জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

শিক্ষক তার বাম হাতে আম ও ডান হাতে ইক্ষু নিয়ে বললেন, উভয়ই মিষ্টি কিন্তু CO₂ বিজারণের পথ আলাদা।

  1. ক)

    প্লাজমোলাইসিস কী?

    (1)
  2. খ)

    প্রস্বেদন বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ডান হাতের গাছটিতে যে চক্র সম্পন্ন হয় তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের গাছ দুটির CO₂ বিজারণের পথ অনুসারে তুলনা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বহিঃঅভিস্রবণের কারণে উদ্ভিদকোষের প্রোটোপ্লাস্ট সংকুচিত হয়ে কোষপ্রাচীর থেকে আলাদা হয়ে আসাকে প্লাজমোলাইসিস বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্ভিদের দেহাভ্যন্তর থেকে অতিরিক্ত পানি তার বিভিন্ন বায়বীয় অঙ্গ (প্রধানত পাতার পত্ররন্ধ্র) দিয়ে বাষ্পাকারে বের হয়ে যাওয়ার শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বা বাষ্পমোচন (Transpiration) বলে। এটি উদ্ভিদের মূল দ্বারা পানি শোষণ, খনিজ লবণ পরিবহন ও দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের ডান হাতের গাছটি হলো ইক্ষু, যা একটি C₄ উদ্ভিদ। C₄ উদ্ভিদে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) বিজারণের জন্য হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র (C₄ চক্র) সম্পন্ন হয়। চক্রটি মেসোফিল কোষ এবং বান্ডল সিথ কোষে নিম্নরূপে সম্পন্ন হয়:

    ১. মেসোফিল কোষে প্রথম CO₂ গ্রাহক হিসেবে ফসফোইনলপাইরুভিক এসিড (PEP, 3C) বায়ুমণ্ডলের CO₂ গ্রহণ করে PEP কার্বোক্সিলেজ এনজাইমের সহায়তায় ৪ কার্বনবিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড (OAA) তৈরি করে, যা এ চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ।
    ২. অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড পরবর্তীতে ম্যালিক এসিড বা অ্যাসপার্টিক এসিডে রূপান্তরিত হয়।
    ৩. এই ম্যালিক এসিড প্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে বান্ডল সিথ কোষে প্রবেশ করে।
    ৪. বান্ডল সিথ কোষে ম্যালিক এসিড ডিকার্বক্সিলেশনের মাধ্যমে পাইরুভিক এসিড এবং CO₂ তৈরি করে।
    ৫. নির্গত CO₂ বান্ডল সিথ কোষে রুবিস্কো (RuBisCO) এনজাইমের সহায়তায় ক্যালভিন চক্রে (C₃ চক্র) প্রবেশ করে শর্করা তৈরি করে।
    ৬. অপর উৎপাদ পাইরুভিক এসিড পুনরায় মেসোফিল কোষে ফিরে আসে এবং ATP ব্যবহারের মাধ্যমে ফসফোইনলপাইরুভিক এসিড পুনরুৎপাদন করে চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের বাম হাতের আম হলো একটি C₃ উদ্ভিদ এবং ডান হাতের ইক্ষু হলো একটি C₄ উদ্ভিদ। CO₂ বিজারণের পথ অনুসারে এদের মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:

    ১. চক্রের ধরন: আম গাছে CO₂ বিজারণ ক্যালভিন চক্র (C₃ চক্র)-এর মাধ্যমে ঘটে; পক্ষান্তরে ইক্ষু গাছে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র (C₄ চক্র) ঘটে এবং তার সাথে ক্যালভিন চক্রও যুক্ত থাকে।
    ২. প্রথম CO₂ গ্রাহক: আম গাছে প্রথম CO₂ গ্রাহক ৫-কার্বনবিশিষ্ট রিবুলোজ-১,৫-বিসফসফেট (RuBP); কিন্তু ইক্ষু গাছে প্রথম CO₂ গ্রাহক ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোইনলপাইরুভিক এসিড (PEP)।
    ৩. প্রথম স্থায়ী পদার্থ: আম গাছের ক্ষেত্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3-PGA); কিন্তু ইক্ষু গাছে প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৪-কার্বনবিশিষ্ট ডাইকার্বক্সিলিক এসিড অর্থাৎ অক্সালোঅ্যাসিটিক এসিড (OAA)।
    ৪. সংশ্লিষ্ট এনজাইম: আমে প্রধানত রুবিস্কো (RuBisCO) কার্বোক্সিলেশন ঘটায়; অন্যদিকে ইক্ষু গাছের মেসোফিলে PEP কার্বোক্সিলেজ এবং বান্ডল সিথে রুবিস্কো কাজ করে।
    ৫. অঙ্গসংস্থানিক বৈচিত্র্য: আম পাতার ক্ষেত্রে ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি অনুপস্থিত এবং এক ধরনের ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে; ইক্ষু পাতায় ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি উপস্থিত থাকে এবং এতে মেসোফিল ও বান্ডল সিথে ডাইমরফিক (দুই ধরনের) ক্লোরোপ্লাস্ট দেখা যায়।
    ৬. আলোকশ্বসন (Photorespiration): আম গাছে উচ্চ তাপ ও অক্সিজেনে প্রচুর আলোকশ্বসন ঘটে যা উদ্ভিদের কার্যক্ষমতা কমায়; কিন্তু ইক্ষু গাছে আলোকশ্বসন অনুপস্থিত বা নগণ্য।
    ৭. সালোকসংশ্লেষণের হার: আম গাছের তুলনায় ইক্ষু গাছে CO₂ বিজারণ তথা সালোকসংশ্লেষণের দক্ষতা ও হার অনেক বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন