‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

'আঁখি' ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যেয়ে এস এম হল দেখে তার পৌরনীতির স্যারের ক্লাস লেকচারের কথা মনে পড়ে। তিনি বলেছিলেন বাংলার এক ক্ষণজন্মা পুরুষের কথা। যিনি - 
(i) ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে অংশ নেন।  
(ii) বঙ্গভঙ্গের অবদান রাখেন।  
(iii) মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।  
(iv) আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। যা বর্তমানে ঢাবির পাশে বুয়েট নামে খ্যাত।

  1. ক)

    কে, কখন ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন?

    (1)
  2. খ)

    ঋণ-সালেসি বোর্ড বলতে কী বোঝায়?  ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষণজন্মা পুরুষ বলতে কাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সাথে সংশ্লিষ্ট নেতার রাজনৈতিক অবদান মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ঋণ-সালিশি বোর্ড হলো অবিভক্ত বাংলার কৃষকদের মহাজনি ঋণের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কর্তৃক প্রবর্তিত একটি বিশেষ মধ্যস্থতাকারী সালিশি ব্যবস্থা।

    ১৯৩৬ সালে 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' ও 'কৃষি ঋণ আইন' পাশের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে এই ঋণ-সালিশি বোর্ড গঠন করা হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দরিদ্র কৃষকদের অপরিশোধ্য চড়া সুদের ঋণ সালিশের মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা বা কমিয়ে পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করে বাংলার কৃষকদের স্বস্তি দেওয়া।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্ষণজন্মা পুরুষ বলতে ঢাকার অবিসংবাদিত নেতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    উদ্দীপকে উল্লেখিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস এম হল (স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল) তাঁর নামেই নামকরণ করা হয়। তিনি ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদে চাকরি শুরু করলেও জনসেবা ও রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থেকে সে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে তিনি মুসলমানদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এবং এর বাস্তবায়ন ও সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। পরবর্তীতে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় 'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' প্রতিষ্ঠায় তিনি মূল অগ্রণী ভূমিকা ও আতিথেয়তা পালন করেন। এ ছাড়া পিতার নামে তিনি 'আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল' গড়ে তোলেন, যা আজকের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সুতরাং উদ্দীপকের সবগুলো বৈশিষ্ট্য নবাব স্যার সলিমুল্লাহকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতা হলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের মুসলিম রাজনীতির উন্মেষ ও বিকাশে তাঁর রাজনৈতিক অবদান ছিল অপরিসীম।

    প্রথমত, বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) সাধনে তিনি ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। পূর্ব বাংলা ও আসামের অবহেলিত মুসলিম জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তিনি লর্ড কার্জনকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং বঙ্গভঙ্গের পর গঠিত নতুন প্রদেশের মুসলমানদের সংগঠিত করেন।

    দ্বিতীয়ত, মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা (১৯০৬) ছিল তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক অবদান। তাঁরই উদ্যোগে ও আমন্ত্রণে ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে মুসলমানদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠিত হয়।

    তৃতীয়ত, তিনি মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক রাজনৈতিক সচেতনতা জাগ্রত করেন এবং সিমলা ডেপুটেশন (১৯০৬) ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা আদায়ে নেপথ্য ভূমিকা রাখেন। এছাড়া বঙ্গভঙ্গ রদের (১৯১১) পর তিনি মুসলিম ক্ষোভকে শিক্ষামুখী দাবিতে রূপান্তর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন।

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, স্যার সলিমুল্লাহ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণ ও তৎকালীন রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের এক অগ্রদূত নেতা।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন