‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ব্রিটিশ সরকার একটি ঔপনিবেশিক অঞ্চলের শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা নিরসনের জন্য তাদের একজন মন্ত্রীর নেতৃত্বে কতকগুলো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ উক্ত অঞ্চলে প্রেরণ করে।

  1. ক)

    ৩রা জুন পরিকল্পনা কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বি-জাতি তত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রস্তাবনার তিনটি বৈশিষ্ট্য লিখ।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত প্রস্তাব গৃহীত না হওয়ার কারণগুলো ব্যাখ্যা কর ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতবর্ষ বিভাজন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের যে রূপরেখা ঘোষণা করেন, তাকে '৩রা জুন পরিকল্পনা' বা মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ যা ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উপস্থাপন করেন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভারতের হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা কেবল দুটি ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়, বরং তারা কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ইতিহাস ও জীবনধারার দিক থেকে সম্পূর্ণ পৃথক দুটি জাতি; তাই তাদের জন্য পৃথক আবাসভূমি বা স্বাধীন রাষ্ট্র থাকা আবশ্যক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন শাসনতান্ত্রিক অচলাবস্থা নিরসনে ব্রিটিশ মন্ত্রী স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে প্রেরিত 'ক্রিপস মিশন' (১৯৪২)-এর কথা বলা হয়েছে। ক্রিপস মিশনের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
    ১. যুদ্ধের পর ভারতকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অধীনে 'ডোমিনিয়ন' মর্যাদা প্রদান করা হবে এবং এটি স্বাধীনভাবে কমনওয়েলথে থাকার বা না থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
    ২. যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ভারতের সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি নির্বাচিত গণপরিষদ বা সংবিধান রচয়িতা পরিষদ গঠন করা হবে।
    ৩. নতুন সংবিধান কোনো প্রদেশের পছন্দ না হলে সেই প্রদেশ ভারতীয় ইউনিয়ন থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র সংবিধান প্রণয়ন ও নিজস্ব শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে পারবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্রিপস মিশনের প্রস্তাবগুলো ভারতীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রধান রাজনৈতিক দলসমূহ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। এটি গৃহীত না হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:

    ১. পূর্ণ স্বাধীনতার অভাব: ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস অবিলম্বে পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছিল, কিন্তু প্রস্তাবে কেবল অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধের পর ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাস প্রদানের কথা বলা হয়, যা কংগ্রেসের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। মহাত্মা গান্ধী একে "একটি দেউলিয়া ব্যাংকের ওপর ভবিষ্যতের তারিখের চেক" (Post-dated cheque on a crashing bank) বলে অভিহিত করেন।
    ২. পাকিস্তানের দাবি উপেক্ষা: মুসলিম লীগ তাদের পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র 'পাকিস্তান'-এর সুস্পষ্ট দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু ক্রিপস প্রস্তাবে স্পষ্টভাবে পাকিস্তান সৃষ্টির কোনো উল্লেখ না থাকায় মুসলিম লীগ এটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।
    ৩. প্রদেশের বিচ্ছিন্নতার সুযোগ: প্রস্তাবে প্রদেশগুলোকে ভারত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল, যা ভারতের অখণ্ডতা ও ঐক্যের পরিপন্থী বলে কংগ্রেস তা মেনে নেয়নি।
    ৪. প্রতিরক্ষার ওপর ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ: যুদ্ধ চলাকালীন ভারতের প্রতিরক্ষার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্রিটিশ সরকারের হাতে রাখার প্রস্তাব করা হয়, যার সাথে ভারতীয় নেতাদের মতপার্থক্য ছিল।

    এসব মৌলিক মতপার্থক্যের কারণেই ক্রিপস প্রস্তাবনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং গৃহীত হয়নি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন