সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সাহায্যদানকারী একটি সংস্থা, ১৯৬৬ সালের ১লা জানুয়ারিতে। গঠন করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৭৭টি দেশে এর কার্যক্রম রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে এই সংস্থাটি বিভিন্ন প্রকল্প, যেমন- কৃষি, বনায়ন, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রভৃতি বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষভাবে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে।
- ক)(1)
UCEP এর পূর্ণরূপ কী?
- খ)(2)
ইউনিসেফের দুটি উদ্দেশ্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত জাতিসংঘের বিশেষ সংস্থাটির উদ্দেশ্য, পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত বিপন্ন মানুষের কল্যাণে গঠিত, সংগঠনটির ভূমিকা বাংলাদেশের সাপেক্ষে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
UCEP এর পূর্ণরূপ হলো Underprivileged Children's Educational Programs।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইউনিসেফ (UNICEF)-এর দুটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো:
১. উন্নয়নশীল দেশসমূহের শিশুদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।
২. শিশুদের সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার ঘটানো এবং দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে মা ও শিশুদের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান করা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংস্থাটি হলো জাতিসংঘের বিশেষ উন্নয়নমূলক সংস্থা ইউএনডিপি (UNDP - United Nations Development Programme), যা ১৯৬৬ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাঠ্যবইয়ের আলোকে ইউএনডিপি-এর মূল উদ্দেশ্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস: উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও দারিদ্র্য নিরসনে সহায়তা প্রদান করা।
২. টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ: অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে কাজ করা।
৩. গণতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করতে সহায়তা করা।
৪. কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান: উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শক্তি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনুদান ও কারিগরি দিকনির্দেশনা দেওয়া। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংস্থাটি হলো জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও বিপন্ন মানুষের কল্যাণে স্বাধীনতার পর থেকেই সংস্থাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
বাংলাদেশের সাপেক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
১. দারিদ্র্য নিরসন ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন: বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদারে ইউএনডিপি সরকারের সাথে সমন্বিতভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
২. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা: প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি, পূর্বাভাস ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সংস্থাটি ব্যাপক আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে।
৩. সুশাসন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি: নির্বাচন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও বিচার ব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রেখেছে।
৪. টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তি সহায়তা: কারিগরি প্রশিক্ষণ, যুব ক্ষমতায়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটুআই (a2i) কর্মসূচিসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।সুতরাং, বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের সামাজিক মুক্তি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং সর্বস্তরের মানুষের টেকসই জীবনমান নিশ্চিতকরণে ইউএনডিপি-র ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকর ও প্রশংসনীয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও