সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপের সিইও (প্রধান) সাইফুল সাহেব তার প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে গিয়ে দেখেন, দেশে প্রচুর উচ্চ প্রক্ষিত তরুণ বেকার থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কাজের জন্য দক্ষ নন। ফলে। পিকে বিদেশি শ্রমিক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হয়েছে। অথচ আমাদের তরুণ বেকাররা কাজের জন্য নিম্ন মজুরিতে মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছে। তাদের কেউ কেউ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভাল কাজ পাচ্ছে, অন্যরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
- ক)(1)
বেকার কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশে কাম্য জনসংখ্যার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো
- গ)(3)
উদ্দীপকে বেকারত্বের কোন কারণটি চিহ্নিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমস্যা সমাধানে তোমার সুচিন্তিত সুপারিশ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাজের উপযুক্ত বয়স, কর্মক্ষমতা এবং কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যখন কোনো ব্যক্তি প্রচলিত মজুরিতে কাজ পায় না, তখন তাকে বেকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের উপলব্ধ প্রাকৃতিক ও অন্যান্য সম্পদের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য যে পরিমাণ জনসংখ্যার প্রয়োজন হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।
বাংলাদেশে সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি, অর্থাৎ দেশটি জনাধিক্যের শিকার। এ অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে খাদ্যঘাটতি, বেকারত্ব, দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে কাম্য জনসংখ্যা বজায় থাকলে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হতো, জীবনযাত্রার মান উন্নত হতো এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। তাই টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বাংলাদেশে কাম্য জনসংখ্যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বেকারত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে 'শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি' বা 'কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার অভাবজনিত কাঠামোগত বেকারত্ব'-কে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা মূলত তাত্ত্বিক ও সনদসর্বস্ব। এতে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মজীবনের উপযোগী প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে প্রচলিত শিক্ষা শেষ করে বিপুলসংখ্যক তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করলেও তারা আধুনিক শিল্প ও বাণিজ্যের চাহিদামাফিক দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সিইও সাইফুল সাহেবের প্রতিষ্ঠানে প্রচুর উচ্চশিক্ষিত তরুণ থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কাজের উপযোগী দক্ষ নন। এ কারণে তাকে বাধ্য হয়ে বিদেশি দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও কর্মোপযোগী বাস্তব দক্ষতার এই ঘাটতিই প্রমাণ করে যে, উদ্দীপকে বেকারত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার অভাব তথা ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দক্ষ কর্মীর অভাব এবং বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সুচিন্তিত সুপারিশসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংস্কার: সাধারণ তাত্ত্বিক শিক্ষার পরিবর্তে শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, ব্যবহারিক ও কর্মমুখী ধারায় রূপান্তর করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা জরুরি।
২. কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের বিস্তার: সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে পলিটেকনিক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল এবং আধুনিক শিল্প ব্যবস্থাপনার ওপর বাস্তবসম্মত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৩. বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক না পাঠিয়ে তাদের যথাযথ ভাষা শিক্ষা, আধুনিক যন্ত্রপাতি চালনা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে পাঠাতে হবে, যাতে তারা উন্নত মজুরি পেতে পারে এবং মানবেতর জীবনযাপন রোধ হয়।
৪. শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ (Industry-Academia Linkage): বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৫. যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থান: তরুণদের সহজ শর্তে ঋণ ও পরামর্শ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প গড়ে তুলতে উৎসাহিত করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করলে দেশের শিক্ষিত তরুণদের মানবসম্পদে রূপান্তর করে বেকারত্ব সমস্যা দূর করা এবং জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও