অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
জয়িতা ঢাকার একটি গার্মেন্টস এ কাজ করে, তার পরিবারের অন্যরা সুনামগঞ্জে একটি গ্রামে বাস করে। সে প্রতি মাসে তার বেতনের একটি অংশ গ্রামে অবস্থানরত পরিবার পরিজনের কাছে পাঠায়। কিছুদিন আগেও টাকা পাঠাতে অনেক কষ্ট করতে হতো, এখন জয়িতা অনেক সহজে এবং কম খরচে কোনো ব্যাংক হিসাব ছাড়াই টাকা পাঠাতে পারে। এতে তার পরিবার-পরিজন কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাড়ির পাশের দোকান থেকে টাকা সংগ্রহ করতে পারে।
- ক)(1)
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম কী?
- খ)(2)
অর্থের পরিমাণের সাথে অর্থের মূল্যের সম্পর্ক আছে কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? তার সুবিধা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উল্লিখিত ব্যাংকিং কার্যক্রম লেনদেন সহজ করাসহ গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে কীভাবে অবদান রাখছে সে বিষয়ে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নাম 'বাংলাদেশ ব্যাংক' (Bangladesh Bank)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, অর্থের পরিমাণের সাথে অর্থের মূল্যের একটি বিপরীতমুখী ও আনুপাতিক সম্পর্ক রয়েছে।
ফিশারের অর্থের পরিমাণ তত্ত্ব অনুসারে, অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে অর্থের পরিমাণ বা যোগান যে হারে বৃদ্ধি পায়, সামগ্রিক দামস্তরও সেই হারে বৃদ্ধি পায় এবং এর ফলে অর্থের মূল্য ঠিক বিপরীত হারে হ্রাস পায়। একইভাবে, অর্থের পরিমাণ যে হারে হ্রাস পায়, দামস্তরও সেই হারে কমে এবং অর্থের মূল্য আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পায়। সুতরাং অর্থের পরিমাণের সাথে অর্থের মূল্যের প্রত্যক্ষ বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার অন্তর্ভুক্ত 'মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস' বা 'মোবাইল ব্যাংকিং' (MFS) কার্যক্রমকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রধান সুবিধাসমূহ নিম্নরূপ:
১. দ্রুততা ও সহজলভ্যতা: কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাংক শাখা বা হিসাব না থাকলেও শুধু মোবাইল ফোন ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই যেকোনো স্থানে টাকা পাঠানো ও গ্রহণ করা যায়।
২. সময় ও খরচের সাশ্রয়: দূরবর্তী ব্যাংকে যাতায়াতের ঝামেলা ও বাড়তি খরচ ছাড়াই গ্রাহক বাড়ির নিকটস্থ এজেন্টের দোকান থেকে দিনরাত যেকোনো সময় লেনদেন সম্পন্ন করতে পারেন।
৩. নিরাপত্তা: নগদ টাকা বহন করার ঝুঁকি থাকে না; পিন নম্বর ও ওটিপি নিয়ন্ত্রিত প্রক্রিয়ায় অর্থ নিরাপদে পৌঁছানো যায়।
৪. সার্বক্ষণিক সেবা: প্রথাগত ব্যাংকিং সময়ের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই সপ্তাহের সাত দিন এবং ২৪ ঘণ্টাই লেনদেনের সুবিধা পাওয়া যায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়নে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কার্যকর অবদান রাখছে। নিচে এ বিষয়ে আমার মতামত তুলে ধরা হলো:
১. আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশের গ্রামীণ জনসংখ্যার একটি বড় অংশ সনাতন ব্যাংক সুবিধার বাইরে ছিল। মোবাইল ব্যাংকিং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে।
২. দ্রুত ও নিরাপদ অর্থ স্থানান্তর: গার্মেন্টস কর্মী জয়িতার মতো লাখ লাখ শ্রমজীবী মানুষ অতি সহজে তাদের উপার্জিত অর্থ গ্রামে পাঠাতে পারছেন। ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলো প্রয়োজনীয় মুহূর্তে চিকিৎসা, শিক্ষা ও খাদ্য ক্রয়ের খরচ মেটাতে পারছে।
৩. গ্রামীণ ব্যবসার বিকাশ: স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এজেন্টদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে কেনাবেচা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থের গতিশীলতা ও তারল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: গ্রামে গ্রামে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে বহু তরুণের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে সাহায্য করছে।
৫. সঞ্চয় ও কৃষি বিনিয়োগ বৃদ্ধি: কৃষকেরা সহজেই কৃষি উপকরণ ক্রয়, ভর্তুকি গ্রহণ এবং ছোট আকারের সঞ্চয় করতে পারছেন, যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
অতএব, মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম কেবল সহজ লেনদেনের মাধ্যম নয়, বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে বেগবান ও টেকসই করার অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও