‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    তিতুমীরের প্রকৃত নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে তোমার পঠিত কোন রাজনৈতিক ব্যস্তিত্ব প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভূমিকা ব্রিটিশ ভারতের প্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    তিতুমীরের প্রকৃত নাম সৈয়দ মীর নিসার আলী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৮৬৩ সালে নওয়াব আব্দুল লতিফ কর্তৃক 'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' (মুসলিম সাহিত্য সমিতি) প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও আধুনিক জ্ঞানের প্রসার ঘটানো। এর মাধ্যমে মুসলমানদের ইংরেজি শিক্ষার প্রতি অনুরাগী করে তোলা, ব্রিটিশ সরকারের সাথে মুসলমানদের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো এবং মুসলিম সমাজের সামাজিক ও বৌদ্ধিক পশ্চাৎপদতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আমার পঠিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর প্রতিফলন ঘটেছে।

    উদ্দীপকের ছকে এমন একজন রাজনীতিবিদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে যিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের প্রস্তাবক ছিলেন, বঙ্গভঙ্গের সমর্থক ছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

    ইতিহাস ও পৌরনীতির আলোকে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করার পেছনে ঢাকার নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর সমর্থন ও অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশনে তিনিই মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে 'সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ' গঠনের ঐতিহাসিক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এছাড়া ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর পূর্ব বাংলার মুসলিম সমাজের উচ্চশিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানান, যার ফলেই নাথান কমিশনের সুপারিশে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। অতএব, উদ্দীপকের তিনটি বৈশিষ্ট্যই নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর ভূমিকা ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি ও মুসলিম সমাজের নবজাগরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী ছিল। নিচে তাঁর ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. বঙ্গভঙ্গ ও পূর্ব বাংলার উন্নয়ন: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে নওয়াব সলিমুল্লাহ নেতৃত্ব দেন। তৎকালীন পিছিয়ে পড়া পূর্ব বাংলা ও আসামের জনগণের অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি বঙ্গভঙ্গের জোরালো পক্ষে ছিলেন।

    ২. নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা: ১৯০৬ সালে ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তাঁর প্রস্তাবেই উপমহাদেশের মুসলিমদের রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি পরবর্তীকালে ভারতীয় মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্যবোধ এবং পাকিস্তান আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

    ৩. শিক্ষা বিস্তার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা: তিনি বুঝতে পেরেছিলেন শিক্ষার আলো ছাড়া মুসলমানরা আত্মমর্যাদা অর্জন করতে পারবে না। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়ে গেলে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এ অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার বাতিঘর হয়ে ওঠে।

    ৪. সমাজকল্যাণ ও রাজনৈতিক মধ্যস্থতা: তিনি পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের দাবি-দাওয়া ব্রিটিশ শাসকদের নিকট তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, ব্রিটিশ ভারতের ক্রান্তিলগ্নে পূর্ব বাংলার পশ্চাৎপদ মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার সংরক্ষণ, শিক্ষা বিস্তার এবং রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টিতে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর অবদান ছিল অনস্বীকার্য ও চিরস্মরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন