ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ১ম পত্র প্রশ্ন
তমাল গ্রামে একটি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িপাতিলের দোকান দিলেন। দোকানে বিক্রির পরিমাণ খুবই কম হওয়ায় লোকসান হতে শুরু করল। ইতিমধ্যে বন্ধু তারিককে ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে নিয়োগ দিয়ে দুজনে মিলে গ্রামে পিয়ে অ্যালুমিনিয়ামের হাড়িপাতিলের বিনিময়ে ও নগদ অর্থের বিনিময়ে পুরাতন অ্যালুমিনিয়াম, লোহা, প্লাস্টিক সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রয় করায় প্রচুর মুনাফা অর্জন করলেন। এতে তারিক মুনাফার অর্ধেক দাবি করলেন, তমাল তারিকের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেন।
- ক)(1)
কর্মী অংশীদার কাকে বলে?
- খ)(2)
একমালিকানা ব্যবসায় পৃথক সত্তা নেই কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে একমালিকানা ব্যবসায়ের কোন বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
তমাল তারিকের মুনাফার অর্ধেক পাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যানের কারণ কী? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে অংশীদার ব্যবসায় কোনো মূলধন বিনিয়োগ না করে শুধুমাত্র নিজের দক্ষতা ও শ্রম বিনিয়োগ করে সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে, তাকে কর্মী অংশীদার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একমালিকানা ব্যবসায়ের পৃথক কোনো কৃত্রিম বা আইনগত সত্তা থাকে না, কারণ এ জাতীয় ব্যবসায় কোনো বিশেষ কোম্পানি বা নিবন্ধন আইনের অধীন গঠিত হয় না।
আইনগত সত্তা না থাকায় একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিক ও ব্যবসায় আইনগতভাবে অভিন্ন ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হয়। ব্যবসায়ের সকল দায়-দেনা, চুক্তি ও অধিকারের ক্ষেত্রে মালিক নিজেই আইনত দায়ী থাকেন এবং ব্যবসায়ের নামে পৃথকভাবে কোনো মামলা বা লেনদেন করা যায় না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে একমালিকানা ব্যবসায়ের 'একক সিদ্ধান্ত ও পরিবর্তনশীলতা' বা 'নমনীয়তা'র বৈশিষ্ট্যটি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো একক পরিচালনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। এ ব্যবসায়ে মালিক একাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন বিধায় পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে ব্যবসায়ের ধরন, কৌশল বা কর্মপদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক নমনীয়তা বা রদবদল আনা সম্ভব হয়, যার জন্য অন্য কারও অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না।
উদ্দীপকে তমাল প্রথমে অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িপাতিলের দোকান খুলে আশানুরূপ বিক্রি না পেয়ে লোকসানের মুখে পড়েন। তখন তিনি দ্রুত ব্যবসায় কৌশল পরিবর্তন করে নগদ অর্থ ও হাঁড়িপাতিলের বিনিময়ে ব্যবহৃত পুরাতন লোহা, প্লাস্টিক ইত্যাদি সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রির অভিনব সিদ্ধান্ত নেন। তমাল একক মালিক হওয়ায় অন্য কারও অনুমতির তোয়াক্কা না করে দ্রুত এ ব্যবসায়িক কৌশল পরিবর্তন করতে পেরেছেন। সুতরাং, উদ্দীপকে একমালিকানা ব্যবসায়ের নমনীয়তা ও একক সিদ্ধান্তের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
তমাল কর্তৃক তারিকের মুনাফার অর্ধেক দাবি প্রত্যাখ্যানের কারণ হলো তারিক ছিলেন ব্যবসায়টির একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী, ব্যবসায়ের মালিক বা অংশীদার নন।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মূলধন সরবরাহ, সম্পূর্ণ ঝুঁকি ও যাবতীয় দায় এককভাবে মালিক বহন করেন। বিপরীতে, নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী চুক্তি অনুযায়ী কেবল নির্দিষ্ট বেতন বা মজুরি পাওয়ার অধিকারী হন। ব্যবসায়ে অংশীদারিত্বের চুক্তি ও মূলধন বিনিয়োগ না থাকলে বা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা না হলে কোনো কর্মচারী ব্যবসায়ের অর্জিত মুনাফার ওপর কোনো আইনগত দাবি করতে পারেন না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, তমাল লোকসানে পড়ার পর তারিককে ১০ হাজার টাকা মাসিক বেতনে নিয়োগ দেন। তারিকের সঙ্গে তমালের সম্পর্কটি ছিল মালিক ও কর্মচারীর। ব্যবসায় প্রচুর মুনাফা অর্জিত হলেও তার মূলধন তমালের ছিল এবং লোকসান হলে সেই লোকসানের দায়ও তমালকেই বহন করতে হতো, তারিককে নয়। ব্যবসায়ের অংশীদার হিসেবে লাভ-ক্ষতি বণ্টনের কোনো চুক্তি তাদের মধ্যে ছিল না। ফলে তারিক শুধুমাত্র তার নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক বা বেতন দাবি করতে পারেন।
অতএব, আইনগত ও ব্যবসায়িক নীতি অনুযায়ী কোনো কর্মচারী মুনাফার অংশীদার হতে পারে না বলেই তমাল যৌক্তিকভাবে তারিকের মুনাফার অর্ধেক পাওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও