বাংলা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন

শামসুদদীন আবুল কালামের 'মৌসুম' গল্পটি রচিত হয়েছে তৎকালীন জমিদারদের অধীন জনজীবনকে কেন্দ্র করে। সে সময় জমিদারদের শোষণের বিরুদ্ধে একদল সমাজরূপান্তর ও স্বাধীনতাকামীদের প্রচেষ্টায় কৃষকরা আন্দোলন শুরু করে। গল্পে দেখা যায়, দীর্ঘ খরার পর বৃষ্টির আগমনে কৃষকরা ভালো ফসল পাওয়ার আনন্দে বিভোর হয়। কৃষকদের মনের এই আনন্দ জমিদারের পছন্দ হয় না। চাল মজুদ করে দাম বাড়িয়ে কৃষকদের বেকায়দায় ফেলে দেয় জমিদার।

  1. ক)

    'লাঙ্গুল' কী?

    (1)
  2. খ)

    'একটি পতিত আত্মাকে অন্ধকার হইতে আলোকে আনিয়াছি, ভাবিয়া কমলাকান্তের বড়ই আনন্দ হইল'- কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষকদের অবস্থার সাথে 'বিড়াল' রচনার বিড়ালের সাদৃশ্য আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে 'বিড়াল' রচনার গুণগত পার্থক্যগুলো তোমার যুক্তিসহ উপস্থাপন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'লাঙ্গুল' শব্দের অর্থ হলো লেজ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিড়ালকে মারধর না করে তার যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জ্ঞানগর্ভ উপদেশ দিয়ে সৎপথে আনার চেষ্টা করেছেন মনে করে কমলাকান্তের বড়ই আনন্দ হয়েছিল।

    কমলাকান্তের দুধ খেয়ে ফেলায় বিড়ালের সঙ্গে তাঁর যে কথোপকথন হয়, তাতে বিড়ালটি সমাজতান্ত্রিক যুক্তি উপস্থাপন করে। কমলাকান্ত প্রথমে তাকে লাঠি দিয়ে মারতে গেলেও পরে বিজ্ঞ পণ্ডিতের মতো বিড়ালকে চুরির দোষ পরিহার ও ধর্মাচরণের উপদেশ দেন। কমলাকান্ত ভেবেছিলেন তিনি একটি বিপথগামী আত্মাকে নীতিশিক্ষার মাধ্যমে সৎপথে ফিরিয়ে এনেছেন, তাই তাঁর মনে পরম আনন্দ অনুভূত হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত কৃষকদের বঞ্চনা ও দুর্গতির সাথে 'বিড়াল' রচনার বিড়ালের জীবনসংগ্রাম এবং শোষিত অবস্থার গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জমিদাররা কৃষকদের পরিশ্রমের ফসলের কোনো সুফল পেতে দেয় না। খাদ্যশস্য মজুত করে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের বিপদে ফেলে। ফলে সমাজব্যবস্থায় যারা উৎপাদনকারী, তারাই চরম খাদ্যাভাব ও শোষণ-বঞ্চনার শিকার হয়।

    'বিড়াল' রচনাতেও দেখা যায়, ধনী সমাজ কেবল নিজেদের সুখ ও ভোগের ব্যবস্থা করে, অথচ বিড়ালের মতো অভুক্তদের সামান্য খাবারের অধিকারটুকুও দেয় না। সমাজের বিত্তশালীদের অতিরিক্ত ভোগের কারণেই বিড়ালরা ক্ষুধার্ত থাকে এবং খাবার চুরি করতে বাধ্য হয়। বিড়ালটি শোষিত, ক্ষুধার্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতীক। উদ্দীপকের কৃষকদের মতো বিড়ালটিও সমাজে কায়েমি স্বার্থবাদীদের শোষণ ও বঞ্চনার শিকার। এই অধিকারহীনতা এবং ক্ষুধা-কষ্টের দিক থেকে উভয়ের মধ্যে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের সাথে 'বিড়াল' রচনার মূল সুর, প্রকাশভঙ্গি ও চিন্তাগত স্তরে সুস্পষ্ট গুণগত পার্থক্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে জমিদারদের শোষণ, কৃষকদের বঞ্চনা এবং সেই শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের সরাসরি প্রতিরোধ বা আন্দোলনের একটি বাস্তবধর্মী চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে জমিদার কর্তৃক চাল মজুত করে সংকট তৈরির চিরাচরিত সামন্ততান্ত্রিক শোষণের প্রত্যক্ষ রূপ ফুটে উঠেছে।

    অন্যদিকে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' একটি রূপক, রসাত্মক ও সাম্যবাদী চিন্তাপ্রসূত প্রবন্ধ। এখানে একটি সাধারণ গৃহপালিত বিড়ালের মুখ দিয়ে মানুষের বৈষম্যমূলক সমাজব্যবস্থা, পুঁজিবাদ ও আইনের অসারতাকে দার্শনিক যুক্তির মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বিড়ালটি কোনো শারীরিক আন্দোলনে না গিয়ে সামাজিক ন্যায়বিচার, ক্ষুধার অধিকার এবং ধনীদের অতিরিক্ত সম্পদের মালিকানা নিয়ে তীব্র শ্লেষাত্মক ও যৌক্তিক বিতর্ক উপস্থাপন করেছে। এটি নিছক খাদ্য সংকট নয়, বরং মানুষের নীতিবোধ ও শ্রেণিবিভক্ত সমাজের ভণ্ডামির ওপর গভীর আঘাত।

    অতএব, উদ্দীপকটি কৃষকদের বাস্তব আন্দোলন ও শোষণের বাহ্যিক চিত্র তুলে ধরলেও 'বিড়াল' রচনাটি তীব্র রূপক-আশ্রয়ী, যুক্তিনির্ভর এবং বিশ্বজনীন সাম্যবাদী দর্শনের উচ্চতর স্তরে প্রতিষ্ঠিত। এখানেই উভয় রচনার গুণগত পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন