অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদানের কাঠামোগত পরিবর্তন নিম্নরূপ :বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২ অনুযায়ী বাংলাদেশ ধান ও চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থান থেকে তৃতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে।

- ক)(1)
কৃষি পণ্য বিপণন বলতে কী বোঝ?
- খ)(2)
কৃষি ক্ষেত্রে আইসিটি কিভাবে ব্যবহৃত হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের টেবিলে প্রদত্ত কৃষি খাতের অবদানের কাঠামোগত পরিবর্তন লেখচিত্রে প্রদর্শন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের তৃতীয় স্থান অর্জনে কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের কোন গুরুত্ব আছে কি? তোমার মতামত ব্যক্ত কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদক বা কৃষকের নিকট থেকে কৃষিপণ্য বিভিন্ন পর্যায় বা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চূড়ান্ত ভোক্তা বা ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছানোর সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে কৃষি পণ্য বিপণন বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) ব্যবহারের ফলে কৃষিকাজ আধুনিক ও সহজতর হয়েছে। কৃষকরা মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন কৃষি অ্যাপসের মাধ্যমে ফসলের রোগবালাই দমন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সারের সঠিক মাত্রা এবং পণ্যের বর্তমান বাজারদর সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারেন। এছাড়াও কৃষি কল সেন্টার (১৬১২৩), ই-কৃষি সেবা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বিশেষজ্ঞ পরামর্শ ও পণ্য বেচাকেনা করা সম্ভব হচ্ছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের টেবিলে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদানের কাঠামোগত পরিবর্তন (শতকরা হার) রেখাচিত্রের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হলো:
অঙ্কন প্রণালি:
১. একটি লেখচিত্রের ভূমি অক্ষ বা -অক্ষে 'অর্থবছর' (১৯৮০-৮১, ১৯৯৫-৯৬, ২০০৫-০৬, ২০২০-২১) এবং লম্ব অক্ষ বা -অক্ষে 'জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদানের শতকরা হার (%)' নির্ধারণ করি।
২. লম্ব অক্ষে সুবিধাজনক স্কেলে ০ থেকে ৩৫ পর্যন্ত মান গ্রহণ করি।
৩. ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে অবদানের হার ৩৩.০৭% বরাবর বিন্দু চিহ্নিত করি। একইভাবে ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে ২৫.৬৮%, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ১৯.০১% এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ১২.০৭% বরাবর বিন্দুগুলো চিহ্নিত করি।
৪. চিহ্নিত বিন্দুগুলো ক্রমান্বয়ে সরলরেখা দ্বারা যুক্ত করলে একটি নিম্নগামী রেখা পাওয়া যায়।ব্যাখ্যা:
অঙ্কিত লেখচিত্রটি বাম থেকে ডানে নিম্নগামী। এটি নির্দেশ করে যে, সময়ের সাথে সাথে বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষি খাতের শতকরা অবদান ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে যা ছিল ৩৩.০৭%, তা ধারাবাহিকভাবে কমে ২০২০-২১ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১২.০৭%-এ। শিল্প ও সেবা খাতের দ্রুত বিকাশের ফলে এই কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটেছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ ধান ও চাল উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থান থেকে তৃতীয় অবস্থানে উন্নীত হওয়ার পেছনে কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
নিম্নে আমার মতামতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলো:
১. উচ্চফলনশীল (HYV) ও হাইব্রিড জাতের উদ্ভাবন: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) এবং পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ধানের বহু আধুনিক জাত উদ্ভাবন করেছে (যেমন- ব্রি ধান, বিনা ধান)। ফলে প্রতিকূল পরিবেশেও ফলন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২. আধুনিক চাষাবাদ ও যান্ত্রিকীকরণ: সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক সেচযন্ত্র, পাওয়ার টিলার, কম্বাইন হারভেস্টার এবং ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে অপচয় কমেছে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
৩. সার ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা: সুষম সার প্রয়োগ প্রযুক্তি (যেমন- গুটি ইউরিয়া, এলসিসি প্রযুক্তি) এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ফসল রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
৪. সীমাবদ্ধ জমিতে অধিক ফলন: দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কৃষিজমি ক্রমাগত হ্রাস পেলেও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নিবিড় চাষাবাদের ফলে একক প্রতি ফলন বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।অতএব, সীমিত কৃষিজমি সত্ত্বেও ধান ও চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় অবস্থানে পৌঁছানোর এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হলো কৃষি প্রযুক্তির কার্যকর উদ্ভাবন ও তার মাঠপর্যায়ে সফল প্রয়োগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও