ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব কামাল, সবুজ ও সাগর তিন বন্ধু মিলে সাতজন আত্মীয়-স্বজন নিয়ে রংধনু লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তারা কোম্পানি গঠনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় দলিলপত্র প্রস্তুত করে নিবন্ধকের নিকট দাখিল করেন। নিবন্ধন উক্ত দলিল পত্র যাচাই বাছাই করে দেখল মূল দলিলের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারা বাদ পড়েছে। পরবর্তীতে উক্ত ধারা সংযুক্ত করে নিকট জমা দেন। নিবন্ধক যাচাই-বাছাই পূর্ব কোম্পানির নামে নিবন্ধন পত্র প্রদান করেন। এখন নিবন্ধন পত্র পেয়েও তারা কোম্পানি কার্যক্রম শুরু করতে পারল না।
- ক)(1)
কোম্পানির সংগঠনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল কোনটি?
- খ)(2)
কোম্পানির সংগঠনের তফসিল-১ কখন ব্যবহার করা হয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত মূল দলিল বলতে কোনটিকে বোঝানো হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পরে কার্যক্রম শুরু করতে না পারার উত্তম কারণ কোনটি? উদ্দীপকের আলোকে তার বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানি সংগঠনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো পরিমেল নিয়মাবলি (Articles of Association)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি নিজস্ব পরিমেল নিয়মাবলি তৈরি না করলে তার বিকল্প হিসেবে কোম্পানি আইনের 'তফসিল-১' ব্যবহার করা হয়।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, শেয়ার দ্বারা সীমাবদ্ধ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ইচ্ছা করলে নিজস্ব কোনো পরিমেল নিয়মাবলি প্রস্তুত নাও করতে পারে। সেক্ষেত্রে কোম্পানি আইনের প্রথম তফসিলে বর্ণিত আদর্শ নিয়মাবলি বা প্রবিধিসমূহ (তফসিল-১) ওই কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনার বিধি হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য ও গৃহীত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মূল দলিল বলতে কোম্পানির 'স্মারকলিপি' বা 'পরিমেল বন্ধ'কে (Memorandum of Association) বোঝানো হয়েছে।
স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল, প্রধান ও সংবিধানস্বরূপ দলিল, যাতে কোম্পানির নাম, নিবন্ধিত কার্যালয়ের ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধন, শেয়ারহোল্ডারদের দায় এবং সম্মতি বা এসোসিয়েশন সংক্রান্ত ছয়টি প্রধান ধারা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই দলিলের বাইরে কোম্পানি কোনো কাজ করতে পারে না।
উদ্দীপকে জনাব কামাল, সবুজ, সাগর ও তাঁদের আত্মীয়সহ গঠিত রংধনু লিমিটেডের দলিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ 'ধারা' বাদ পড়েছিল বলে নিবন্ধক তা সংশোধন করতে বলেন। স্মারকলিপিতেই নির্দিষ্ট কতগুলো সংবিধিবদ্ধ ধারা থাকে যা বাদ পড়লে নিবন্ধন সম্ভব হয় না। তাই উদ্দীপকের মূল দলিলটি হলো স্মারকলিপি বা পরিমেল বন্ধ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পরেও কার্যক্রম শুরু করতে না পারার প্রধান কারণ হলো প্রতিষ্ঠানটি একটি 'পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি' এবং এটি এখনো 'কার্যಾರಂಭের অনুমতিপত্র' পায়নি।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নিবন্ধনপত্র পাওয়ার সাথে সাথেই ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করতে পারে। কিন্তু পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কার্যক্রম শুরু করার পূর্বে ন্যূনতম মূলধন সংগ্রহ, শেয়ার বরাদ্দের চুক্তি এবং পরিচালকদের যোগ্যতা শেয়ার ক্রয় সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করে নিবন্ধকের নিকট থেকে 'কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র' (Certificate of Commencement of Business) সংগ্রহ করতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব কামাল, সবুজ ও সাগর তিন বন্ধু মিলে মোট সাতজন আত্মীয়-স্বজন নিয়ে (৩ + ৭ = মোট ১০ জন সদস্য নিয়ে) 'রংধনু লিমিটেড' গঠন করেন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ৫০ জন হলেও ন্যূনতম দুজন লাগে, কিন্তু ৭ জনের বেশি সদস্য ও নামের শেষে 'লিমিটেড' থাকায় এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে (পাবলিক লিমিটেড গঠনে ন্যূনতম ৭ জন সদস্য প্রয়োজন)।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হওয়ায় রংধনু লিমিটেড কেবল নিবন্ধনপত্র পেয়েই সরাসরি কাজ শুরু করতে পারে না; এর জন্য ন্যূনতম চাঁদা সংগ্রহ ও বিবরণপত্র প্রকাশের শর্তপূরণ সাপেক্ষে কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করা অপরিহার্য। তাই কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ না করাই তাদের কার্যক্রম শুরু করতে না পারার মূল কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও