জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের এক ধরনের উদ্ভিদ, যার কোরালয়েড মূল আছে এবং পাযফার্ন নামে পরিচিত। অন্য আরেকটি উদ্ভিদ যার পরাগধানী এক প্রোকোষ্ঠী ও বৃক্কাকার ।
- ক)(1)
লডিকিউল কী?
- খ)(2)
পুষ্প প্রতীক বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটির পুংজননাঙ্গের গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত উদ্ভিদগোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
লডিকিউল (Lodicules) হলো Poaceae (ঘাস) গোত্রের উদ্ভিদের পুষ্পে বিদ্যমান অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও শল্কসদৃশ রূপান্তরিত পেরিয়ান্থ বা পুষ্পপুট।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে প্রতীকের সাহায্যে কোনো পুষ্পের বিভিন্ন স্তবক, স্তবকের সদস্য সংখ্যা, তাদের বিন্যাস, মাতৃঅক্ষের সাপেক্ষে অবস্থান, পুষ্পপত্রবিন্যাস (এস্টিভেশন), সংযোগ প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য একটি নির্দিষ্ট নকশার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রদর্শন করা হয়, তাকে পুষ্প প্রতীক (Floral Diagram) বলে। পুষ্প প্রতীকের মাধ্যমে ফুলটির মাতৃঅক্ষ, বৃতি, দল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবকের আপেক্ষিক অবস্থান স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটি হলো নগ্নবীজী উদ্ভিদ সাইকাস (Cycas)। নিচে সাইকাসের পুংজননাঙ্গের গঠন বর্ণনা করা হলো:
১. পুংরেণু বা স্ট্রোবিলাস (Male Strobilus/Cone): পরিণত সাইকাস উদ্ভিদের শীর্ষে অসংখ্য পুংরেণুপত্র বা মাইক্রোস্পোরোফিল (Microsporophyll) ঘন ও সর্পিলভাবে সজ্জিত হয়ে একটি সংহত ও শক্ত মোচাকৃতির পুংস্ট্রোবিলাস গঠন করে।
২. মাইক্রোস্পোরোফিল (Microsporophyll): প্রতিটি মাইক্রোস্পোরোফিল দেখতে কাষ্ঠল, ত্রিকোণাকার এবং এর গোড়ার অংশ সরু ও শীর্ষভাগ প্রশস্ত এবং কিছুটা বাঁকানো (যাকে অ্যাপোফাইসিস বলে)।
৩. সোরাস ও স্পোরাঞ্জিয়া: মাইক্রোস্পোরোফিলের নিচের (অ্যাবঅ্যাক্সিয়াল) তলে বহু স্পোরাঞ্জিয়া (Sporangia) উৎপন্ন হয়। ২-৫টি স্পোরাঞ্জিয়া একত্রিত হয়ে একটি দল বা 'সোরাস' (Sorus) গঠন করে।
৪. পরাগরেণু বা মাইক্রোস্পোর: স্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরে স্পোর মাতৃকোষ মায়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড মাইক্রোস্পোর বা পরাগরেণু উৎপন্ন করে। এই পরাগরেণুগুলোই পরবর্তীতে পুং গ্যামেটোফাইট গঠন করে এবং সাইকাসের জননে অংশ নেয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম উদ্ভিদটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ (Gymnosperm - Cycas) এবং দ্বিতীয় উদ্ভিদটি আবৃতবীজী উদ্ভিদ (Angiosperm - Malvaceae গোত্রভুক্ত)। নিচে এই দুই উদ্ভিদগোষ্ঠীর মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হলো:
১. গর্ভাশয় ও বীজ গঠন: নগ্নবীজী উদ্ভিদের ফুলে গর্ভাশয় অনুপস্থিত, ফলে মেগাস্পোরোফিলের কিনারায় ডিম্বকগুলো অনাবৃত বা নগ্ন অবস্থায় থাকে। কিন্তু আবৃতবীজী উদ্ভিদের ফুলে সুগঠিত গর্ভাশয় থাকে এবং ডিম্বক গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে আবৃত অবস্থায় থাকে।
২. ফল গঠন: নগ্নবীজীতে গর্ভাশয় না থাকায় ফল সৃষ্টি হয় না, কেবল বীজ গঠিত হয়। অপরদিকে আবৃতবীজীতে নিষেকের পর গর্ভাশয় রূপান্তরিত হয়ে ফল গঠন করে এবং ফল বীজকে আবৃত করে রাখে।
৩. দ্বিনিষেক (Double Fertilization): নগ্নবীজী উদ্ভিদে সাধারণত দ্বিনিষেক ঘটে না (ব্যতিক্রম: Ephedra)। পক্ষান্তরে আবৃতবীজী উদ্ভিদের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো দ্বিনিষেক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া।
৪. এন্ডোস্পার্ম বা শস্যের উৎপত্তি ও প্রকৃতি: নগ্নবীজী উদ্ভিদে এন্ডোস্পার্ম বা শস্য নিষেকের পূর্বে গঠিত হয় এবং এটি হ্যাপ্লয়েড (n)। আবৃতবীজী উদ্ভিদে শস্য নিষেকের পর দ্বিনিষেকের ফলে উৎপন্ন হয় এবং এটি সাধারণত ট্রিপ্লয়েড (3n)।
৫. জাইলেম ও ফ্লোয়েম টিস্যু: নগ্নবীজী উদ্ভিদের জাইলেম টিস্যুতে প্রকৃত ভেসেল (Vessel) থাকে না (Gnetum ব্যতীত) এবং ফ্লোয়েম টিস্যুতে সঙ্গীকোষ থাকে না। আবৃতবীজী উদ্ভিদের পরিবহন কলায় উন্নত ভেসেল এবং ফ্লোয়েমে সঙ্গীকোষ উপস্থিত থাকে।সুতরাং, গঠনগত জটিলতা এবং জনন প্রক্রিয়ার দিক থেকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ নগ্নবীজী উদ্ভিদের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ও বিবর্তিত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও