ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব আতিক একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগদান করেন। তিনি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখে হতাশ। কারণ অনুসন্ধান করে দেখলেন যে, প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রভাব বিস্তার করে। তাই তিনি ব্যবস্থাপনার মান পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্য সুস্পষ্ট করে দেন। প্রতিটি কাজের জন্য গতি ও সময় নির্ধারণ করেন। কর্মীদের পার্থক্যমূলক ঠিক মজুরি হার এবং বোনাস পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটান।

  1. ক)

    ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা কি?

    (1)
  2. খ)

    পারিশ্রমিকের নীতি বলতে কী বোঝো?

    (2)
  3. গ)

    ব্যবস্থাপনার কোন নীতির অভাবে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠান অসন্তোষ দেখা যায়? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    "ব্যবস্থাপনার নতুন পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান সম্ভব"- তুমি কি বক্তব্যটির সাথে একমত? যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পদ ও উপায়ের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কার্য সম্পাদনের যোগ্যতাকে ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পারিশ্রমিকের নীতি বলতে প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কর্মীদের সম্পাদিত কাজের প্রকৃতি, মেধা, শ্রম ও সময়ের ভিত্তিতে ন্যায্য, গ্রহণযোগ্য ও সন্তোষজনক বেতন-ভাতা প্রদানের নীতিকে বোঝায়।

    এই নীতি অনুযায়ী কর্মীদের এমন পারিশ্রমিক দিতে হবে যা তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতার সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এর ফলে কর্মীদের কাজের উৎসাহ, প্রেষণা ও সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার 'কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের ভারসাম্য নীতি' এবং 'আদেশের ঐক্য নীতি'-র অভাবের কারণে অসন্তোষ দেখা যায়।

    ব্যবস্থাপনার কর্তৃত্ব ও দায়িত্বের নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মীর কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে হয়। কোনো স্তরে কর্তৃত্ব বেশি এবং দায়িত্ব কম অথবা সব স্তরের কর্মীরা কর্তৃত্বহীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করলে শৃঙ্খলার বিপর্যয় ঘটে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মীরা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অযাচিত প্রভাব বিস্তার করছিল। এতে কার কী দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব তা স্পষ্ট ছিল না। আদেশের ঐক্য ও কর্তৃত্বের শৃঙ্খল না থাকায় বিশৃঙ্খলা ও কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "ব্যবস্থাপনার নতুন পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান সম্ভব"—আমি এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    এফ. ডব্লিউ. টেইলরের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার মূল নীতিগুলোর অন্যতম হলো কাজের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সময় ও গতির নিরীক্ষা এবং কর্মীদের অনুপ্রাণিত করতে পার্থক্যমূলক টুকরা মজুরি ও বোনাস পদ্ধতির প্রয়োগ। এতে প্রতিষ্ঠানের কাজের অপচয় কমে এবং শৃঙ্খলা ফিরে আসে।

    উদ্দীপকে জনাব আতিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার কৌশল গ্রহণ করেছেন। তিনি ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের মাঝে সুস্পষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করে দেন, যার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিচের স্তরের বিশৃঙ্খল প্রভাব দূর হবে। পাশাপাশি গতি ও সময় নির্ধারণের মাধ্যমে কাজের প্রমিত মান প্রতিষ্ঠিত হবে এবং পার্থক্যমূলক ঠিক মজুরি ও বোনাস ব্যবস্থার ফলে যোগ্য ও পরিশ্রমী কর্মীরা উপযুক্ত মূল্যায়ন পাবে।

    কাজেই, এই সময়োপযোগী ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মীদের মধ্যকার অসন্তোষ দূর হবে এবং প্রতিষ্ঠানে কাজের গতিশীলতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে। তাই বক্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন