ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব আকরাম পনেরো বছর পূর্বে পঞ্চাশ জন কর্মী নিয়ে একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান গঠন করেন, যেখানে সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামো থাকায় তার পরিচালনা করতে সহজ হয়। কিন্তু বর্তমানে তার শ্রমিক-কর্মী সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমন বেড়েছে তার কার্যভার ও কাজের পরিধি। পারিবারিক প্রয়োজনে এক সপ্তাহের অবকাশ প্রয়োজন হলে তার অবর্তমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। এখন তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে তিনটি প্রধান বিভাগে ভাগ করে তিনজন অভিজ্ঞ ও দক্ষব্যক্তিকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করতে ইচ্ছুক।
- ক)(1)
সংগঠন কী?
- খ)(2)
সংগঠন কাঠামো নির্ধারণ কেন প্রয়োজন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠন কাঠামোর কোন সীমাবদ্ধতার কারণে মি. আকরাম সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
মি. আকরামের গৃহীত সর্বশেষ পদক্ষেপ কি তার প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম? যুক্তিসহ লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় উপায়-উপকরণ ও কার্যাবলির মধ্যে সুশৃঙ্খল সম্পর্ক স্থাপন করাকে সংগঠন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যকার কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট সীমারেখা, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং যোগাযোগের মাধ্যম প্রদর্শনের জন্য সংগঠন কাঠামো নির্ধারণ প্রয়োজন। সংগঠন কাঠামো নির্ধারণের মাধ্যমে কার ওপর কী দায়িত্ব ন্যস্ত এবং কে কার অধীনে কাজ করবে তা স্পষ্টভাবে জানা যায়। এতে কাজে কোনো দ্বৈততা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় না এবং প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জন সহজ হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠন কাঠামোর 'নির্বাহীর ওপর অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপ' এবং 'অধস্তনদের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের কর্তৃত্বের অভাব' বা অতি-কেন্দ্রীকরণজনিত সীমাবদ্ধতার কারণে জনাব আকরাম সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন।
সরলরৈখিক সংগঠন কাঠামোতে সকল কর্তৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা শীর্ষ নির্বাহীর হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে। প্রতিষ্ঠান বড় হলে নির্বাহীর ওপর কাজের পরিধি ও মানসিক চাপ মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া তার অবর্তমানে কাজ চালিয়ে নেওয়ার মতো উপযুক্ত কর্তৃত্বসম্পন্ন বিকল্প নেতৃত্ব বা বিকেন্দ্রীকরণ থাকে না।
উদ্দীপকে জনাব আকরামের প্রতিষ্ঠানটি আগে ছোট থাকায় তিনি এককভাবে পরিচালনা করতে পারতেন। কিন্তু পরবর্তীতে কর্মী ও কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেলেও তিনি একাই সব পরিচালনা করতেন। ফলে এক সপ্তাহের জন্য ছুটিতে গেলে তার অবর্তমানে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। অর্থাৎ, নেতৃত্বের অতি-কেন্দ্রীকরণ ও একক নির্ভরতার সীমাবদ্ধতাই তার এই সংকটের কারণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, মি. আকরামের গৃহীত সর্বশেষ পদক্ষেপটি তার প্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
মি. আকরাম তার প্রতিষ্ঠানকে তিনটি প্রধান বিভাগে বিভক্ত করে তিনজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিভাগীয় প্রধানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা সংগঠনকে বিভাগীয় ও বিকেন্দ্রীভূত রূপ প্রদান করবে।
এই পদক্ষেপটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যেভাবে ভূমিকা রাখবে:
১. কাজের সুষম বণ্টন ও ভারমুক্তি: প্রতিষ্ঠানটি তিনটি পৃথক বিভাগে ভাগ করায় মি. আকরামের ওপর থেকে অতিরিক্ত কাজের চাপ কমবে এবং তিনি সামগ্রিক কৌশল নির্ধারণে মনোযোগ দিতে পারবেন।
২. বিশেষজ্ঞতার সুবিধা: অভিজ্ঞ বিভাগীয় প্রধানরা নিজ নিজ বিভাগের কাজের বিশেষজ্ঞ হওয়ায় কাজের মান ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।
৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধারাবাহিকতা: শীর্ষ নির্বাহীর অনুপস্থিতিতেও বিভাগীয় প্রধানরা তাদের আওতাধীন সিদ্ধান্ত দ্রুত গ্রহণ করতে পারবেন, ফলে প্রতিষ্ঠানের কার্যধারা স্থবির হবে না।
৪. সম্প্রসারণের সুযোগ: প্রতিষ্ঠানের আকার বড় হলে বিভাগীয় সংগঠন কাঠামো কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা বৃদ্ধি করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করে।অতএব, প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, শ্রমবিভাগের সুফল ভোগ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করতে মি. আকরামের গৃহীত এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও