পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
প্রতীক হোসেন লেখাপড়া জানলেও ভালো করে চোখে দেখেনা। এ ধরনের ব্যক্তিদের সরকার আর্থিক সহায়তা দেয়। একটি সরকারি অফিসে সে আর্থিক সহায়তার টাকা উত্তোলন করতে গেলে অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার কাছ থেকে উৎকোচ দাবি করে। তিনি সরকারের অন্য একটি সংস্থার কাছে এর বিচারের জন্য যান। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই সংস্থা উৎকোচ দাবি করা ব্যক্তিকে আটক করে আদালতের কাছে সোপর্দ করে।
- ক)(1)
সাংবিধানিক সংস্থা কী?
- খ)(2)
সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য মানুষ কীভাবে দায়ী?
- গ)(3)
প্রতিক হোসেনের মতো ব্যক্তিদের সরকার আর্থিক সহায়তা দেয় কেন?
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের অন্য সংস্থার ভূমিকা মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান কোনো দেশের সংবিধানের বিধান দ্বারা গঠিত এবং যার ক্ষমতা, কার্যপরিধি ও দায়িত্ব সংবিধান কর্তৃক নির্ধারিত হয়, সেগুলোকে সাংবিধানিক সংস্থা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মানুষের নানাবিধ পরিবেশবিনাশী কার্যকলাপের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মানুষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, গ্যাস) পোড়ানো, নির্বিচারে বনভূমি ধ্বংস করা এবং শিল্প-কারখানা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে প্রচুর কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন করছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মেরু অঞ্চলের বরফ ও হিমবাহ গলিয়ে ফেলছে এবং সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এর আয়তন প্রসারিত করছে। এভাবে মানুষ পরোক্ষভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতীক হোসেনের মতো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সামাজিক নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং সমাজে টিকে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।
একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষার দায় সরকারের। দৃষ্টিহীনতা বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে এসব ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে জীবিকা অর্জনে বা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্যক্রম চালু রয়েছে। এই আর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্য হলো তাদের পরনির্ভরশীলতা হ্রাস করা, চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার পথ সুগম করা এবং দারিদ্র্য দূর করে সমাজে তাঁদের স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা দেওয়া।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সরকারের অন্য সংস্থাটি হলো 'দুর্নীতি দমন কমিশন' (দুদক)। ঘুষ, দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংস্থাটির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও কার্যকর।
উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতীক হোসেন প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা তুলতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী উৎকোচ (ঘুষ) দাবি করে। প্রতীক অন্য একটি সংস্থার কাছে প্রতিকার চাইলে তারা সত্যতা প্রমাণ পেয়ে ঘুষ দাবি করা ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করে আদালতের কাছে সোপর্দ করে। বাংলাদেশে সরকারি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। দুদক একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থা।
দুদকের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার: উদ্দীপকের মতো ফাঁদ পেতে বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘুষ গ্রহণকারী অসদুপায়ী কর্মচারীদের আটক করে আইনের আওতায় আনা দুদকের অন্যতম প্রধান সাফল্য।
২. প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ: সরকারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও হয়রানি রোধে দুদকের অভিযান সেবাগ্রহীতাদের আস্থা ফিরিয়ে আনে।
৩. সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: কোনো অপরাধীই যে আইনের ঊর্ধ্বে নয়, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিটের মাধ্যমে দুদক তা নিশ্চিত করে।পরিশেষে বলা যায়, প্রতীক হোসেনের মতো অসহায় মানুষদের হয়রানি রোধ করতে এবং দেশে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গড়তে উদ্দীপকে বর্ণিত দুর্নীতি দমন সংস্থার মতো কঠোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও