অর্থনীতি ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারকে প্রচুর ব্যয় করতে হয়। শিক্ষা, চিকিৎসা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রভৃতি খাতে সরকারকে প্রচুর ব্যয় করতে হয়। তবে এসব ঋণের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হয়।
- ক)(1)
আবগারি শুল্ক কী?
- খ)(2)
মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে সরকারি ব্যয়ের খাতগুলোর বর্ণনা দাও।
- ঘ)(4)
ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যয় নির্বাহের অসুবিধা সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কিছু দ্রব্যের ওপর সরকার যে কর ধার্য করে, তাকে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে করের প্রাথমিক ঘাত বা প্রত্যক্ষ চাপ এবং চূড়ান্ত বোঝা বা চাপ ভিন্ন ব্যক্তির ওপর পড়ে, অর্থাৎ যার ওপর কর ধার্য করা হয় তিনি করের বোঝা অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারেন, তাকে পরোক্ষ কর বলে।
মূল্য সংযোজন কর (মূসক/VAT) উৎপাদনের বা বিক্রয়ের প্রতিটি স্তরে যুক্ত মূল্যের ওপর ধার্য করা হয় এবং উৎপাদনকারী বা বিক্রেতা এই কর পরিশোধ করলেও চূড়ান্তভাবে তা পণ্যের মূল্যের সাথে যুক্ত করে ভোক্তার কাছ থেকে আদায় করা হয়। যেহেতু করের চূড়ান্ত আর্থিক বোঝা ক্রেতা বা ভোক্তার ওপর স্থানান্তরিত হয়, তাই মূল্য সংযোজন করকে পরোক্ষ কর বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি ব্যয়ের খাতের উল্লেখ রয়েছে।
১. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন: শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার বিস্তার এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।
২. স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা: জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে হাসপাতাল নির্মাণ, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং স্বাস্থ্য অবকাঠামো খাতে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করে।
৩. আইনশৃঙ্খলা ও প্রতিরক্ষা: দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও বাইরের আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষার জন্য পুলিশ, আদালত ও সামরিক বাহিনীর পেছনে প্রচুর প্রশাসনিক ব্যয় করতে হয়।
৪. সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান: বেকারত্ব দূরীকরণ, দারিদ্র্য বিমোচন, বয়স্ক ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধির মাধ্যমে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যয় করে থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারি ব্যয় নির্বাহ সাময়িকভাবে আর্থিক সংকট নিরসনে সাহায্য করলেও এর সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবহার না হলে তা দেশের জন্য গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যা সৃষ্টি করে। নিচে এ সম্পর্কিত অসুবিধাগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ঋণের সুদের বোঝা ও ব্যয় বৃদ্ধি: গৃহীত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মূল অর্থের সাথে মোটা অঙ্কের সুদ পরিশোধ করতে হয়। ফলে প্রতি বছর জাতীয় বাজেটের একটি বড় অংশ শুধু ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়ে যায়, যা উন্নয়ন বাজেটের সুযোগ সীমিত করে।
২. মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি: সরকার যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করে, তবে বাজারে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। দ্রব্যের যোগান না বেড়ে অর্থের সরবরাহ বাড়লে দেশে তীব্র মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
৩. ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর বোঝা: বর্তমান সরকারের অপরিকল্পিত ঋণ ও ব্যয়ের দায়ভার শেষ পর্যন্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর করের বোঝা হিসেবে চাপে।
৪. সার্বভৌমত্ব ও শর্তের ঝুঁকি: বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কঠিন শর্ত মেনে নিতে হয়, যা কখনো কখনো দেশের স্বাধীন নীতি নির্ধারণে বাধার সৃষ্টি করে।সুতরাং, উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে সংগতি রেখে বলা যায়, সরকার যদি ঋণের মাধ্যমে ব্যয় নির্বাহ করে কিন্তু সেই অর্থের সঠিক ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য চরম ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও