অর্থনীতি ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
দুষ্প্রাপ্যতা কি?
- খ)(2)
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় কেন অসম বন্টন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যাটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
একটি জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে উদ্দীপকের T1 ও T2 উৎপাদন কৌশলের কোনটি অধিক যুক্তিযুক্ত? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের অসীম অভাবের তুলনায় উৎপাদনের উপকরণ বা সম্পদের অপ্রতুলতা বা সীমাবদ্ধতাকে অর্থনীতিতে দুষ্প্রাপ্যতা (Scarcity) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ এবং অর্জিত সম্পদের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা বিদ্যমান থাকে। এ ব্যবস্থায় উদ্যোক্তা বা পুঁজিপতিদের মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা সর্বোচ্চকরণ, যার ফলে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত মূল্যের সিংহভাগ পুঁজিপতিদের হাতে পুঞ্জীভূত হয় এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হয়। সম্পদ বণ্টনে সরকারের কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ধনী আরও ধনী এবং দরিদ্র আরও দরিদ্র হতে থাকে, যা সমাজে তীব্র আয় ও সম্পদ বৈষম্য বা অসম বণ্টন পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অর্থনীতির অন্যতম মৌলিক সমস্যা 'কীভাবে উৎপাদন করা হবে?' (How to produce?) প্রতিফলিত হয়েছে।
মানুষের অভাব অসীম হলেও সম্পদ সীমিত। এ সীমিত সম্পদের সাহায্যে কোন প্রযুক্তি বা উৎপাদন কৌশল অবলম্বন করে কাঙ্ক্ষিত দ্রব্য উৎপাদন করা হবে, তা নির্ধারণ করাই হলো 'কীভাবে উৎপাদন করা হবে' সংক্রান্ত সমস্যা। সাধারণত উৎপাদন কৌশল প্রধানত দুই প্রকার— (১) শ্রমনিবিড় কৌশল (Labour Intensive Technique) এবং (২) মূলধননিবিড় কৌশল (Capital Intensive Technique)।
উদ্দীপকের চিত্রে ভূমি অক্ষে শ্রম (L) এবং লম্ব অক্ষে মূলধন (K) পরিমাপ করা হয়েছে। সম-উৎপাদন রেখা (IQ)-এর ওপর দুটি ভিন্ন কৌশল T1 ও T2 রশ্মি দ্বারা দেখানো হয়েছে। T1 রশ্মিটি মূলধন অক্ষের কাছাকাছি হওয়ায় এটি মূলধননিবিড় উৎপাদন কৌশলকে নির্দেশ করে, যেখানে শ্রমের চেয়ে মূলধন বেশি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, T2 রশ্মিটি শ্রম অক্ষের কাছাকাছি হওয়ায় এটি শ্রমনিবিড় কৌশল নির্দেশ করে, যেখানে মূলধনের তুলনায় শ্রম বেশি ব্যবহৃত হয়। অতএব, কোন উৎপাদন কৌশলটি বেছে নেওয়া হবে—এই সমস্যার চিত্রায়ন হওয়ায় উদ্দীপকে 'কীভাবে উৎপাদন করা হবে' সমস্যাটি প্রতিফলিত হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একটি জনবহুল উন্নয়নশীল দেশের জন্য উদ্দীপকে প্রদর্শিত উৎপাদন কৌশল দুটির মধ্যে T2 কৌশলটি (শ্রমনিবিড় কৌশল) অধিক যুক্তিযুক্ত।
উদ্দীপকের চিত্রে T1 হলো মূলধননিবিড় উৎপাদন কৌশল (যেখানে মূলধন/শ্রম অনুপাত বেশি) এবং T2 হলো শ্রমনিবিড় উৎপাদন কৌশল (যেখানে শ্রম/মূলধন অনুপাত বেশি)।
একটি জনবহুল উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতায় T2 কৌশল গ্রহণের যৌক্তিকতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উপকরণের সহজলভ্যতা ও ব্যয়স্বল্পতা: জনবহুল উন্নয়নশীল দেশে জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে শ্রমের প্রাচুর্য থাকে এবং তুলনামূলকভাবে শ্রম সস্তা হয়। বিপরীতে, এ ধরনের দেশগুলোতে মূলধনের তীব্র সংকট থাকে। ফলে শ্রমনিবিড় কৌশল (T2) ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় সর্বনিম্ন হয়।
২. বেকারত্ব হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেকারত্ব একটি প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। শ্রমনিবিড় পদ্ধতি (T2) গ্রহণ করলে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়, যা দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক। মূলধননিবিড় কৌশল (T1) গ্রহণ করলে যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরতা বাড়ে এবং শ্রমের চাহিদা কমে বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়।
৩. বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয়: মূলধননিবিড় কৌশলের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি বিদেশ থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে আমদানি করতে হয়, যা উন্নয়নশীল দেশের সীমিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
৪. আয় বণ্টনে সমতা: ব্যাপক শ্রমিক নিয়োগের ফলে সমাজের সিংহভাগ দরিদ্র জনগণের হাতে সরাসরি আয়ের প্রবাহ ঘটে, যা অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে।অতএব, সামগ্রিক বিবেচনায় সম্পদের কাম্য ব্যবহার, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি জনবহুল উন্নয়নশীল দেশের জন্য T2 কৌশলটি অধিকতর ফলপ্রসূ ও যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও