সাহিত্য পাঠ • বিদ্রোহী • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃমহাবিপ্লব হেতু এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু। সাত সাতশ নরকজ্বালা জ্বলে মম ললাটে। মম ধূম কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে। আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি পাপের অনুতাপ-তাপ হাহাকার আর মর্ত্যে সাহারা-গোবি ছাপ আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ।

  1. ক)

    অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম কী ছিল?

    (1)
  2. খ)

    'কবি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধর।

    (3)
  4. ঘ)

    "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত।" কথাটির মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    অর্ফিয়াসের ভালোবাসার পাত্রীর নাম ছিল ইউরিডিসি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রচলিত অন্যায়, শোষণ, পরাধীনতা ও জীর্ণ বিধিবিধানকে গুঁড়িয়ে দিয়ে নতুন এক শোষণমুক্ত মানবিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কবি নিজেকে 'অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল' বলেছেন। কবি কোনো অন্যায্য ও মানবতাবিরোধী নিয়ম-কানুন মানেন না; অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে ভেঙেচুরে সব সমভূমি করতে চান বলেই তিনি স্বেচ্ছায় এমন বিধ্বংসী ও উচ্ছৃঙ্খল রূপ ধারণ করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ভাববস্তু এবং কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতার মধ্যে যুগান্তকারী মহাবিপ্লব ও বিধ্বংসী শক্তির তীব্র সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
    'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি আত্মপ্রকাশ করেছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরবিদ্রোহী, প্রলয়ঙ্কর ও রুদ্ররূপে। তিনি একদিকে যেমন সুন্দরের পূজারি, অন্যদিকে উৎপীড়কের জন্য ধূমকেতু ও মহাকালের ধ্বংসনট। উদ্দীপকেও বক্তা মহাবিপ্লব ঘটানোর নিমিত্তে নিজেকে স্রষ্টার শনি, মহাকাল ধূমকেতু এবং নরকজ্বালার ধারক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
    উভয় স্থানেই প্রাচীন অন্যায়-অসত্যকে পুড়িয়ে ভস্মীভূত করার এবং পরিবর্তনের আগুন জ্বালানোর এক অদম্য দ্রোহভাব প্রকাশিত হয়েছে। তাই ধ্বংস ও বিপ্লবের মূর্ত প্রতীক রূপায়ণে উদ্দীপকটির সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "উদ্দীপকের মতো 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও দ্রোহের স্বাক্ষর নিহিত"—উক্তিটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
    উদ্দীপকের চরণগুলোতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সর্বনাশা, প্রলয়ংকরী দ্রোহের আগুন দৃশ্যমান। সেখানে বক্তা নিজেকে স্রষ্টার বুকে সৃষ্টির পাপের অনুতাপ ও অশিব অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচলিত পাপ ও অন্যায়ের মূল উৎপাটনে মহাবিপ্লবের ডাক দিয়েছেন।
    অনুরূপভাবে কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবির কণ্ঠ থেকেও উৎসারিত হয়েছে তৎকালীন ঔপনিবেশিক শাসন, সামাজিক বৈষম্য, শোষণ এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে অনমনীয় বিদ্রোহের সুর। কবি বজ্রের মতো কঠোর ও ঝড়ের মতো উন্মাতাল হয়ে অন্যায়ের রাজত্ব চূর্ণবিচূর্ণ করতে চেয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হবে, ততক্ষণ কবি শান্ত হবেন না—এমন প্রত্যয় ঘোষণার মাধ্যমে কবির দ্রোহ চরম রূপ লাভ করে।
    সুতরাং, উদ্দীপক ও 'বিদ্রোহী' কবিতা উভয়েই বিদ্যমান অসত্য, অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীন দ্রোহের ধারক হওয়ায় উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন