যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন
কলেজ থেকে ফিরে শম্পা তার মাকে বলল, মা আজ আমি খুবই ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত। একথা শুনে মা বলল, তাড়াতাড়ি পোশাক পরিবর্তন করে হাতমুখ ধুয়ে খেতে এসো। বাবা বললেন, "তারপর সন্ধ্যায় আমরা জন্মদিনের দাওয়াতে যাব।"
- ক)(1)
বিধেয়ক কাকে বলে?
- খ)(2)
'বিধেয় ও বিধেয়ক ভিন্নতর'- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাবার বক্তব্য কোন প্রকারের বিধেয়ক নির্দেশ করছে? বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
বিধেয়কের আলোকে উদ্দীপকে উল্লিখিত মা ও মেয়ের বক্তব্যের আন্তঃসম্পর্ক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদের সাথে বিধেয় পদের যে সম্বন্ধ বা সম্পর্ক থাকে, তাকে বিধেয়ক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিধেয় হলো যুক্তিবাক্যের একটি অপরিহার্য পদ, যা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করে। অন্যদিকে, বিধেয়ক হলো সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্যের সাথে বিধেয়ের বিদ্যমান সম্পর্কের নাম। বিধেয় একটি বাস্তব শব্দ বা পদ, কিন্তু বিধেয়ক হলো পদদ্বয়ের মধ্যবর্তী গুণগত সম্পর্ক। এছাড়া নঞর্থক যুক্তিবাক্যে বিধেয় থাকে কিন্তু বিধেয়ক থাকে না। তাই বিধেয় ও বিধেয়ক পরস্পর ভিন্ন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাবার বক্তব্য বিধেয়কের 'উপলক্ষণ' বা 'আকস্মিক অবান্তর লক্ষণ' (Accident) নির্দেশ করছে, যা মূলত অবান্তর লক্ষণের প্রকারভুক্ত।
যে গুণ উদ্দেশ্যের যাত্যর্থ নয় বা যাত্যর্থের অংশ নয় এবং যাত্যর্থ থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃতও হয় না, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। আবার যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির ক্ষেত্রে সর্বদা বর্তমান থাকে না বরং পরিবর্তনশীল, তাকে বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক অবান্তর লক্ষণ বলা হয়।
উদ্দীপকে বাবা বলেছেন, "সন্ধ্যায় আমরা জন্মদিনের দাওয়াতে যাব।" সন্ধ্যায় জন্মদিনের দাওয়াতে যাওয়া শম্পা বা তার পরিবারের কোনো অপরিহার্য বা স্থায়ী বৈশিষ্ট্য নয়। এটি একটি সাময়িক ঘটনা যা ব্যক্তি বা পরিবারের মৌলিক সত্তার পরিবর্তন না ঘটিয়েই পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বাবার এই উক্তিটি বিধেয়ক হিসেবে 'আকস্মিক অবান্তর লক্ষণ'-কে নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিধেয়কের দৃষ্টিকোণ থেকে মা ও মেয়ের বক্তব্যের মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে তা হলো 'অবান্তর লক্ষণ' (Accident) এবং মানুষের জৈবিক ও মানসিক অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।
মেয়ের বক্তব্য: শম্পা জানায় সে "খুবই ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত"। ক্লান্তি বা তৃষ্ণা হলো এমন একটি অবস্থা যা মানুষ মাত্রেরই অপরিহার্য স্থায়ী গুণ (যাত্যর্থ) নয়। এটি সময়ের সাথে সাথে তৈরি হয় এবং খাদ্য বা বিশ্রাম গ্রহণের মাধ্যমে দূর হয়ে যায়। সুতরাং শম্পার ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হওয়া হলো তার ক্ষেত্রে একটি 'বিচ্ছিন্ন বা পরিবর্তনশীল অবান্তর লক্ষণ'।
মায়ের বক্তব্য: মা বলেন, "তাড়াতাড়ি পোশাক পরিবর্তন করে হাতমুখ ধুয়ে খেতে এসো।" মায়ের এই বক্তব্য শম্পার সাময়িক অবান্তর লক্ষণজনিত অবস্থা (ক্লান্তি ও তৃষ্ণা) দূরীকরণের প্রাকৃতিক ও ব্যবহারিক উপায়কে চিহ্নিত করে।
অতএব, মা ও মেয়ের বক্তব্যের আন্তঃসম্পর্কটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মেয়ের আরোপিত সাময়িক অবস্থাটি (অবান্তর লক্ষণ) নিরসনের উদ্দেশ্যেই মায়ের অনুশাসনমূলক বক্তব্যটির অবতারণা হয়েছে, যা লজিক্যাল দিক থেকে এক ধরনের আকস্মিক অবস্থার কারণ-ফলাফল ভিত্তিক মানবিক প্রতিক্রিয়া নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও