পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
অধ্যাপক জাহানার হক শ্রেণিকক্ষে ভারতীয় উপমহাদেশের অগ্রগতির ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন যে, ব্রিটিশ ভারতের তৎকালীন শাসকগণ বহু আইন প্রণয়ন করেন। কিন্তু এই আইনগুলো উপমহাদেশের জনগণকে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট করতে পারিনি। তা সত্ত্বেও এ আইনগুলোর মধ্যে সর্বশেষ আইনটি ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ ও জনগণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত।
- ক)(1)
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গর্ভনর জেনারেল কে ছিলেন?
- খ)(2)
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে তোমার পঠিত কোন আইনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে অধ্যাপক জাহানারা হকের বর্ণিত আইনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের দুটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
১. নিখিল ভারত যুক্তরাষ্ট্র গঠন: ব্রিটিশ ভারতীয় প্রদেশসমূহ এবং দেশীয় রাজ্যগুলোর সমন্বয়ে একটি যুক্তরাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করা হয়।
২. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন: প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে আমার পঠিত ১৯৪৭ সালের 'ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর সাদৃশ্য রয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয়দের রাজনৈতিক দাবি পূরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু আইন (যেমন- ১৯০৯, ১৯১৯ এবং ১৯৩৫ সালের আইন) প্রণীত হলেও তা জনগণের পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেনি। অবশেষে দীর্ঘ আন্দোলনের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সর্বশেষ যে আইন প্রণয়ন করে তা হলো ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ আইনটি ছিল উপমহাদেশের রাজনীতিবিদ ও জনগণের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত। এই আইনের ফলেই ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা এবং দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি ঘটে। সুতরাং উদ্দীপকে উল্লিখিত আইনটি ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অধ্যাপক জাহানারা হকের বর্ণিত ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের তাৎপর্য ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সুদূরপ্রসারী ও অপরিসীম।
প্রথমত, এই আইনের মাধ্যমেই উপমহাদেশে প্রায় দুইশত বছরের দীর্ঘ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটে। ভারতীয় জনগণের স্বাধিকার ও স্বাধীনতার দীর্ঘদিনের সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় সূচিত হয় এই আইনের দ্বারা।
দ্বিতীয়ত, আইনটি ভারতীয় উপমহাদেশকে বিভক্ত করে 'ভারত' ও 'পাকিস্তান' নামে দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম ডোমিনিয়ন সৃষ্টি করে। এর ফলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ভারত রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যা উপমহাদেশের মানচিত্রকে আমূল বদলে দেয়।
তৃতীয়ত, এই আইনের মাধ্যমে দেশীয় রাজ্যগুলোর ওপর ব্রিটিশদের সার্বভৌমত্বের অবসান ঘটে এবং সংবিধান প্রণয়নের জন্য উভয় রাষ্ট্রকে পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়। তবে দেশ বিভাগের সাথে সাথে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং শরণার্থী সংকটও এই আইনের একটি মর্মান্তিক দিক ছিল। সার্বিকভাবে, এটি ছিল উপমহাদেশের পরাধীনতার অবসান ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও