‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব 'ক' ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই তিনি রাজনীতিতে যোগদান করেন। কৃষকদের উন্নয়নে তিনি অনেকগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মনে প্রানে একজন খাঁটি বাঙালি এবং অসম্প্রদায়িক। বাঙ্গালীদের একটি আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তিনি অনেকগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

  1. ক)

    ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা কে?

    (1)
  2. খ)

    কাকে মজলুম জননেতা বলা হয় এবং কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে যে নেতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে তার অবদান আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    কৃষককূলের উন্নয়নে উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যক্তির ভূমিকা মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ফরায়েজি আন্দোলনের প্রবক্তা হলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে 'মজলুম জননেতা' বলা হয়।

    তিনি আজীবন শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত কৃষক-শ্রমিক এবং সাধারণ মেহনতি মানুষের (মজলুম) অধিকার আদায়ে আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের পক্ষে আজীবন আন্দোলন ও আত্মত্যাগের জন্য জনগণ তাঁকে ভালোবেসে 'মজলুম জননেতা' উপাধিতে ভূষিত করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব 'ক' উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে নির্দেশ করে।

    শিক্ষাক্ষেত্রে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদান অপরিসীম:
    ১. শিক্ষা বিস্তার: ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে তিনি বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজসহ সকল সাধারণ মানুষের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন।
    ২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা: তিনি কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমান মৌলানা আজাদ কলেজ), লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ, ঢাকায় ইডেন কলেজ ও তেজগাঁও কৃষি কলেজ (বর্তমান শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), এবং তাঁর নিজ গ্রামে চাখারে ফজলুল হক কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
    ৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফজলুল হক মুসলিম হল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ছিল অগ্রগণ্য। তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কৃষককূলের উন্নয়নে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও ঐতিহাসিক।

    বাংলার শোষিত-নিপীড়িত কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে তাঁর অবদানসমূহ নিচে মূল্যায়ন করা হলো:
    ১. নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি ও কৃষক প্রজা পার্টি: তিনি কৃষকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে 'নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি' গঠন করেন, যা পরবর্তীতে 'কৃষক প্রজা পার্টি' (KPP)-তে রূপান্তরিত হয় এবং ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কৃষকদের পক্ষে বিপুল সমর্থন লাভ করে।
    ২. ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন: বাংলার কৃষকেরা তখন মহাজনদের উচ্চ সুদের ঋণের জালে আবদ্ধ ছিল। তিনি ১৯৩৬ সালের 'বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন' কার্যকর করে মহাজনি ঋণ থেকে কৃষকদের মুক্তির লক্ষ্যে 'ঋণ সালিশি বোর্ড' প্রতিষ্ঠা করেন। এর ফলে হাজার হাজার দরিদ্র কৃষক ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পায়।
    ৩. বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন: ১৯৩৮ সালে তিনি 'বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন' সংশোধন করে জমিদারদের স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা খর্ব করেন এবং কৃষকদের জমির ওপর দখলি স্বত্ব নিশ্চিত করেন।
    ৪. জমিদারী প্রথা উচ্ছেদের ভিত্তি: তিনি ১৯৩৮ সালে গঠিত ফ্লাউড কমিশনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও জমিদারি প্রথা বিলোপের সুপারিশ করেন, যার পথ ধরে পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে জমিদারি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়।

    সুতরাং, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন কৃষকদের প্রকৃত ত্রাণকর্তা ও বন্ধু।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন