ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র প্রশ্ন
তাহমিদ বিমাতার অত্যাচারে পিতৃপুষ তাগ করে এক সামন্তরাজার অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন। অল্প দিনে রাজার প্রিয়পাত্র য রাজকীয় ও কূটনৈতিক গুণাবলি অর্জন করেন। অর্জিত কুটনৈতিক জ্ঞান ও উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে একটি বিশাল এলাকার অধিপতি হয়ে যোগাযোগ ও ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার পুনবিন্যাসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করেন।
- ক)(1)
'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'গ্রান্ড ট্রাক রোড' কী? সংক্ষেপে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লেখিত তাহমিদের সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ভূমি রাজস্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তোমার পঠিত উক্ত শাসকের অবদান উদ্দীপকের আলোকে মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'হুমায়ুন' শব্দের অর্থ ভাগ্যবান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' (Grand Trunk Road বা সড়ক-ই-আজম) হলো শেরশাহ সুরির নির্মিত বা সংস্কারকৃত একটি ঐতিহাসিক ও সুবিশাল মহাসড়ক। এটি সোনারগাঁ (বর্তমান বাংলাদেশ) থেকে শুরু করে দিল্লি, লাহোর হয়ে সিন্ধু নদের তীরবর্তী বর্তমান পাকিস্তানের পেশোয়ার বা অ্যাটক পর্যন্ত প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার বা ১,৫০০ ক্রোশ দীর্ঘ ছিল। সাম্রাজ্যের সামরিক নিরাপত্তা, দ্রুত যোগাযোগ এবং বাণিজ্যের প্রসারের জন্য শেরশাহ এই বিখ্যাত সড়কটি নির্মাণ করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত তাহমিদের সাথে আমার পঠিত মধ্যযুগের মহান শাসক শেরশাহ সুরির সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকের তাহমিদ বিমাতার দুর্ব্যবহারে পিতৃগৃহ ত্যাগ করে এক সামন্তের অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন এবং স্বীয় মেধা ও কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে বিস্তৃত অঞ্চলের অধিপতি হয়ে ভূমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন।
ঐতিহাসিকভাবে, শেরশাহ (ফরিদ খান) বাল্যকালে বিমাতার দুর্ব্যবহারে গৃহত্যাগ করে জৌনপুরে আশ্রয় নেন এবং শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিহারের শাসক বাহার খান লোহানীর অধীনে কাজ শুরু করে তাঁর বিশ্বস্ত হন ও 'শের খান' উপাধি পান। পরবর্তী সময়ে নিজ প্রজ্ঞা, বীরত্ব ও কূটনৈতিক ক্ষমতার দ্বারা তিনি মুঘল সম্রাট হুমায়ুনকে পরাজিত করে দিল্লির সিংহাসন দখল করেন এবং ভারতীয় উপমহাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভূমি রাজস্ব সংস্কারে বৈপ্লবিক অবদান রাখেন। তাই তাহমিদের জীবনের সাথে শেরশাহ সুরির জীবনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূমি রাজস্ব ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে শেরশাহ সুরির অবদান ইতিহাসে অত্যন্ত প্রশংসিত ও যুগান্তকারী, যা উদ্দীপকের তাহমিদের সাফল্যের অনুরূপ।
১. ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়ন: শেরশাহ প্রথম বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জমি জরিপ করান এবং জমির উর্বরতার ভিত্তিতে কর নির্ধারণের নিয়ম প্রবর্তন করেন। উৎপাদনের এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) রাষ্ট্রীয় কর হিসেবে নির্ধারিত হতো। কৃষকদের সুরক্ষার জন্য তিনি 'কবুলিয়ত' (কৃষকের অঙ্গীকারপত্র) ও 'পাট্টা' (স্বত্বপত্র) ব্যবস্থা চালু করেন। দুর্যোগকালে কৃষকদের জন্য ঋণ ও কর মওকুফের ব্যবস্থাও ছিল, যা কৃষিব্যবস্থায় বৈপ্লবিক স্থায়িত্ব আনে।
২. যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: শেরশাহ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটান। তিনি বাংলা থেকে পেশোয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত বিখ্যাত 'গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড' বা সড়ক-ই-আজম নির্মাণ করেন। এ ছাড়া আগ্রা থেকে বুরহানপুর, আগ্রা থেকে যোধপুর ও লাহোর থেকে মুলতান পর্যন্ত দীর্ঘ সড়ক নির্মাণ করেন। পথিক ও ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সড়কের দুই পাশে ছায়াঘন বৃক্ষ রোপণ এবং প্রতি দুই ক্রোশ অন্তর প্রায় ১৭০০টি সরাইখানা (বিশ্রামাগার) ও কূপ খনন করান। ঘোড়ার ডাকের সাহায্যে তিনি দ্রুত ও কার্যকর ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
উদ্দীপকের তাহমিদ যেমন যোগাযোগ ও ভূমি রাজস্বের পুনর্গঠনে বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করেছিলেন, তেমনি বাস্তব ইতিহাসে শেরশাহের এ দুটি সংস্কার ভারতীয় উপমহাদেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও