সমাজকর্ম ২য় পত্র • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও সমাজকর্ম • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
S বন্ধুদের সাথে মিশে কৌতূহলবশত প্রথমে ধূমপান তারপর অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বিষয়টির তার বাবা জানতে পারলে তাকে একটি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
- ক)(1)
আইন অনুযায়ী যৌতুকের সর্বনিম্ন পরিমাণ কত?
- খ)(2)
সামাজিক সমস্যার একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন সামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উক্ত সমস্যার প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইন অনুযায়ী যৌতুকের কোনো নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন পরিমাণ নেই; বিবাহের শর্ত হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বর বা কনেপক্ষের নিকট যেকোনো পরিমাণ অর্থ, সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত দাবি বা প্রদান করাই যৌতুক হিসেবে গণ্য হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো 'দারিদ্র্য'। দারিদ্র্যের কারণে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ব্যাহত হয়, যা অজ্ঞতা, অপুষ্টি, নিরক্ষরতা এবং অপরাধপ্রবণতার জন্ম দেয়। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা ব্যক্তি ও পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে হতাশা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় এবং তা সমাজের সার্বিক স্থিতিশীলতাকে বিনষ্ট করে নতুন সামাজিক সমস্যার উদ্ভব ঘটায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'মাদকাসক্তি' নামক সামাজিক সমস্যার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।
মাদকাসক্তি বলতে মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের ওপর শারীরিক ও মানসিক তীব্র নির্ভরশীলতাকে বোঝায়, যা পরিহার করা ব্যক্তির পক্ষে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, এটি এমন একটি অবস্থা যেখানে ব্যক্তি বারবার মাদকদ্রব্য গ্রহণের কারণে শারীরবৃত্তীয় ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে মাদকের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, 'S' কৌতূহলবশত বন্ধুদের প্ররোচনায় প্রথমে ধূমপান এবং পরবর্তীতে অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই নেশাজাতীয় দ্রব্যের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাই মাদকাসক্তির মূল বৈশিষ্ট্য। পরবর্তীতে তার বাবা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করান, যা মাদকাসক্ত ব্যক্তির চিকিৎসার সাধারণ পদ্ধতি। সুতরাং, উদ্দীপকে স্পষ্টভাবে মাদকাসক্তি সমস্যার প্রতিচ্ছবি প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সামাজিক সমস্যাটি হলো 'মাদকাসক্তি'। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমগ্র সমাজের ওপর এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যহানি: মাদকাসক্তির ফলে ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি লোপ পায়, স্নায়ুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মানসিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয় এবং লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের সৃষ্টি হয়।
২. পারিবারিক বিপর্যয়: পরিবারের কোনো সদস্য মাদকাসক্ত হলে পারিবারিক সুখ-শান্তি নষ্ট হয়। মাদকের অর্থ জোগাড়কে কেন্দ্র করে পরিবারে কলহ, অশান্তি, নির্যাতন এবং পরিশেষে বিবাহবিচ্ছেদ ও পারিবারিক ভাঙন ঘটে।
৩. সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি: মাদকের অর্থ সংগ্রহের জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তি চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, এমনকি হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে লিপ্ত হয়, যা সমাজে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়।
৪. অর্থনৈতিক ক্ষতি: মাদকের পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। এছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তি তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায় এবং ব্যক্তি ও জাতীয় অর্থনীতিতে বিশাল ক্ষতি সাধিত হয়।
৫. সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়: এটি যুবসমাজকে বিপথগামী করে এবং সমাজে নৈতিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটায়।
অতএব, মাদকাসক্তি কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং এটি সমগ্র পরিবার ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও