহের নাম কী?
- খ)(2)
‘’মানুষ নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে"- কীভাবে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের রাজকুমারের মঙ্গল গ্রহ হতে একাকী ফিরে আসার কারণটি 'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পের পিঁপড়া আর উদ্দীপকের মঙ্গল গ্রহের অদ্ভুত প্রাণীগুলো যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ- মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহের নাম পৃথিবী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের পারস্পরিক হানাহানি, যুদ্ধবিগ্রহ এবং নিজেদের সৃষ্ট পরিবেশ ও পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞের কারণে বলা হয়েছে যে— "মানুষ নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস করে"।
'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে কিউরেটররা লক্ষ্য করেন যে, মানুষ অত্যন্ত বিবেকহীন এবং আগ্রাসী এক প্রজাতি। তারা শুধু অন্যান্য প্রজাতির ক্ষতিই করছে না, বরং নিজেদের তৈরি মারাত্মক মারণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলছে। কিউরেটরদের বিবেচনায়, মানুষ নিজেদের ধ্বংসের জন্য নিজেরাই যথেষ্ট।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাজকুমারের মঙ্গল গ্রহ হতে একাকী ফিরে আসার কারণটি হলো তীব্র আত্মকেন্দ্রিকতা ও আত্মরক্ষার অন্ধ প্রবৃত্তি, যা 'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে বর্ণিত মানুষের চরিত্রের একটি প্রধান ত্রুটি।
'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে দেখা যায়, কিউরেটররা যখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে মানুষকে নির্বাচন করতে যায়, তখন মানুষের চরম স্বার্থপরতা, পারস্পরিক মমতাহীনতা এবং ধ্বংসাত্মক মানসিকতা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মানুষ সহমর্মিতা ও ঐক্যের বদলে নিজের স্বার্থ ও টিকে থাকাকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দেয়।
উদ্দীপকে বিপদের মুহূর্তে রাজকুমার তার নিজের সহোদর ছোট ভাইকে ফেলে রেখে একাকী পালিয়ে আসে। এটি মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও মূল্যবোধের অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। গল্পের কিউরেটররা মানুষের এই স্বার্থপর চরিত্রটিকেই ঘৃণাভরে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। অতএব, রাজকুমারের একাকী ফিরে আসার পেছনে গল্পের আলোকে মানুষের সেই চরম স্বার্থপর ও বিবেকবর্জিত রূপটিই প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পের পিঁপড়া আর উদ্দীপকের মঙ্গল গ্রহের অদ্ভুত প্রাণীগুলো 'একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ'— এই বক্তব্যটি পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তাদের মধ্যে তীব্র বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
'মহাজাগতিক কিউরেটর' গল্পে পিঁপড়াকে কিউরেটররা পৃথিবী থেকে শ্রেষ্ঠ প্রাণী হিসেবে নির্বাচন করেছিল তাদের শৃঙ্খলা, নিয়মবদ্ধতা, পরিশ্রম, নিঃস্বার্থ সামাজিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে। পিঁপড়ারা কখনো নিজেদের প্রজাতি ধ্বংস করে না, বরং সুসংগঠিতভাবে সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে আত্মনিয়োগ করে। তারা কোনো হিংস্র বা আগ্রাসী প্রাণী নয়, বরং চরম ইতিবাচক গুণের প্রতীক।
অন্যদিকে, উদ্দীপকের মঙ্গল গ্রহের অদ্ভুত প্রাণীগুলো ছিল হিংস্র, আক্রমণাত্মক ও বিবেকহীন। কোনো উস্কানি ছাড়াই তারা বাগানে প্রবেশ করা মাত্র রাজকুমার ও তার ভাইয়ের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা বা সামাজিক গঠনশীলতার কোনো ইঙ্গিত নেই, বরং শুধুই ধ্বংসাত্মক আগ্রাসী প্রবণতা রয়েছে।
অতএব, গল্পের শান্ত, সুশৃঙ্খল ও ইতিবাচক স্বভাবের 'পিঁপড়া' এবং উদ্দীপকের হিংস্র ও আক্রমণকারী 'মঙ্গল গ্রহের প্রাণীগুলো' কখনোই সমগোত্রীয় বা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ হতে পারে না; তাদের মধ্যে মূলত বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও