ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
মি. A এবং B একই কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেছেন। মি. A এর শেয়ারের ক্রয়মূল্য ১ লক্ষ টাকা এবং B এর শেয়ারের ক্রয়মূল্য ৫ লক্ষ টাকা। মি. B এর লভ্যাংশের হার নির্ধারিত কিন্তু মি. A এর লভ্যাংশের নির্ধারিত হার নেই। সম্প্রতি কোম্পানির সাধারণ সভা আহ্বান করা হলে মি. B কে সভায় ডাকা হয়নি। B এতে ক্ষুব্ধ
- ক)(1)
প্রাইভেট লি. কোম্পানির সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা কত?
- খ)(2)
বাধ্যতামূলক অবসায়ন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মি. B কোন ধরনের শেয়ার ক্রয় করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মি. A কম মূল্যের শেয়ার ক্রয় করলেও তার অবস্থান তুলনামূলক মর্যাদাপূর্ণ - উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা ৫০ (পঞ্চাশ) জন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোম্পানি আইন অনুযায়ী যে সকল বিশেষ পরিস্থিতিতে কোম্পানি তার অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না এবং আদালত কর্তৃক কোম্পানিটির বিলোপসাধনে বাধ্য করা হয়, তাকে বাধ্যতামূলক অবসায়ন বলে।
১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ২৪১ ধারা অনুযায়ী, কোম্পানি যদি তার ঋণ পরিশোধে অসমর্থ হয় বা আইনগত কোনো শর্ত ভঙ্গ করে, কিংবা বিশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালতের মাধ্যমে অবসায়নের আবেদন করে, তবে আদালত কোম্পানিটিকে গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। এটিই বাধ্যতামূলক অবসায়ন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মি. B অগ্রাধিকার শেয়ার (Preference Share) ক্রয় করেছেন।
যে শেয়ারের মালিকগণ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পূর্বে একটি নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পান এবং কোম্পানি অবসায়নের সময় মূলধন ফেরতের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভোগ করেন, তাকে অগ্রাধিকার শেয়ার বলে। তবে এ ধরনের শেয়ারহোল্ডারদের সাধারণত কোম্পানিতে ভোটাধিকার বা সাধারণ সভায় যোগদানের অধিকার থাকে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. B-এর লভ্যাংশের হার নির্ধারিত এবং কোম্পানির সাধারণ সভা আহ্বান করা হলেও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অগ্রাধিকার শেয়ারের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে পূর্বনির্ধারিত হারে লভ্যাংশ দেওয়া হয় এবং পরিচালনায় অংশগ্রহণের বা ভোটদানের ক্ষমতা থাকে না বিধায় সাধারণ সভায় তাদের ডাকা বাধ্যতামূলক নয়। সুতরাং, মি. B অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে মি. A কম মূল্যের শেয়ার ক্রয় করলেও কোম্পানির প্রকৃত মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের দিক বিবেচনায় তার অবস্থান তুলনামূলকভাবে মর্যাদাপূর্ণ—বক্তব্যটি যথার্থ।
কোম্পানি সংগঠনে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররাই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক। সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে কোনো নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ নির্ধারিত থাকে না; ব্যবসায় ভালো মুনাফা করলে তারা বেশি লভ্যাংশ পান। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাধারণ শেয়ারমালিকদের ভোটাধিকার থাকে, তারা কোম্পানির সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন এবং পরিচালক নির্বাচন ও নীতি নির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যদিকে, অগ্রাধিকার শেয়ারের মালিকরা নির্দিষ্ট হারে লভ্যাংশ পেলেও তাদের ভোটাধিকার বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকে না।
উদ্দীপকে মি. B ৫ লক্ষ টাকার অগ্রাধিকার শেয়ার ক্রয় করা সত্ত্বেও তার ভোটাধিকার না থাকায় তাকে কোম্পানির সাধারণ সভায় ডাকা হয়নি। বিপরীতে, মি. A মাত্র ১ লক্ষ টাকার শেয়ার ক্রয় করলেও তার শেয়ারের লভ্যাংশ অনির্ধারিত, যা সাধারণ শেয়ারের বৈশিষ্ট্য। এর ফলে তিনি কোম্পানির একজন প্রকৃত মালিক হিসেবে সাধারণ সভায় যোগদানের ও ভোট প্রদানের আইনগত অধিকার রাখেন।
পরিশেষে বলা যায়, বিনিয়োগের পরিমাণ কম হলেও মি. A সাধারণ শেয়ার ধারণ করায় কোম্পানির পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ এবং ভোটাধিকারের সুযোগ ভোগ করেন। তাই প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও ক্ষমতার দিক থেকে মি. A-এর অবস্থান মি. B-এর চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও