ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মি. কিংকর চৌধুরী তার ভাগ্নে অঙ্কুশকে পাঁচটি মোবাইল সিম ক্রয়ের জন্য খরচ বাবদ ১.১৫৫ টাকা প্রদান করেন। টাকাগুলো গ্রহণ করে গুনতে গিয়ে অঙ্কুশ দেখতে পেল যে, সেখানে পাঁচশত টাকার দু'টি, একশত টাকার একটি, বিশ টাকার একটি, দশ টাকার দুটি, পাঁচ টাকার দুটি এবং এক টাকার পাঁচটি নোট রয়েছে। অঙ্কুশ আরও লক্ষ করল যে, এক টাকার নোটে অর্থ সচিবের এবং বাকি সব নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর রয়েছে।
- ক)(1)
তালিকাভুক্ত ব্যাংক কী?
- খ)(2)
কেন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকারের ব্যাংক বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্কুশের হাতে পাঁচশত টাকার নোটটি কোন ধরনের নোট? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি নোট ও ব্যাংক নোটের পৃথক অস্তিত্ব থাকার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইন ও নিয়মাবলি মেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তালিকা বা তফসিলভুক্ত হয়, সেগুলোকে তালিকাভুক্ত ব্যাংক (Scheduled Bank) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সরকারের ব্যাংক বলা হয়, কারণ এটি সরকারের যাবতীয় আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের হিসাব সংরক্ষণ করে, সরকারের রাজস্ব জমা রাখে, সরকারের পক্ষে বিভিন্ন ব্যয় পরিশোধ করে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক নীতি প্রণয়নে সরকারকে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্কুশের হাতে থাকা পাঁচশত টাকার নোটটি হলো 'ব্যাংক নোট'।
যেসব কাগুজে নোট দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ও প্রচারিত হয় এবং যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে, তাকে ব্যাংক নোট বলে। বাংলাদেশে ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট হলো ব্যাংক নোট।
উদ্দীপকে দেখা যায়, অঙ্কুশ ১,১৫৫ টাকা পাওয়ার পর দেখতে পায় পাঁচশত টাকার দুটি নোট রয়েছে এবং তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর বিদ্যমান। যেহেতু নোটটিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর রয়েছে এবং এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত ও চাহিবামাত্র এর বাহককে দিতে বাধ্য থাকার অঙ্গীকার সংবলিত, তাই এটি একটি ব্যাংক নোট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি নোট ও ব্যাংক নোটের পৃথক অস্তিত্ব থাকার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যৌক্তিক।
সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত যে নোটে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে এবং যা সরকারের প্রত্যক্ষ দায়, তাকে সরকারি নোট বলে (যেমন: ১, ২ ও ৫ টাকার নোট)। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক প্রবর্তিত ও গভর্নর স্বাক্ষরিত নোটকে ব্যাংক নোট বলে।
সরকারি নোট মূলত দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লেনদেন নির্বাহ এবং মুদ্রার একক হিসেবে ভূমিকা রাখে। এটি সরকারের সার্বভৌম প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, বৃহৎ ব্যবসায়িক ও দৈনন্দিন লেনদেন সহজতর করতে এবং মুদ্রাবাজারে অর্থের তারল্য ও ঋণ নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যাংক নোট ইস্যু করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যাংক নোটের জোগান হ্রাস-বৃদ্ধি করতে পারে, যা সরকারি নোট দিয়ে সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে অঙ্কুশের কাছে ১ টাকার সরকারি নোট (অর্থসচিবের স্বাক্ষরযুক্ত) এবং ৫০০, ১০০ ও ২০ টাকার ব্যাংক নোটের (গভর্নরের স্বাক্ষরযুক্ত) উপস্থিতি দেখা যায়। ক্ষুদ্র লেনদেনের সুবিধা, হিসাবের একক প্রতিষ্ঠা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সার্বিক অর্থ সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে উভয় ধরনের নোটের পৃথক অস্তিত্ব বজায় রাখা অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও