যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

প্রিয়ন্তী একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। সে বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন ও সদা হাস্যপ্রিয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি ভালো গান গায় ও কবিতা আবৃত্তি করে। এসব গুণের কারণে সহপাঠী ও শিক্ষকগণ তাকে খুব পছন্দ করে।

  1. ক)

    পরফিরির মতে বিধেয়ক কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    আসন্নতম জাতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রিয়ন্তীর বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন' গুণটি কোন ধরনের বিধেয়ক নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    প্রিয়ন্তীর 'হাস্যপ্রিয়' গুণটি কোন ধরনের বিধেয়ক তা উল্লেখ করে এর শ্রেণিবিভাগগুলো ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দার্শনিক পরফিরির মতে বিধেয়ক ৫ (পাঁচ) প্রকার। যথা— জাতি, উপজাতি, লক্ষণ (বা বিভেদক লক্ষণ), উপলক্ষণ ও অবান্তর লক্ষণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো উপজাতির ঠিক অব্যবহিত ওপরের জাতিকে আসন্নতম জাতি (Proximum Genus) বলে।

    অন্যভাবে বলা যায়, একটি উপজাতি ও তার ওপরের জাতির মধ্যে যদি অন্য কোনো মধ্যবর্তী জাতি না থাকে, তবে সেই ওপরের জাতিটিকে ওই উপজাতির আসন্নতম জাতি বলা হয়। যেমন— 'মানুষ' উপজাতির ঠিক ওপরের জাতি হলো 'জীব'। তাই 'জীব' হলো মানুষের আসন্নতম জাতি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রিয়ন্তীর 'বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন' গুণটি বিধেয়ক হিসেবে 'লক্ষণ' বা 'বিভেদক লক্ষণ' (Differentia)-কে নির্দেশ করে।

    যে গুণ বা গুণাবলি কোনো একটি উপজাতিকে তার সমগোত্রীয় অন্যান্য উপজাতি থেকে আলাদা বা পৃথক করে, তাকে লক্ষণ বা বিভেদক লক্ষণ বলে। লক্ষণ হলো পদের আবশ্যিক ও মৌলিক গুণ বা জাত্যর্থের অংশ।

    উদ্দীপকে প্রিয়ন্তী একজন মানুষ। মানুষের আসন্নতম জাতি হলো 'জীব' এবং মানুষ ছাড়াও অন্যান্য জীব রয়েছে। কিন্তু মানুষ অপরাপর জীব থেকে আলাদা হয়েছে তার 'বিচারবুদ্ধি' বা 'বুদ্ধিবৃত্তি' নামক অনন্য গুণের কারণে। প্রিয়ন্তীর এই বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন হওয়ার গুণটি মূলত মানুষ প্রজাতির সাধারণ জাত্যর্থের অংশ, যা মানুষকে অন্যান্য প্রাণী থেকে পৃথক করে। সুতরাং, যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী প্রিয়ন্তীর 'বিচার বুদ্ধিসম্পন্ন' গুণটি হলো বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রিয়ন্তীর 'হাস্যপ্রিয়' গুণটি বিধেয়ক হিসেবে 'উপলক্ষণ' (Proprium)-কে নির্দেশ করে।

    যে গুণ কোনো পদের মূল জাত্যর্থ নয়, অথচ জাত্যর্থ বা জাত্যর্থের অংশ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপলক্ষণ বলে। প্রিয়ন্তীর মানুষ হিসেবে মূল জাত্যর্থ হলো 'জীববৃত্তি' ও 'বুদ্ধিবৃত্তি'। এই বুদ্ধিবৃত্তি থেকেই মানুষের মধ্যে হাসির অনুভূতি বা হাস্যপ্রিয়তা জন্ম নেয়। তাই এটি একটি উপলক্ষণ।

    উপলক্ষণের শ্রেণিবিভাগ:
    উপলক্ষণ প্রধানত দুই প্রকার—
    ১. জাতিগত উপলক্ষণ: যে উপলক্ষণ কোনো উপজাতির মূল জাত্যর্থের 'জাতিগত অংশ' (জীববৃত্তি) থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে জাতিগত উপলক্ষণ বলে। যেমন— ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা ইত্যাদি মানুষের জাতিগত উপলক্ষণ, কারণ এগুলো জীববৃত্তি থেকে উদ্ভূত।

    ২. উপজাতিগত উপলক্ষণ: যে উপলক্ষণ কোনো উপজাতির নিজস্ব বা 'লক্ষণগত অংশ' (বুদ্ধিবৃত্তি) থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে উপজাতিগত উপলক্ষণ বলে। যেমন— হাস্যপ্রিয়তা, বিচারক্ষমতা, বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ ইত্যাদি। উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রিয়ন্তীর 'হাস্যপ্রিয়' গুণটি মানুষের বুদ্ধিবৃত্তি থেকে নিঃসৃত হওয়ায় এটি মূলত মানুষের উপজাতিগত উপলক্ষণ।

    পরিশেষে বলা যায়, প্রিয়ন্তীর হাস্যপ্রিয়তা হলো একটি উপজাতিগত উপলক্ষণ, যা মানুষের মৌলিক জাত্যর্থ না হলেও বুদ্ধিবৃত্তির অনিবার্য ফল হিসেবে প্রকাশ পায়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন