সহপাঠ • উপন্যাস: লালসালু • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
সহপাঠ প্রশ্ন
ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় অনেক টাকা উপার্জন করে গ্রামে ফিরে আসে শাহেদ। অর্থ আর বুদ্ধির জোরে একদিন সে গ্রামের চেয়ারম্যান হয়ে যায়। অনেক আগেই বিয়ের বয়স পেরিয়ে গেলেও গ্রামের এক কিশোরী মেয়ের দিকে নজর পড়ে তার। অভাবী পরিবারকে লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে ফেলে তেরো বছরের চঞ্চল কিশোরী মিতুকে।
- ক)(1)
'লাল সালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
- খ)(2)
"গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ।" ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের শাহেদ 'লাল সালু' উপন্যাসের কোন চরিত্রকে ইঙ্গিত করে? আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সমাজচিত্র যেন 'লাল সালু' উপন্যাসের সমাজেরই খণ্ডিত রূপ।"-মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম 'Tree Without Roots' (ট্রি উইদাউট রুটস)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজিদের অন্ধ ধর্মীয় বিশ্বাস, খোদাভীতি ও অনুশাসনের কাছে মহব্বতনগর গ্রামের সাধারণ মানুষের নীরব আত্মসমর্পণকে বোঝাতে গিয়ে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করা হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসে রহিমা যেমন মজিদকে সমীহ করে, তার ধর্মভয় ও নির্দেশকে চরম সত্য মনে করে বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেয়, গ্রামের মানুষের অবস্থাও ঠিক তেমনই। তারাও মজিদের ভণ্ড ধর্মীয় অনুশাসন, কুসংস্কার ও আত্মিক শোষণকে চোখ বুজে মেনে নিয়েছে। মজিদের আধিপত্যের সামনে তাদের নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা লুপ্ত হয়ে রহিমা চরিত্রের মতোই তারা এক একজন অন্ধ অনুসারী হয়ে ওঠে। এজন্যই বলা হয়েছে, গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের শাহেদ চরিত্রটি 'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদকে ইঙ্গিত করে।
'লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায়, ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। ধর্মকে পুঁজি করে সে গ্রামে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার করে। একপর্যায়ে প্রথম স্ত্রী রহিমা থাকা সত্ত্বেও নিজের বাসনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে মজিদ অল্পবয়সী চঞ্চল কিশোরী জমিলাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে নিয়ে আসে।
উদ্দীপকের শাহেদও ভাগ্যান্বেষণে ঘুরতে ঘুরতে অর্থ উপার্জন করে গ্রামে ফিরে এসে চেয়ারম্যান হয়ে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে। পরবর্তীতে বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সে তার ক্ষমতার জোরে এবং অভাবী পরিবারকে লোভ দেখিয়ে তেরো বছরের চঞ্চল কিশোরী মিতুকে বিয়ে করে। শাহেদের এই অর্থ-ক্ষমতার দাপট এবং অসম বয়সে এক কিশোরীকে বিয়ে করার মানসিকতা 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের চরিত্রের সাথে হুবহু মিলে যায়। সুতরাং শাহেদ চরিত্রটি মজিদকেই ইঙ্গিত করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে গ্রামীণ সমাজের প্রভাবশালীদের শোষণ এবং পিতৃতান্ত্রিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা 'লালসালু' উপন্যাসের বৃহত্তর সমাজের একটি বিশেষ খণ্ডিত রূপ—মন্তব্যটি যথার্থ।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' উপন্যাসে ধর্মব্যবসা, কুসংস্কার, পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য এবং অর্থনৈতিক দীনতার এক সুবিস্তৃত চিত্র ফুটে উঠেছে। গ্রামীণ সমাজে প্রভাবশালীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো শক্তি সাধারণ মানুষের থাকে না। ফলে মজিদ যেমন ধর্মীয় ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে সমাজে প্রতিপত্তি কায়েম করে এবং অভাব ও পিতৃতান্ত্রিক শোষণের সুযোগ নিয়ে কিশোরী জমিলাকে বিয়ে করে, উদ্দীপকেও ঠিক তেমনি ক্ষমতার ভিন্ন রূপ দেখা যায়।
উদ্দীপকের সমাজে শাহেদ অর্থের জোরে চেয়ারম্যান হয়ে নিজের প্রতাপ বিস্তার করেছে। সেখানে এক অভাবী পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের প্রলুব্ধ করে অসম বয়সে চঞ্চল কিশোরী মিতুকে বিয়ে করা হয়েছে। তবে 'লালসালু' উপন্যাসে সমাজচিত্রের মূল উপজীব্য ছিল ধর্মের অপব্যবহার ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামীণ মানুষের মনস্তত্ত্ব। উদ্দীপকে ধর্মীয় অপব্যবহার বা অন্ধ বিশ্বাসের দিকটি অনুপস্থিত থাকলেও অর্থনৈতিক লোভ, বিত্তবানদের আধিপত্য এবং অসহায় নারীর স্বাধীনতা হরণের রূপটি স্পষ্ট।
অতএব, 'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মভিত্তিক সমাজশোষণের সামগ্রিক রূপ উদ্দীপকে না থাকলেও বিত্তের দাপটে অসহায় পরিবার ও নারীর ওপর আধিপত্য বিস্তারের যে খণ্ডচিত্র প্রকাশ পেয়েছে, তার আলোকে বলা যায়—উদ্দীপকের সমাজচিত্র যেন 'লালসালু' উপন্যাসের সমাজেরই একটি খণ্ডিত রূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও