অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বিগত ১০ বছর যাবত শামীম সাহেব পাঁচ ইউনিটের একটি রপ্তানিমুখী কারখানা অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করে আসছেন। এ শিল্প থেকে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৫% উপার্জিত হয়। প্রচুর দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিক এই শিল্পে নিয়োজিত হয়েছে। এ শিল্পের কাঁচামালের বেশিরভাগ একটি উৎসবে সংগৃহীত হয়। সম্প্রতি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি, উদ্যোক্তাদের অদক্ষতা ইত্যাদি কারণে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- ক)(1)
রপ্তানিমুখী শিল্প কি?
- খ)(2)
শিল্পায়ন কিভাবে বেকারত্ব নিরসনে সহায়তা করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি চিহ্নিত কর এবং উদ্দীপকের আলোকে এই শিল্পের গুরুত্ব বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানে তোমার মতামত বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব শিল্পে উৎপাদিত পণ্যের সিংহভাগ বা সম্পূর্ণ অংশ বিদেশের বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়, তাকে রপ্তানিমুখী শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শিল্পায়ন নতুন নতুন কারখানা, উৎপাদন কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট সহায়ক সেবা খাতের সৃষ্টি করে। শিল্প খাতের সম্প্রসারণের ফলে বিপুলসংখ্যক দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পাশাপাশি পরিবহন, বিপণন ও কাঁচামাল সরবরাহের মতো সহযোগী খাতেও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। ফলে দেশের বেকার জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীল কাজে যুক্ত হতে পারে এবং বেকারত্ব নিরসন সম্ভব হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পটি হলো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্প (অথবা পাট শিল্প, যা দেশের প্রধান স্থানীয় কাঁচামালভিত্তিক রপ্তানিমুখী বৃহৎ শিল্প; বিশেষত কোরবানির মতো নির্দিষ্ট উৎসব থেকে কাঁচামাল চামড়া সংগৃহীত হয়)।
উদ্দীপকের আলোকে এই শিল্পের গুরুত্ব নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রপ্তানি আয় বৃদ্ধি: দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৫% উপার্জিত হয় এই খাত থেকে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
২. ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি: শিল্পটি শ্রমঘন হওয়ায় এতে বিপুল পরিমাণ দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক।
৩. দেশীয় কাঁচামালের সদ্ব্যবহার: দেশীয় উৎস বা উৎসব থেকে সংগৃহীত কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে এটি অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে উচ্চ মূল্য সংযোজন (Value Addition) ঘটায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শিল্পের প্রবৃদ্ধি চলমান রাখতে এবং সংকট উত্তরণে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত বলে আমি মনে করি:
১. বাজার বহুমুখীকরণ: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভর না করে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার নতুন নতুন আন্তর্জাতিক বাজার অনুসন্ধান করতে হবে।
২. উদ্যোক্তা ও শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন: উদ্যোক্তাদের আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ও বিপণন কৌশল বিষয়ক উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং শ্রমিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে ভোকেশনাল ট্রেনিং নিশ্চিত করতে হবে।
৩. কাঁচামাল সংরক্ষণ ও আধুনিকীকরণ: নির্দিষ্ট উৎসবে সংগৃহীত কাঁচামাল নষ্ট হওয়া রোধে আধুনিক সংরক্ষণাগার, লবণ সরবরাহ ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৪. আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স অর্জন: কারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি (যেমন- সিইটিপি) এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৫. নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা: সরকার কর্তৃক শুল্ক সুবিধা, নগদ প্রণোদনা এবং স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে বৈশ্বিক মন্দার চাপ কমাতে হবে।পরিশেষে, সুদূরপ্রসারী কৌশলগত পরিকল্পনা ও সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমেই এ শিল্পের প্রবৃদ্ধি পুনরায় সচল করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও