অর্থনীতি ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎস থেকে মাছের উৎপাদন (লাখ মেট্রিক টন) নিম্নোক্ত টেবিলে দেখানো হলো:
উৎস | ২০১৩-১৪ | ২০২০-২১
অভ্যন্তরীণ জলাশয় | ২৯.৫১ | ৩৯.৪০
সামুদ্রিক | ৫.৯৬ | ৬.৮১
- ক)(1)
কৃষিজোত কী?
- খ)(2)
'বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কিছু নেতিবাচক প্রভাবও লক্ষ করা যায়'- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
প্রদত্ত টেবিল থেকে একটি লেখচিত্র অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে প্রদত্ত কৃষির উপখাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কীরূপ প্রভাব ফেলছে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষিজোত হলো একজন কৃষকের অধীনে থাকা চাষযোগ্য বা আবাদযোগ্য মোট জমির সমষ্টিগত পরিমাণ, যার ওপর কৃষক বা তাঁর পরিবার কৃষিকার্য পরিচালনা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে কিছু নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা ও গুণাগুণ নষ্ট হয়, মাটির উপকারী অণুজীব ধ্বংস হয় এবং ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিভাগের পানি দূষিত হয়। এছাড়া উচ্চফলনশীল জাতের একচ্ছত্র চাষের ফলে দেশীয় সনাতন জাতের বীজ ও জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ে এবং অতিমাত্রায় ভূগর্ভস্থ পানি সেচকাজে উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নেমে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রদত্ত উপাত্তের আলোকে একটি যৌগিক বা স্তম্ভ লেখচিত্র (Bar Chart) অঙ্কন করা যায়:
১. অক্ষ নির্ধারণ: আনুভূমিক বা ভূমি অক্ষে (X-অক্ষ) অর্থবছর (২০১৩-১৪ এবং ২০২০-২১) এবং উল্লম্ব বা লম্ব অক্ষে (Y-অক্ষ) মাছের উৎপাদনের পরিমাণ (লাখ মেট্রিক টনে) ধরা হলো। স্কেল হিসেবে প্রতি ১ একক = ৫ লাখ মেট্রিক টন ধরা যায়।
২. ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য স্তম্ভ:
- অভ্যন্তরীণ জলাশয়: ২৯.৫১ লাখ মেট্রিক টন নির্দেশক একটি স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
- সামুদ্রিক: ৫.৯৬ লাখ মেট্রিক টন নির্দেশক সংলগ্ন অপর একটি ভিন্ন ডিজাইনের স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
৩. ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য স্তম্ভ:
- অভ্যন্তরীণ জলাশয়: ৩৯.৪০ লাখ মেট্রিক টন নির্দেশক স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
- সামুদ্রিক: ৬.৮১ লাখ মেট্রিক টন নির্দেশক সংলগ্ন স্তম্ভ অঙ্কন করা হয়।
লেখচিত্রটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ও সামুদ্রিক উভয় উৎস থেকেই মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের অবদান সর্বাধিক।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদত্ত কৃষির উপখাতটি হলো 'মৎস্য উপখাত'। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে এ উপখাত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রথমত, পুষ্টির চাহিদা পূরণ: মৎস্য উপখাত দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ (প্রায় ৬০%) জোগান দেয়, যা জনগণের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
দ্বিতীয়ত, জিডিপিতে অবদান: বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এবং কৃষিজ জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে দেখা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ মাছের উৎপাদন ২৯.৫১ থেকে বেড়ে ৩৯.৪০ লাখ মেট্রিক টন এবং সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন ৫.৯৬ থেকে ৬.৮১ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।
তৃতীয়ত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন: উপকূলীয় অঞ্চল এবং অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের ওপর নির্ভর করে দেশের লাখ লাখ জেলে, মৎস্যচাষি ও ব্যবসায়ী জীবিকা নির্বাহ করেন, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাস করছে।
চতুর্থত, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত চিংড়ি এবং অন্যান্য মাছ রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
অতএব, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মৎস্য উপখাত অত্যন্ত প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও