‍ইতিহাস ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত জার্মানিকে দু'ভাগে ভাগ করে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি করা হয়। পূর্ব জার্মানিতে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শের সরকার এবং পশ্চিম জার্মানিতে পুঁজিবাদের মতাদর্শের সরকার গঠিত হয়। ১৯৮৯ সালে সমাজতান্ত্রিক মতবাদের পতন হলে আবার দুই জার্মানিকে একত্রিত করা হয়।

  1. ক)

    মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    খিলাফত আন্দোলন কী?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন ঘটনার সাদৃশ্য আছে- ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'Divide and Rule' ব্রিটিশ, শাসকদের কৌশল- পাঠ্যবইয়ের নিরিখে এর যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মহাত্মা গান্ধীর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্কের পরাজয়ের পর ব্রিটিশ সরকার অটোমান সাম্রাজ্য ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় এবং খলিফার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে চায়। বিশ্ব মুসলিমের ধর্মীয় নেতা হিসেবে তুরস্কের সুলতান বা খলিফার মর্যাদা ও অটোমান সাম্রাজ্যের অখণ্ডতা রক্ষার দাবিতে ১৯১৯-১৯২৪ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানরা যে গণআন্দোলন গড়ে তোলে, তা খিলাফত আন্দোলন নামে পরিচিত। মাওলানা মুহাম্মদ আলী ও মাওলানা শওকত আলী এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের জার্মানি ভাগের ঘটনার সাথে পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত ১৯০৫ সালের 'বঙ্গভঙ্গ' এবং ১৯৪৭ সালের 'ভারত বিভাগ'-এর সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায় (মূলত ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং ব্রিটিশদের বিভাজন নীতির সাথে)।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রাজনৈতিক ও মতাদর্শিক কারণে জার্মানিকে দু'ভাগে ভাগ করে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি করা হয় এবং পরবর্তীকালে ১৯৮৯ সালে তা একত্রিত হয়। একইভাবে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৫ সালে প্রশাসনিক সুবিধার অজুহাত দিলেও মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদ দমন এবং হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে ফাটল ধরাতে বাংলাকে বিভক্ত করে 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' এবং 'পশ্চিমবঙ্গ' নামে দুটি পৃথক প্রদেশ গঠন করেছিল। আবার পরবর্তীকালে তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করে দুই বাংলাকে পুনরায় একত্রিত করা হয়, যা উদ্দীপকের বিভাজন ও পুনঃএকত্রীকরণের সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Divide and Rule' (ভাগ কর এবং শাসন কর) নীতি ছিল ব্রিটিশদের ভারত শাসনের প্রধান রাজনৈতিক কৌশল—উক্তিটি সর্বাংশে সত্য।

    ব্রিটিশরা ভারতে তাদের প্রায় দুশো বছরের শাসন টিকিয়ে রাখার জন্য ভারতীয় সমাজের ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক ও আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে কাজে লাগায়। তারা কখনোই হিন্দু ও মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে দিতে চায়নি, কারণ তাদের ঐক্য ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিতে পারত।

    ১. বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫): জাতীয়তাবাদী আন্দোলন দুর্বল করতে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বাংলাকে ভাগ করেন। এর মাধ্যমে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা হয়।
    ২. পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা: ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইনের মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য পৃথক নির্বাচনের ব্যবস্থা করে ব্রিটিশরা সাংবিধানিকভাবেই হিন্দু ও মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থকে বিভক্ত করে দেয়।
    ৩. সাম্প্রদায়িকতার বিকাশ ও ১৯৪৭-এর বিভাজন: ব্রিটিশদের এই বিভাজননীতির ফলেই দীর্ঘমেয়াদে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বৃদ্ধি পায়। তারই চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

    পরিশেষে বলা যায়, ব্রিটিশরা ভারতীয়দের ঐক্য ভেঙে পারস্পরিক বিরোধ ও বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে নিজেদের শাসন দীর্ঘায়িত করেছিল। সুতরাং, 'Divide and Rule' নীতিই ছিল ব্রিটিশদের ভারত শাসনের মূল চালিকাশক্তি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন