জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    এক্সাইন কী?

    (1)
  2. খ)

    অ্যাপোস্পোরি কী- ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক 'A' তে 'X' সৃষ্টির ধাপগুলো চিহ্নিত চিত্রের সাহায্যে দেখাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে 'B' তে নির্দেশিত 'Y' সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পরাগরেণুর বহিঃত্বককে বা বাইরের পুরু ও অলংকৃত স্তরটিকে এক্সাইন (Exine) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মিয়োসিস বিভাজন ছাড়া এবং কোনো রেণু বা স্পোর সৃষ্টি না করে সরাসরি স্পোরোফাইটের দেহকোষ (যেমন—ডিম্বকত্বক বা নিউসেলাসের কোষ) থেকে গ্যামিটোফাইট সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অ্যাপোস্পোরি (Apospory) বলে।

    অ্যাপোস্পোরির মাধ্যমে সৃষ্ট গ্যামিটোফাইটটি ডিপ্লয়েড (2n) প্রকৃতির হয়ে থাকে। যেমন—Hieracium, Parthenium ইত্যাদি উদ্ভিদে অ্যাপোস্পোরি দেখা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'A'-তে 'X' হলো স্ত্রী গ্যামিটোফাইট বা ভ্রূণথলি (Embryo sac)। নিচে স্ত্রী গ্যামিটোফাইট সৃষ্টির ধাপসমূহ চিহ্নিত চিত্রের সাহায্যে দেখানো হলো:

    ১. স্ত্রী রেণু মাতৃকোষ (2n) মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) মেগাস্পোর বা স্ত্রীরেণু তৈরি করে।
    ২. এদের তিনটি বিনষ্ট হয় এবং নিচের দিকের একটি কার্যকর স্ত্রীরেণু হিসেবে বৃদ্ধি পায়।
    ৩. এই কার্যকর স্ত্রীরেণুর নিউক্লিয়াসটি প্রথমবার মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তারা বিপরীত দুই মেরুতে অবস্থান নেয়।
    ৪. পরবর্তীতে উভয় মেরুর প্রতিটি নিউক্লিয়াস পরপর দুবার মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে প্রতিটি মেরুতে ৪টি করে মোট ৮টি নিউক্লিয়াস গঠন করে।
    ৫. এরপর উভয় মেরু থেকে একটি করে নিউক্লিয়াস কেন্দ্রে চলে এসে পরস্পর মিলিত হয়ে গৌণ নিউক্লিয়াস (Secondary nucleus, 2n) গঠন করে।
    ৬. ডিম্বকরন্ধ্রের দিকের তিনটি নিউক্লিয়াস সাইটোপ্লাজমসহ একত্রিত হয়ে গর্ভযন্ত্র (ডিম্বাণু ও দুটি সহকারী কোষ) এবং বিপরীত মেরুর তিনটি প্রতিপাদ কোষে পরিণত হয়। এভাবে পূর্ণাঙ্গ ৮-নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ভ্রূণথলি গঠিত হয়।

    [পরীক্ষায় এখানে মেগাস্পোর থেকে ৮-নিউক্লিয়াসযুক্ত ভ্রূণথলি গঠনের ক্রমান্বয়িক চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করতে হবে: ১টি কার্যকর স্ত্রীরেণু -> ২ নিউক্লিয়াস দশা -> ৪ নিউক্লিয়াস দশা -> ৮ নিউক্লিয়াস দশা -> পরিণত ভ্রূণথলি (ডিম্বাণু, সহকারী কোষ, গৌণ নিউক্লিয়াস ও প্রতিপাদ কোষ চিহ্নিত)]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের চিত্র 'B'-তে 'Y' নির্দেশিত অংশটি হলো পুং-জননকোষ বা শুক্রাণু (Male gamete/sperm)। উদ্ভিদের যৌন প্রজনন ও বংশবিস্তারে এর প্রয়োজনীয়তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. নিষেক সম্পন্নকরণ: সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন প্রজননের প্রধান ধাপ হলো নিষেক। পরাগনালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত দুটি পুং-জননকোষের একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট তৈরি করে, যা পরবর্তীতে ভ্রূণে পরিণত হয়। পুং-জননকোষ ব্যতীত নিষেক ও নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি অসম্ভব।

    ২. দ্বি-নিষেক ও শস্য সৃষ্টি: অপর পুং-জননকোষটি গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে অবস্থিত ডিপ্লয়েড গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) শস্য কোষ (Endosperm) গঠন করে। এই শস্য বিকশিত ভ্রূণের পুষ্টি সরবরাহ করে।

    ৩. বীজ ও ফল উৎপাদন: শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষেকের পর ডিম্বকটি বীজে এবং গর্ভাশয় ফলে রূপান্তরিত হয়, যা খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং উদ্ভিদের বিস্তার নিশ্চিত করে।

    ৪. বংশগতি ও প্রকরণ: মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় গঠিত পুং-জননকোষ এবং ডিম্বাণুর মিলনের ফলে ক্রোমোজোমে জিনের নতুন সমন্বয় ঘটে, যা উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা এবং নতুন জাত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।

    সুতরাং, সপুষ্পক উদ্ভিদের জীবনচক্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা, বীজ ও ফল সৃষ্টি এবং প্রজাতির টিকে থাকার জন্য উদ্দীপকের 'Y' বা পুং-জননকোষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন