রসায়ন ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন

বিশ্লেষণি রসায়নে ক'টি পদ্ধতি রয়েছে যেমন-(i) মাইক্রো পদ্ধতি;(ii) সেমি মাইক্রো পদ্ধতি;(iii) টাইট্রেশন পদ্ধতি

  1. ক)

    ক্ষয়কারী পদার্থের সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    কাচের যন্ত্রপাতি পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সতর্কতাগুলো লেখো।

    (2)
  3. গ)

    (iii) নং পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    (i) ও (ii) নং পদ্ধতি দুটির সুবিধা ও অসুবিধাগুলোর তুলনামূলক আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পদার্থ জীবন্ত টিস্যু বা পদার্থের সংস্পর্শে এলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সেগুলোর মারাত্মক ক্ষতিসাধন বা ধ্বংস করে (যেমন- ত্বক পুড়িয়ে ফেলা বা ধাতুকে ক্ষয় করা), সেগুলোকে ক্ষয়কারী পদার্থ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কাচের যন্ত্রপাতি পরিষ্কারের ক্ষেত্রে সতর্কতাগুলো হলো:
    ১. ব্যবহারের পূর্বে কাচের পাত্রে কোনো ফাটল বা ভাঙা অংশ আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিতে হবে, যাতে পরিষ্কার করার সময় কেটে না যায়।
    ২. তীব্র এসিড যেমন ক্রোমিক এসিড মিশ্রণ (K2Cr2O7 + গাঢ় H2SO4) ব্যবহারের সময় হাতে অ্যাপ্রোন, নিরাপত্তা চশমা ও উপযুক্ত গ্লাভস পরিধান করতে হবে যেন তা ত্বকে না লাগে।
    ৩. পরিষ্কারক দ্রবণ ব্যবহারের পর পাত্রটি প্রচুর পরিমাণ ট্যাপের পানি এবং সবশেষে পাতিত পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
    ৪. খুব বেশি বল প্রয়োগ করে ঘষাঘষি করা যাবে না, এতে কাচ ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের (iii) নং পদ্ধতিটি হলো 'টাইট্রেশন পদ্ধতি'।

    টাইট্রেশন হলো একটি পরিমাণগত রাসায়নিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি, যার সাহায্যে উপযুক্ত নির্দেশকের উপস্থিতিতে জানা ঘনমাত্রার প্রমাণ দ্রবণের নির্দিষ্ট আয়তনের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে একটি অজানা দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে নির্ণয় করা হয়।

    কার্যপ্রণালী ও বৈশিষ্ট্য:
    ১. এই পদ্ধতিতে একটি বুরেটে প্রমাণ দ্রবণ (যার ঘনমাত্রা জানা) এবং কনিকেল ফ্লাস্কে নির্দিষ্ট আয়তনের পরিমাপকৃত অজানা দ্রবণ (পিপেটের সাহায্যে মেপে) নেওয়া হয়।
    ২. কনিকেল ফ্লাস্কে কয়েক ফোঁটা নির্দেশক যোগ করা হয়। বুরেট থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় প্রমাণ দ্রবণ কনিকেল ফ্লাস্কে যোগ করে সমতা বিন্দু বা শেষ বিন্দু (End point) শনাক্ত করা হয়, যা সাধারণত নির্দেশকের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।
    ৩. প্রশমন সমীকরণ V1S1 = V2S2 বা মোল অনুপাত সম্পর্ক ব্যবহার করে অজানা দ্রবণের ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। এসিড-ক্ষার টাইট্রেশন, জারণ-বিজারণ টাইট্রেশন এবং জটিলতামিতি টাইট্রেশন এর অন্যতম প্রধান উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের (i) নং পদ্ধতি হলো মাইক্রো পদ্ধতি এবং (ii) নং পদ্ধতি হলো সেমি-মাইক্রো পদ্ধতি। এদের সুবিধা ও অসুবিধার তুলনামূলক আলোচনা নিচে দেওয়া হলো:

    ১. নমুনার পরিমাণ:

    • সুবিধা: মাইক্রো পদ্ধতিতে অতি সামান্য পরিমাণ (সাধারণত ৫-২০ মিলিগ্রাম কঠিন বা ০.১-১ মিলি তরল) এবং সেমি-মাইক্রো পদ্ধতিতে স্বল্প পরিমাণ (৫০-১০০ মিলিগ্রাম কঠিন বা ১-২ মিলি তরল) নমুনা প্রয়োজন হয়। ফলে মাইক্রো পদ্ধতিতে রাসায়নিক দ্রব্যের অপচয় সেমি-মাইক্রোর চেয়েও কম হয়।
    • অসুবিধা: মাইক্রো পদ্ধতিতে নমুনার পরিমাণ অত্যন্ত কম হওয়ায় পরিমাপে সামান্য ভুলের কারণে বড় ধরনের ত্রুটি হতে পারে, যা সেমি-মাইক্রো পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ঝুঁকিপূর্ণ।

    ২. সময় ও ব্যয়:

    • সুবিধা: উভয় পদ্ধতিতেই অল্প পরিমাণ বিকারক লাগায় খরচ কম হয় এবং বিক্রিয়া অতি দ্রুত সম্পন্ন হয়। তবে মাইক্রো পদ্ধতি সেমি-মাইক্রোর চেয়েও বেশি সাশ্রয়ী।

    ৩. যন্ত্রপাতি ও দক্ষতা:

    • অসুবিধা: মাইক্রো বিশ্লেষণে বিশেষ ধরনের সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি (যেমন ক্যাপিলারি টিউব, মাইক্রো সেন্ট্রিফিউজ) প্রয়োজন হয় এবং উচ্চমাত্রার দক্ষতার প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ পরীক্ষাগারে সহজলভ্য নয়। পক্ষান্তরে, সেমি-মাইক্রো পদ্ধতিতে সেন্ট্রিফিউজ টিউব, ড্রপার ইত্যাদি সহজলভ্য যন্ত্রপাতি দিয়েই কাজ করা যায় এবং তুলনামূলক কম দক্ষতায় সম্পন্ন করা যায়।

    ৪. পরিবেশ ও নিরাপত্তা:

    • সুবিধা: মাইক্রো পদ্ধতিতে বিষাক্ত গ্যাস (যেমন H2S) ও রাসায়নিক বর্জ্য ন্যূনতম পরিমাণে নির্গত হয়, ফলে এটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। সেমি-মাইক্রো পদ্ধতি ম্যাক্রো পদ্ধতির চেয়ে অনেক নিরাপদ হলেও মাইক্রো পদ্ধতির চেয়ে কিছুটা বেশি বর্জ্য তৈরি করে।

    সার্বিকভাবে, সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে সহজে পরিচালনা, কম খরচ ও নিরাপত্তার ভারসাম্য বিবেচনায় সেমি-মাইক্রো পদ্ধতিটি বেশি সুবিধাজনক ও বহুল ব্যবহৃত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন