পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২১
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
পার্থ একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক। সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বিঘ্নে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। ঈদ ও দুর্গাপূজা একই সাথে অনুষ্ঠিত হয়। সকল ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে।
- ক)(1)
বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান কে ছিলেন?
- খ)(2)
জাতীয়তাবাদ ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত পার্থের দেশের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার কোন কোন মূলনীতির মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার সব মূলনীতির প্রকাশ ঘটেনি -বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশ সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতীয়তাবাদ হলো এমন একটি মানসিক বা আত্মিক অনুভূতি, যা কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সূত্রে ঐক্যবদ্ধ করে অন্যদের থেকে পৃথক সত্তা হিসেবে গড়ে তোলে।
যখন কোনো জনসমাজ অভিন্ন ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নিজেদের একই চেতনা ও রাজনৈতিক ঐক্যের অংশ মনে করে, তখন সেখানে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বাঙালি জাতীয়তাবাদ আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা ছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখিত পার্থের দেশের সাথে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দুটি মূলনীতির মিল রয়েছে—গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতির দুটি হলো গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১ অনুযায়ী গণতন্ত্রের মূল কথা হলো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ। অন্যদিকে অনুচ্ছেদ ১২ অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষতার মূল কথা হলো ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য না করা।
উদ্দীপকে পার্থের দেশে অবাধ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া এবং নির্বিঘ্নে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা বাংলাদেশের সংবিধানের 'গণতন্ত্র' মূলনীতির প্রতিফলন। অপরদিকে একই সাথে ঈদ ও দুর্গাপূজা উদযাপিত হওয়া এবং সকল ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালনের স্বাধীনতা বাংলাদেশের 'ধর্মনিরপেক্ষতা' নীতির বাস্তব রূপ তুলে ধরে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার সব মূলনীতির প্রকাশ ঘটেনি—উক্তিটি যথার্থ ও যৌক্তিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূল ভিত্তি রয়েছে: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার), গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।
উদ্দীপকে সংসদ নির্বাচন ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে 'গণতন্ত্র' এবং সকল ধর্মের মানুষের স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব পালনের মাধ্যমে 'ধর্মনিরপেক্ষতা' নীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার বাকি দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি—'জাতীয়তাবাদ' এবং 'সমাজতন্ত্র'-এর কোনো উল্লেখ উদ্দীপকে নেই।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯ অনুযায়ী ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত ঐক্যের ভিত্তিতে বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের বর্ণনায় অনুপস্থিত। একইভাবে অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ এবং অর্থনৈতিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'সমাজতন্ত্র' নীতির যে প্রতিফলন সংবিধানে রয়েছে, পার্থের দেশের প্রেক্ষাপটে তার কোনো উল্লেখ নেই।
অতএব, উদ্দীপকে কেবল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রকাশ ঘটায় এটি সুস্পষ্ট যে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতির সবকটির প্রকাশ সেখানে ঘটেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও