ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. রিপন সাতক্ষীরা শহরের একটি ব্যাংক থেকে একই শহরের একজন প্রাপকের উদ্দেশ্যে নিশ্চিত অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা চেয়ে একটা দলিল চাইলে ব্যাংক তাকে এমন একটি দলিল ইস্যু করে যার দুটি পক্ষ একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক অপরটি প্রাপক। দলিলটি হস্তান্তর অযোগ্য এবং এর কমিশনও তুলনামূলক কম। অন্যদিকে জনাব আব্বাস সাতক্ষীরা থেকে খুলনা শহরে নিরাপদ অর্থ হস্তান্তরের পরামর্শ চাইলে তার ব্যাংক তাকে একটি দলিল ইস্যু করে যার পক্ষ তিনটি। একটি প্রস্তুতকারী ব্যাংক, দ্বিতীয়টি প্রাপক এবং অপরটি আদিষ্ট ব্যাংক। দলিলটি হস্তান্তরযোগ্য এবং এর কমিশন তুলনামূলক বেশি।
- ক)(1)
হস্তান্তরযোগ্য দলিল কী?
- খ)(2)
বিনিময় বিল বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে মি. রিপনের ব্যাংক কোন ধরনের দলিল ইস্যু করে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে জনাব আব্বাসের অধিক ব্যয় সংবলিত দলিল ব্যবহার করার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে দলিল সহজ হস্তান্তরের মাধ্যমে স্বত্ব বদল করা যায় এবং দলিলের বাহক বা গ্রহীতা সরল বিশ্বাসে ও প্রতিদানের বিনিময়ে ত্রুটিমুক্ত মালিকানা লাভ করে, তাকে হস্তান্তরযোগ্য দলিল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিনিময় বিল হলো প্রস্তুতকারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত একটি শর্তহীন লিখিত আদেশনামা, যার মাধ্যমে প্রস্তুতকারক কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দেশ দেয় যাতে সে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে বা তার আদেশানুসারে বা দলিলের বাহককে চাহিবামাত্র অথবা নির্দিষ্ট কোনো ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করে।
বিনিময় বিলে প্রধানত তিনটি পক্ষ থাকে—আদেশক, আদিষ্ট এবং প্রাপক। এটি দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মি. রিপনের ব্যাংক যে দলিলটি ইস্যু করেছে, সেটি হলো 'পে-অর্ডার' (Pay Order) বা ব্যাংকার্স অর্ডার।
পে-অর্ডার হলো ব্যাংক কর্তৃক একই শহরের নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য ইস্যুকৃত একটি নিশ্চিত অর্থ প্রদানের আদেশপত্র। এতে পক্ষ দুটি থাকে—প্রস্তুতকারী ব্যাংক শাখা এবং প্রাপক। এটি সাধারণত হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং এর কমিশন ব্যাংক ড্রাফটের তুলনায় কম হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. রিপন একই শহরের একজন প্রাপককে নিশ্চিত অর্থ প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে দলিল চান। ব্যাংক যে দলিলটি ইস্যু করে তার পক্ষ দুটি (প্রস্তুতকারী ব্যাংক ও প্রাপক), এটি হস্তান্তর অযোগ্য এবং এর কমিশনও তুলনামূলক কম। এই বৈশিষ্ট্যগুলো পে-অর্ডারের সাথে মিলে যায়। সুতরাং, ব্যাংকটি পে-অর্ডার ইস্যু করেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব আব্বাসের অধিক ব্যয় সংবলিত দলিল তথা 'ব্যাংক ড্রাফট' ব্যবহার করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক।
এক স্থান থেকে অন্য দূরবর্তী স্থানে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে অর্থ প্রেরণের জন্য ব্যাংক ড্রাফট ব্যবহৃত হয়। ব্যাংক ড্রাফট হলো ব্যাংকের এক শাখা কর্তৃক অন্য কোনো শাখার ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রাপককে পরিশোধের জন্য প্রদত্ত শর্তহীন লিখিত নির্দেশ। এতে প্রস্তুতকারী শাখা, আদিষ্ট শাখা এবং প্রাপক—এই তিনটি পক্ষ থাকে এবং এটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল।
উদ্দীপকে জনাব আব্বাস সাতক্ষীরা থেকে খুলনা শহরে অর্থ স্থানান্তর করতে চেয়েছেন, যা আন্তঃনগর বা দূরবর্তী শহর। পে-অর্ডার কেবল একই ক্লিয়ারিং এলাকার (একই শহরের) ব্যাংকের মধ্যে পরিশোধযোগ্য হওয়ায় তা খুলনা শহরে কার্যকর হতো না। ব্যাংক আব্বাস সাহেবকে যে দলিলটি দেয়, তাতে তিনটি পক্ষ রয়েছে, এটি হস্তান্তরযোগ্য এবং এর কমিশন পে-অর্ডারের তুলনায় বেশি। এটি নির্দেশ করে দলিলটি একটি ব্যাংক ড্রাফট।
ভিন্ন শহরে নিরাপদভাবে নিশ্চিত অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে পে-অর্ডার প্রযোজ্য নয়, ব্যাংক ড্রাফটই একমাত্র কার্যকর মাধ্যম। তাই কমিশন বাবদ কিছুটা বেশি ব্যয় হলেও আন্তঃনগর লেনদেনে ঝুঁকিহীন ও নিশ্চিত অর্থ স্থানান্তরের স্বার্থে ব্যাংক ড্রাফট ব্যবহার করাই জনাব আব্বাসের জন্য যুক্তিসংগত ছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও