পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
ক' রাষ্ট্রটি ব্রিটিশ শাসনাধীন ছিল। স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রটির সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল প্রদত্ত সুষ্ঠু পরিকল্পনার ভিত্তিতে পার্লামেন্টে একটি বিখ্যাত আইন পাস হয়। এই আইনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রটির প্রায় ২০০ বছরের বিদেশি শাসনের অবসান হয় এবং দুটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- ক)(1)
স্বাধীন সার্বভৌম অখন্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব বে করেন?
- খ)(2)
দ্বি-জাতিতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন বিখ্যাত আইনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে রাষ্ট্রটির গভর্নর জেনারেল প্রদত্ত পরিকল্পনার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বাধীন সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব করেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (এবং আবুল হাশিম)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দ্বি-জাতিতত্ত্ব হলো ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কর্তৃক উপস্থাপিত একটি রাজনৈতিক মতবাদ, যার মূল কথা ছিল ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারতের হিন্দু ও মুসলিমরা দুটি সম্পূর্ণ পৃথক জাতি। এই তত্ত্বের মূল দাবি ছিল মুসলিমদের স্বতন্ত্র ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের কারণে তাদের জন্য স্বতন্ত্র ও স্বাধীন আবাসভূমি থাকতে হবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক 'ভারত স্বাধীনতা আইন'-এর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ব্রিটিশ ভারতের জনগণের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালের ১৮ই জুলাই 'ভারত স্বাধীনতা আইন ১৯৪৭' পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালের ১৪ ও ১৫ আগস্ট প্রায় দুইশত বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং 'পাকিস্তান' ও 'ভারত' নামে দুটি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের 'ক' রাষ্ট্রের প্রায় ২০০ বছরের বিদেশি শাসনের অবসান এবং দুটি নতুন রাষ্ট্রের জন্মের ঘটনার সাথে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত আইনের সাথে ব্রিটিশ ভারতের সর্বশেষ গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেন প্রদত্ত পরিকল্পনার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও প্রত্যক্ষ।
লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারতের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার পর ১৯৪৭ সালের ৩রা জুন ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি রূপরেখা ঘোষণা করেন, যা '৩রা জুনের পরিকল্পনা' বা 'মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা' নামে পরিচিত। এই পরিকল্পনায় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের সুস্পষ্ট প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনার মূল প্রস্তাবাবলিকে আইনগত রূপ দেওয়ার জন্যই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে 'ভারত স্বাধীনতা আইন' প্রণয়ন করে। গভর্নর জেনারেলের পরিকল্পনার প্রতিটি প্রধান সিদ্ধান্ত—যেমন ব্রিটিশ শাসনের অবসান, ভারত বিভাজন, গণভোটের বিধান এবং সীমান্ত নির্ধারণ কমিশন গঠন—আইনটিতে হুবহু অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সুতরাং বলা যায়, গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের পরিকল্পনা ছিল মূল কাঠামো এবং ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন ছিল তারই বিধিবদ্ধ বাস্তবায়ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও