অর্থনীতি ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

আমিনুর সাহেব পনেরো বছর পর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। নিজ গ্রামে এসে দেখেন যে আগের থেকে গ্রামে অনেক জনসংখ্যা বেড়ে গেছে।যুবক ছেলে মেয়েরা লেখাপড়া না করে অলস সময় পার করছে। শিক্ষিত অনেক যুবক বেকার বসে আছে। আর গ্রামের মেয়েদের চৌদ্দ-পনেরো বছর বয়সেই বিয়ে দিচ্ছে অভিভাবকরা। তিনি যুবকদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন এবং বছর খানেক পরেই গ্রামের চিত্র পরিবর্তন হয়ে গেল। এখন গ্রামে ১কেউই বেকার বসে নেই এবং একই সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে গেছে।

  1. ক)

    কাম্য জনসংখ্যা কী?

    (1)
  2. খ)

    মৃত্যু হার বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে আমিনুর সাহেব কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ কীভাবে গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামে অধিক জনসংখ্যা বর্তমানে আশীর্বাদ না অভিশাপ? এ বিষয়ে মন্তব্য করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও অন্যান্য উৎপাদনের উপাদানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে যে পরিমাণ জনসংখ্যা থাকলে মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চ হয়, তাকে কাম্য জনসংখ্যা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো নির্দিষ্ট বছরে প্রতি এক হাজার জনসংখ্যার মধ্যে যতজন লোক মৃত্যুবরণ করে, তাকে মৃত্যুহার বা স্থূল মৃত্যুহার বলে।
    সাধারণত মৃত্যুহার নির্ণয়ের সূত্রটি হলো:
    স্থূল মৃত্যুহার (CDR) = (কোনো নির্দিষ্ট বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা / উক্ত বছরের মাঝামাঝি মোট জনসংখ্যা) × ১,০০০।
    উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, জীবনযাত্রার মান এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মৃত্যুহার হ্রাস পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আমিনুর সাহেব কর্তৃক যুবকদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পদক্ষেপ পরোক্ষভাবে গ্রামের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

    অর্থনৈতিক দিক থেকে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার বিস্তার মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করে। উদ্দীপকে দেখা যায়, যুবক-যুবতীরা অলস সময় কাটাত এবং মেয়েদের অল্প বয়সে (১৪-১৫ বছর) বিয়ে দেওয়া হতো, যা উচ্চ জন্মহারের একটি বড় কারণ ছিল। কিন্তু আমিনুর সাহেব যুবকদের বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ায় তারা দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয় এবং উৎপাদনশীল কাজে নিযুক্ত হয়।

    কর্মসংস্থান সৃষ্টির ফলে যুবসমাজ স্বাবলম্বী হয় এবং তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে আধুনিকতা আসে। মেয়েরা ও যুবকেরা কাজে যুক্ত হওয়ায় বাল্যবিয়ে রোধ হয় এবং তাদের মধ্যে ছোট পরিবারের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে বছর খানেকের মধ্যে গ্রামে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামে অধিক জনসংখ্যা বর্তমানে ‘অভিশাপ’ নয়, বরং ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। নিম্নে এর সপক্ষে মতামত বিশ্লেষণ করা হলো:

    অতিরিক্ত জনসংখ্যা তখনই কোনো সমাজের জন্য অভিশাপ হয়, যখন তা অদক্ষ, নিরক্ষর এবং বেকার অবস্থায় থাকে। উদ্দীপকের শুরুতে দেখা যায়, গ্রামের যুবক ছেলেমেয়েরা অলস সময় কাটাচ্ছিল এবং শিক্ষিত যুবকেরা বেকার ছিল। এই অদক্ষ ও অলস জনসংখ্যা সমাজের জন্য একটি বড় বোঝা বা অভিশাপ স্বরূপ ছিল, কারণ তারা কেবল ভোগ করছিল কিন্তু উৎপাদনে অবদান রাখছিল না।

    কিন্তু আমিনুর সাহেবের সময়োপযোগী উদ্যোগে তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়। ফলে তারা দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয় এবং আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে—"এখন গ্রামে কেউই বেকার বসে নেই এবং একই সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারও কমে গেছে।"

    অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যখন বিপুল জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করা যায়, তখন তা জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের ফলে উদ্দীপকের গ্রামের জনসংখ্যা এখন আর কোনো বোঝা নয়, বরং উৎপাদনশীল 'আশীর্বাদ'।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন