জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষক রুই মাছের ব্যবচ্ছেদ করে কানকুয়া দ্বারা ঢাকা চিরুনির দাঁতের ন্যায় বিশেষ অঙ্গটি দেখালেন এবং শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের কৌশল সম্পর্কে ধারণা দিলেন।
- ক)(1)
ফাইসোক্লিস্টাস বায়ুথলি কী?
- খ)(2)
হালদা নদী কার্প জাতীয় মাছের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ অঙ্গটির সচিত্র গঠন বর্ণনা করো ।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষকের শেষ বিবৃতিটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব মাছের পটকা বা বায়ুথলি নিউম্যাটিক নালির মাধ্যমে খাদ্যনালি বা গলবিলের সাথে যুক্ত থাকে না, তাদের ফাইসোক্লিস্টাস (Physoclistous) বায়ুথলি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চট্টগ্রামের হালদা নদী হলো বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র, যেখান থেকে সরাসরি রুই বা কার্প জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা যায়। হালদা নদীর পানির তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ, বিশেষ স্রোত ও বাঁক কার্প জাতীয় মাছের প্রজননের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। অন্যান্য নদী থেকে কেবল রেণু পোনা সংগৃহীত হলেও হালদা নদী থেকে নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে গুণগত মানসম্পন্ন পোনা উৎপাদন করা সম্ভব হয়, যা বাংলাদেশের মৎস্য অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিরুনির দাঁতের ন্যায় বিশেষ অঙ্গটি হলো রুই মাছের ফুলকা (Gill)।
ফুলকার গঠন:
রুই মাছের গলবিলের উভয় পাশে ৪ জোড়া ফুলকা থাকে। প্রতিটি ফুলকা নিম্নলিখিত অংশ নিয়ে গঠিত:
১. ফুলকা আর্চ (Gill Arch): এটি একটি অস্থিময় বাঁকানো অংশ যা ফুলকাকে ভিত্তি দেয় ও ধরে রাখে।
২. ফুলকা রেকার (Gill Rakers): ফুলকা আর্চের ভেতরের দিকে বিন্যস্ত ছোট, শক্ত ও দাঁতের মতো গঠন, যা খাদ্যবস্তুকে গলবিল থেকে ফুলকা প্রকোষ্ঠে প্রবেশে বাধা দেয়।
৩. ফুলকা সূত্র বা ফিলামেন্ট (Gill Filaments / Primary Lamellae): ফুলকা আর্চের বাইরের কিনারা থেকে দুটি সারিতে চিরুনির দাঁতের মতো সমান্তরালভাবে প্রলম্বিত অংশ।
৪. সেকেন্ডারি ল্যামেলি (Secondary Lamellae): প্রতিটি ফিলামেন্টের উভয় পাশে আণুবীক্ষণিক অসংখ্য ভাঁজ বা উপবৃদ্ধি থাকে, যা কৈশিক জালকসমৃদ্ধ এবং গ্যাসীয় বিনিময়ে সরাসরি অংশ নেয়।(পরীক্ষায় উত্তরপত্রে ফুলকা আর্চ, গিল রেকার এবং ফিলামেন্ট চিহ্নিত একটি পরিষ্কার চিত্র আঁকতে হবে)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে শিক্ষকের শেষ বিবৃতিটি ছিল ‘শ্বসন গ্যাস বিনিময়ের কৌশল’। রুই মাছের ফুলকায় গ্যাস বিনিময়ের মূল কৌশলটি হলো প্রতিস্রোত প্রক্রিয়া (Counter-current exchange system)। নিচে এটি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পানির প্রবাহ ও রক্তের প্রবাহের দিক: রুই মাছের শ্বাসগ্রহণের সময় পানি মুখ দিয়ে প্রবেশ করে গলবিল পেরিয়ে ফুলকার ল্যামেলির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অপারকূলামের পথ দিয়ে বের হয়ে যায়। ফুলকা ল্যামেলির রক্তজালকে রক্ত যে অভিমুখে প্রবাহিত হয়, ল্যামেলির ওপর দিয়ে পানি তার ঠিক বিপরীত অভিমুখে প্রবাহিত হয়।
২. গ্যাস বিনিময় কৌশল: পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ঘনত্ব রক্তজালকের রক্তের অক্সিজেনের ঘনত্বের চেয়ে বেশি থাকে। রক্ত ও পানির বিপরীতমুখী প্রবাহের (Counter-current flow) কারণে পানির সমগ্র প্রবাহ পথজুড়েই রক্তের সাথে পানির একটি অক্সিজেন ঘনত্বের নতিমাত্রা (concentration gradient) বজায় থাকে।
৩. ব্যাপন প্রক্রিয়া: এই নতিমাত্রার কারণে পানি থেকে অক্সিজেন সহজে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তে থাকা বিপাকীয় বর্জ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড বিপরীতভাবে পানিতে ব্যাপিত হয়।
৪. দক্ষতা: বিপরীতমুখী প্রবাহ পদ্ধতির ফলে পানি থেকে প্রায় ৮০% এর বেশি অক্সিজেন রক্তে শোষিত হতে পারে, যা সমমুখী প্রবাহে সম্ভব হতো না।
সুতরাং, শিক্ষকের শেষ বিবৃতি অনুযায়ী রুই মাছের শ্বসন গ্যাস বিনিময় প্রতিস্রোত কৌশলের মাধ্যমে অত্যন্ত কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও