‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জনাব রাইসুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে। আমাদের সংবিধানের সংশোধনীসমূহ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন যে, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু ১৯৯১ সালে আবার আরেকটি সংশোধনীর মাধ্যমে উক্ত সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এ সংশোধনী ছিল জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।

  1. ক)

    ন্যায়পাল কী?

    (1)
  2. খ)

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শেষাংশে সংবিধানের কোন সংশোধনীর কথা বলা হয়েছে? উক্ত সংশোধনীর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    "বর্তমান সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ -উক্তিটি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ন্যায়পাল (Ombudsman) হলেন আইনসভা কর্তৃক নিযুক্ত এমন একজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সরকারি কর্মকর্তা, যিনি সরকারি কর্তৃপক্ষ বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে আনীত প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে বিচারকার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিচারকগণের আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের যেকোনো প্রকার ভয়ভীতি, প্রভাব, চাপ ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত থাকাকে বোঝায়। বিচার বিভাগ স্বাধীন হলে বিচারকগণ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে, বিবেক ও আইনের শাসনের ভিত্তিতে সংবিধান অনুযায়ী রায় প্রদান করতে পারেন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষাংশে বাংলাদেশ সংবিধানের 'দ্বাদশ সংশোধনী'-র কথা বলা হয়েছে, যা ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং কার্যকর হয়।

    দ্বাদশ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তুসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রবর্তন: ১৯৭৫ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির বিলোপ ঘটিয়ে দেশে পুনরায় সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়।
    ২. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতা: সংসদীয় ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে সরকারের প্রধান নির্বাহী করা হয় এবং রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ ক্ষমতা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয়।
    ৩. রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা ও নির্বাচন: রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান করা হয় এবং তিনি জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হওয়ার বিধান করা হয়।
    ৪. সংসদের কাছে জবাবদিহিতা: মন্ত্রিসভা তার যাবতীয় নীতি ও কাজের জন্য যৌথভাবে জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকবে বলে বিধিবদ্ধ হয়। এছাড়া উপ-রাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বর্তমান সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ"— উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তব ও যুক্তিযুক্ত।

    ১৯৭৫ সালের পর থেকে দীর্ঘ দেড় দশক বাংলাদেশে সামরিক ও রাষ্ট্রপতি শাসিত স্বৈরতান্ত্রিক শাসন বিদ্যমান ছিল। সেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত থাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বৈরাচার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছিল। ফলে ১৯৮০-র দশক জুড়ে বাংলাদেশে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্যই ছিল জবাবদিহিতামূলক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী সরকার প্রতিষ্ঠা।

    ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটে। দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়, যা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। কারণ:
    ১. জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা: সংসদীয় ব্যবস্থায় নির্বাহী বিভাগ (প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা) আইনসভার কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকে, ফলে একনায়কতন্ত্রের সুযোগ থাকে না।
    ২. সার্বভৌম সংসদ: সংসদীয় ব্যবস্থায় আইনসভা বা জাতীয় সংসদ জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, যা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
    ৩. বিরোধী দলের অংশগ্রহণ: সংসদীয় ব্যবস্থায় বিরোধী দল ছায়া সরকার হিসেবে কাজ করে এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে শাসনব্যবস্থাকে জনকল্যাণমুখী রাখে।

    অতএব, স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করায় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বা বর্তমান সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সাথে পরিপূর্ণভাবে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন