যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন
এ বছর অনেক মানুষের মৃত্যু দেখে রহিমের দাদি বললো, এ হলো সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ। রহিম বললো, এটা ঠিক না দাদি; করোনা ভাইরাসের কারণে এসব মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।
- ক)(1)
বিশ্লেষণ কী?
- খ)(2)
মনের মৌলিক অনুভূতিকে ব্যাখ্যা করা যায় না কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে রহিমের দাদির বক্তব্যে কী ধরনের ব্যাখ্যা সংঘটিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে রহিমের ব্যাখ্যার সঙ্গে তার দাদির ব্যাখ্যার তুলনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো জটিল বিষয় বা বস্তুকে তার বিভিন্ন অঙ্গীভূত অংশ বা উপাদানে বিভক্ত করে পৃথক পৃথকভাবে প্রদর্শন করাকে বিশ্লেষণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মনের মৌলিক বা আদি অনুভূতিগুলোকে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ ব্যাখ্যা হলো কোনো বিষয়কে তার চেয়ে অধিকতর ব্যাপক কোনো সাধারণ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা অথবা তার উপাদান বা কারণ উদঘাটন করা। কিন্তু মনের মৌলিক অনুভূতিগুলো (যেমন—আনন্দ, দুঃখ, ভালোবাসা, কোনো স্বাদ বা রঙের সরল অনুভূতি) অত্যন্ত মৌলিক ও সরল। এদের আর কোনো সহজতর উপাদানে ভাঙা বা এদের চেয়ে ব্যাপক কোনো মানসিক নিয়মের অধীনে এনে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। ফলে এদের স্বরূপ সরাসরি অনুভবের মাধ্যমেই বুঝতে হয়, ব্যাখ্যার মাধ্যমে নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিমের দাদির বক্তব্যে 'লৌকিক ব্যাখ্যা' (Popular Explanation) সংঘটিত হয়েছে।
যে ব্যাখ্যায় কোনো ঘটনার পেছনে প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান না করে অলৌকিক, অতিপ্রাকৃতিক বা কাল্পনিক কোনো কারণ আরোপ করা হয়, তাকে যুক্তিবিদ্যায় লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা ও কুসংস্কার থেকেই মূলত লৌকিক ব্যাখ্যার উৎপত্তি হয়।
উদ্দীপকে এ বছর অনেক মানুষের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করে রহিমের দাদি মন্তব্য করেন যে, 'এ হলো সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ'। দাদির এই ধারণাটি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা প্রাকৃতিক কারণের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং এটি অলৌকিক ও ধর্মভিত্তিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা একটি সাধারণ মনগড়া অভিমত। অতএব, রহিমের দাদির এই বক্তব্যটি যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিতে একটি অবৈজ্ঞানিক বা লৌকিক ব্যাখ্যার দৃষ্টান্ত।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে রহিমের ব্যাখ্যাটি হলো 'বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা' এবং তার দাদির ব্যাখ্যাটি হলো 'লৌকিক ব্যাখ্যা'। এদের পারস্পরিক তুলনা নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ভিত্তিগত পার্থক্য: রহিমের ব্যাখ্যাটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, কারণ সে মানুষের মৃত্যুর জন্য 'করোনা ভাইরাস' নামক বাস্তব ও প্রাকৃতিক অণুজীবকে দায়ী করেছে। অপরদিকে, দাদির ব্যাখ্যাটি অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারের ওপর প্রতিষ্ঠিত লৌকিক ব্যাখ্যা, যেখানে অলৌকিক বিষয়কে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. কার্যকারণ সম্পর্ক: বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনার সুনির্দিষ্ট কার্যকারণ সম্পর্ক অনুসন্ধান ও প্রাকৃতিক নিয়ম আবিষ্কার করা হয়, যা রহিমের বক্তব্যে বিদ্যমান। পক্ষান্তরে, লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয় না; বরং মনগড়া অতিপ্রাকৃতিক শক্তিকে কারণ ভাবা হয়, যেমনটি দাদি করেছেন।
৩. যাচাইযোগ্যতা: রহিমের বক্তব্য (করোনা ভাইরাস সংক্রমণ) পরীক্ষাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ বা যাচাই করা সম্ভব। কিন্তু দাদির অভিমত (সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ) কোনো বাস্তব পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করা সম্ভব নয়।
৪. সার্বজনীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা: রহিমের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটি সুনির্দিষ্ট, নিয়মতান্ত্রিক ও সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, দাদির লৌকিক ব্যাখ্যা ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে এবং যুক্তির জগতে এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
সুতরাং, পরিশেষে বলা যায় যে রহিমের ব্যাখ্যাটি যুক্তিযুক্ত, বাস্তবভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক; অপরদিকে তার দাদির ব্যাখ্যাটি নিতান্তই অযৌক্তিক, কাল্পনিক ও লৌকিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও