জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র রনি মানবদেহের পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কে পড়ে জানতে পারল যে, ডায়াফ্রামের নিচে একটি বাঁকানো থলে আছে। থলিটির ডান পাশে রয়েছে একটি বড় গ্রন্থি যা পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- ক)(1)
এপিগ্লটিস কী?
- খ)(2)
কাইলোমাইক্রন কীভাবে শোষিত হয়?
- গ)(3)
দেহকে সতেজ রাখতে থলিটির কার্যক্রম ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
অভ্যন্তরীণ স্থিতি রক্ষায় উক্ত গ্রন্থিটির প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
গলবিলের পেছনে স্বরযন্ত্রের মুখে অবস্থিত স্থিতিস্থাপক তরুণাস্থি নির্মিত যে ঢাকনা খাদ্য গ্রহণের সময় খাদ্যকে শ্বাসনালীতে প্রবেশে বাধা দেয়, তাকে এপিগ্লটিস (Epiglottis) বা উপজিহ্বা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ক্ষুদ্রান্ত্রের লুমেনে ফ্যাটজাতীয় খাদ্য পরিপাকের পর মনোগ্লিসারাইড ও ফ্যাটি অ্যাসিড অন্ত্রের এপিথেলিয়াল কোষে প্রবেশ করে ট্রাইগ্লিসারাইডে পুনঃসংশ্লেষিত হয়। এরপর প্রোটিন, কোলেস্টেরল ও ফসফোলিপিডের একটি আবরণে মোড়ানো হয়ে কাইলোমাইক্রন নামক লাইপোপ্রোটিন কণা গঠন করে। কাইলোমাইক্রনগুলো এক্সোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ থেকে বের হয়ে অন্ত্রীয় ভিলাইয়ের কেন্দ্রীয় ল্যাকটিয়েলে (লসিকানালী) প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে থোরাসিক ডাক্ট হয়ে রক্তসংবহনে পৌঁছায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঁকানো থলেটি হলো পাকস্থলী (Stomach)। দেহকে সতেজ ও সুস্থ রাখতে এর প্রধান কার্যক্রমগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. খাদ্য সঞ্চয়: পাকস্থলী সাময়িকভাবে গৃহীত খাদ্য জমা রাখে, ফলে নির্দিষ্ট বিরতিতে খাবার গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
২. যান্ত্রিক পরিপাক: পাকস্থলীর প্রাচীরের পেশির পেরিস্টালসিস ও ক্রমসংকোচনের ফলে খাদ্যবস্তু পিষ্ট ও চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে লেই বা 'কাইম' (Chyme)-এ পরিণত হয়।
৩. রাসায়নিক পরিপাক: গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পেপসিনোজেন এনজাইম সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয়ে আমিষকে প্রোটিওজ ও পেপটনে ভাঙে। গ্যাস্ট্রিক লাইপেজ চর্বি পরিপাকে ভূমিকা রাখে।
৪. জীবাণু ধ্বংস ও অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি: প্যারাইটাল কোষ থেকে নিঃসৃত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl) খাদ্যের সাথে প্রবেশ করা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং পাকস্থলীর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অম্লীয় রেখে দেহকে সুস্থ রাখে।
৫. শোষণ ও ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর: এটি পানি, অ্যালকোহল ও কিছু ওষুধ শোষণ করে এবং ভিটামিন বি-১২ শোষণের জন্য প্রয়োজনীয় 'ক্যাসেলের ইনট্রিনসিক ফ্যাক্টর' ক্ষরণ করে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে।এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকস্থলী খাদ্য পরিপাক সম্পন্ন করে দেহকে কর্মক্ষম ও সতেজ রাখে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বড় গ্রন্থিটি হলো যকৃত (Liver), যা মানবদেহের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গবেষণাগার হিসেবে পরিচিত। অভ্যন্তরীণ স্থিতি (Homeostasis) রক্ষায় যকৃতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম:
১. গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ: রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গেলে যকৃত ইনসুলিনের প্রভাবে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে। আবার রক্তে গ্লুকোজ কমে গেলে গ্লুকাগনের প্রভাবে গ্লাইকোজেনোলাইসিস ও গ্লুকোনিওজেনেসিসের মাধ্যমে গ্লুকোজ তৈরি করে রক্তে সরবরাহ করে।
২. রক্তে অ্যামিনো অ্যাসিড ও প্রোটিন সমতা: যকৃত ডিঅ্যামিনেশন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অ্যামিনো অ্যাসিডের অ্যামাইনো গ্রুপ আলাদা করে ইউরিয়া চক্রের মাধ্যমে ইউরিয়া তৈরি করে এবং রক্তরস প্রোটিন (যেমন- অ্যালবুমিন, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন) সংশ্লেষ করে রক্তের অসমোটিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. বিষাক্ত পদার্থ দূরীকরণ (Detoxification): বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান, ওষুধ, টক্সিন ও অ্যালকোহলকে জারণ ও বিপাকের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে দেহকে সুরক্ষিত রাখে।
৪. রক্ত সংবহন ও সঞ্চয়: যকৃত রক্তের বিশাল রিজার্ভায়ার হিসেবে কাজ করে এবং বিলিরুবিন ও বিলিভার্ডিন তৈরি ও নিষ্কাশন করে লোহিত রক্তকণিকার ভারসাম্য রক্ষা করে।
৫. তাপ উৎপাদন: যকৃতে সংঘটিত অসংখ্য বিপাকীয় ক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন তাপ দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখে।সুতরাং, রক্তের উপাদানসমূহের সমতা এবং দেহের অভ্যন্তরীণ সুস্থ পরিবেশ (Homeostasis) বজায় রাখতে যকৃতের ভূমিকা অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও