ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

হাফিজ মেঘনা লি.-এর একজন ব্যবস্থাপক। তিনি কাজের সুবিধার্থে কাজগুলোকে প্রকৃতি অনুসারে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করেন। পরে প্রতিটি বিভাগের কাজ এক একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করেন, যারা কোনো কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা ভোগ করেন না। তবে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কে কতজন অধীনস্থের কাজ দেখভাল করবেন তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকায় মেঘনা লি. জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়। যা একসময় বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।

  1. ক)

    কমিটি কী?

    (1)
  2. খ)

    সাম্যের নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে কোন ধরনের সংগঠন কাঠামো ব্যবহার করাহয়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    সংগঠনের যে নীতির সঠিক প্রয়োগের অভাবে মেঘনা লি. বিশৃঙ্খলার সম্মুখীন হয় তা দূর করার জন্য তোমার সুপারিশ পেশ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো বিশেষ কার্য সম্পাদনের জন্য দুই বা ততোধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত দলকে কমিটি বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যবস্থাপনায় সাম্যের নীতি বলতে প্রতিষ্ঠানের সকল অধীনস্থ ও কর্মীদের প্রতি ন্যায়পরায়ণতা, পক্ষপাতহীনতা এবং সমান সদয় আচরণ প্রদর্শনকে বোঝায়।
    প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মীকে সমান দৃষ্টিতে দেখা, কোনো পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য না করা এবং কাজের ন্যায্য মূল্যায়ন করাই হলো সাম্যের নীতির মূল কথা। এর ফলে কর্মীদের মধ্যে সন্তুষ্টি ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানটিতে 'সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন' (Line and Staff Organization) কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে।

    যে সংগঠন কাঠামোতে সরলরৈখিক নির্বাহীদের কার্য পরিচালনার সুবিধার জন্য এবং তাদের পরামর্শ দানের নিমিত্তে বিশেষজ্ঞ বা পদস্থ কর্মীদের (Staff) নিয়োগ করা হয়, কিন্তু সেই বিশেষজ্ঞদের কোনো প্রত্যক্ষ কর্তৃত্ব বা আদেশ দানের ক্ষমতা থাকে না, তাকে সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন বলে।

    উদ্দীপকে হাফিজ সাহেব মেঘনা লি.-এর কাজের সুবিধার্থে কাজগুলোকে বিভিন্ন বিভাগে ভাগ করেন এবং প্রতিটি বিভাগে একজন করে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত করেন। এই বিশেষজ্ঞরা কোনো সরাসরি কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা ভোগ করেন না, বরং কেবল নিজস্ব বিষয়ে বিশেষায়িত ভূমিকা পালন করেন। বিশেষজ্ঞদের ক্ষমতা বা কর্তৃত্বহীন এমন সংযোজন সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠনের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, প্রতিষ্ঠানটিতে সরলরৈখিক ও পদস্থ কর্মী সংগঠন কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মেঘনা লি.-এ সংগঠনের 'কাম্য নিয়ন্ত্রণ পরিধি নীতি'র (Principle of Span of Control) সঠিক প্রয়োগের অভাবে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে।

    একজন কর্মকর্তার অধীনে কতজন অধস্তন কর্মী সরাসরি কাজ করবেন এবং কর্মকর্তা কতজনের কাজ সুষ্ঠুভাবে তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তা নির্ধারণ করাই হলো নিয়ন্ত্রণ পরিধি নীতি। মেঘনা লি.-এ বিভিন্ন স্তরে কে কতজন অধীনস্থের কাজ দেখভাল করবেন তা নির্দিষ্ট না থাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

    এ পরিস্থিতি দূর করার জন্য নিম্নরূপ সুপারিশ পেশ করা হলো:
    ১. কাজের প্রকৃতি ও জটিলতা বিশ্লেষণ: সরল ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজের ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তার অধীনে বেশি কর্মী এবং জটিল ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কাজের ক্ষেত্রে কর্মীর সংখ্যা কম নির্ধারণ করতে হবে।
    ২. নির্বাহীর যোগ্যতা ও সামর্থ্য বিবেচনা: প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদের কাজের চাপ ও তদারকি ক্ষমতা বিবেচনা করে তাদের অধীনে যৌক্তিক সংখ্যক অধস্তন ন্যস্ত করতে হবে।
    ৩. কর্মীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন: অধীনস্থ কর্মীরা যদি দক্ষ ও অভিজ্ঞ হন, তবে তদারকি তুলনামূলক সহজ হয়। কর্মীদের দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রণ পরিধি কাম্য মাত্রায় নির্ধারণ করতে হবে।
    ৪. কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন: প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে কে কার অধীনে কাজ করবে এবং কার কাছে জবাবদিহি করবে—তা সুনির্দিষ্টভাবে সাংগঠনিক নকশায় রূপরেখা আকারে প্রণয়ন করতে হবে।

    অতএব, মেঘনা লি.-এ কাম্য নিয়ন্ত্রণ পরিধি নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতি স্তরে নির্দিষ্ট সংখ্যক অধীনস্থের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করলেই বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন