‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় নেতা 'ক'। তিনি অত্যাচারী জমিদার ও সুদখোর মহাজনদের দ্বারা সাধারণ মানুষের শোষণ অত্যাচার দেখে সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগদান করেন। জনগণের ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় কৃষি ঋণ আইন ও ঋণসালিশি বোর্ড গঠিত হয়।

  1. ক)

    দেশবন্ধু উপাধিতে কে ভূষিত হন?

    (1)
  2. খ)

    গণতন্ত্রের মানসপুত্র কাকে বলা হয়? কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের 'ক' নেতার সাথে পাঠ্য বইয়ের কোন নেতা সাদৃশ্য রয়েছে?  ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত কর্মকান্ড কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রেখেছিল বলে তুমি মনে কর?

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    চিত্তরঞ্জন দাশ 'দেশবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত হন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।

    তিনি আজীবন সংসদীয় গণতন্ত্র, সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসনের পক্ষে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তানের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল অবিসংবাদিত। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর নিরলস সংগ্রামের কারণেই তাঁকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'ক' নেতার সাথে পাঠ্যবইয়ের শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের সাদৃশ্য রয়েছে।

    শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার কৃষক-প্রজার অবিসংবাদিত নেতা। তিনি দরিদ্র কৃষকদের জমিদার ও মহাজনদের নির্মম শোষণ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে সরকারি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের লোভনীয় চাকরি ত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ১৯৩৭ সালে বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী (মুখ্যমন্ত্রী) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি সাধারণ কৃষকদের ঋণমুক্তি ও কল্যাণের লক্ষ্যে 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন', 'মহাজনি আইন', এবং 'ঋণসালিশি বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করেন।

    উদ্দীপকের 'ক' নেতাও দরিদ্র মানুষের শোষণ দেখে সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন এবং কৃষি ঋণ আইন ও ঋণসালিশি বোর্ড গঠন করেন। এই সমস্ত কর্মকাণ্ড ও জীবনবৃত্তান্ত শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ঐতিহাসিক ভূমিকার সাথে পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের শেষাংশে উল্লিখিত কর্মকাণ্ড—অর্থাৎ কৃষি ঋণ আইন প্রণয়ন ও ঋণসালিশি বোর্ড গঠন—বাংলার কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও ভাগ্যোন্নয়নে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিল।

    তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলার সাধারণ কৃষকেরা উচ্চ সুদের দায়ে মহাজন ও ভূস্বামীদের দ্বারা চরম শোষণের শিকার হতেন। ফসলের উৎপাদন কম হলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে সুদের চক্রবৃদ্ধিতে কৃষকের ভিটেমাটি বেদখল হয়ে যেত এবং তারা নিঃস্ব হয়ে পড়ত।

    শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক প্রবর্তিত ঋণসালিশি বোর্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পুরোনো চড়া সুদের ঋণ পুনর্মূল্যায়ন করা হয় এবং বহু দরিদ্র কৃষকের মাত্রাতিরিক্ত ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ বা সহজে পরিশোধযোগ্য করা হয়। এর ফলে লাখ লাখ কৃষক তাদের পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ও জমিদারি নিষ্পেষণ থেকে মুক্ত হতে পেরেছিল। পাশাপাশি কৃষি ঋণ আইন ও মহাজনি আইনের ফলে মহাজনদের একচেটিয়া সুদের কারবার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।

    এই পদক্ষেপগুলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষকদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফিরিয়ে দেয়। কৃষকরা পুনরায় জমিতে তাদের অধিকার ফিরে পায় এবং নির্বিঘ্নে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করতে পারে, যা তাদের সামগ্রিক ভাগ্যোন্নয়নে এবং বাংলার গ্রামীণ সমাজে স্বস্তি আনয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রেখেছিল।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন