জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
আমাদের হৃদযন্ত্রটি কিছু কপাটিকা ও নোড এর সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।
- ক)(1)
কলামনি কর্ণি কী?
- খ)(2)
রক্তচাপ বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কপাটিকাসমূহের বিবরণ দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকারী নোডসমূহ এর কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃৎপিণ্ডের নিলয়ের অন্তঃপ্রাচীরে বিদ্যমান খাঁজকাটা মাংসল পেশিস্তম্ভগুলোকে কলামনি কর্ণি (Columnae carneae) বা ট্র্যাবিকিউলি কর্ণি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত রক্তনালির (বিশেষ করে ধমনির) মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে পার্শ্বমুখী যে চাপ প্রয়োগ করে, তাকে রক্তচাপ (Blood pressure) বলে। নিলয়ের সংকোচনের সময় সৃষ্ট চাপকে সিস্টোলিক চাপ (স্বাভাবিক প্রায় ১২০ মিমি পারদ) এবং শিথিলতার সময় সৃষ্ট চাপকে ডায়াস্টোলিক চাপ (স্বাভাবিক প্রায় ৮০ মিমি পারদ) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মানব হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাসমূহ রক্তপ্রবাহকে একমুখী রাখতে সাহায্য করে। প্রধান কপাটিকাগুলো নিম্নরূপ:
১. ট্রাইকাসপিড কপাটিকা (Tricuspid valve): এটি ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি তিনটি পাল্লাবিশিষ্ট এবং ডান অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল ডান নিলয়ে প্রবেশ করতে দেয়, বিপরীতমুখী প্রবাহ রোধ করে।
২. বাইকাসপিড বা মাইট্রাল কপাটিকা (Bicuspid/Mitral valve): এটি বাম অলিন্দ ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত। এটি দুটি পাল্লাবিশিষ্ট এবং বাম অলিন্দ থেকে রক্ত বাম নিলয়ে যেতে দেয়।
৩. পালমোনারি সেমিলুনার কপাটিকা: ডান নিলয় ও পালমোনারি ধমনির সংযোগস্থলে অবস্থিত। অর্ধচন্দ্রাকৃতির এ কপাটিকা রক্তকে ডান নিলয় থেকে পালমোনারি ধমনিতে প্রবেশে পথ দেয় কিন্তু নিলয়ে ফিরতে দেয় না।
৪. অ্যাওর্টিক সেমিলুনার কপাটিকা: বাম নিলয় ও মহাধমনির সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির এ কপাটিকা থাকে। এটি বাম নিলয় থেকে রক্ত অ্যাওর্টায় যেতে দেয়।
এছাড়াও ইনফিরিয়র ভেনাক্যাভার মুখে ইউস্টেসিয়ান কপাটিকা এবং করোনারি সাইনাসের মুখে থিবেসিয়ান কপাটিকা থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মানব হৃদযন্ত্রের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণকারী বিশেষায়িত হৃৎপেশিগুচ্ছ বা জাংশনাল টিস্যুগুলো হলো:
১. সাইনো-অ্যাট্রিয়াল নোড (SAN): ডান অলিন্দের প্রাচীরে অবস্থিত এ নোডটি হৃৎস্পন্দন শুরু করে এবং এর ছন্দময় স্পন্দন প্রতি মিনিটে ৭০-৮০ বার হার্টবিট বজায় রাখে। এ কারণে একে হৃৎপিণ্ডের 'পেসমেকার' বা প্রাকৃতিক পেসমেকার বলা হয়। এটি থেকে অ্যাকশন পটেনশিয়াল উৎপন্ন হয়ে অলিন্দদ্বয়কে সংকুচিত করে।
২. অ্যাট্রিও-ভেন্ট্রিকুলার নোড (AVN): ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের প্রাচীরের সংযোগস্থলে অবস্থিত। SAN থেকে সৃষ্ট উদ্দীপনা এটি গ্রহণ করে এবং প্রায় ০.১ সেকেন্ডের একটি বিলম্ব (AV delay) ঘটিয়ে নিলয়ে প্রেরণের পথ সুগম করে, যাতে অলিন্দ থেকে রক্ত নিলয়ে পৌঁছানোর সময় পায়। একে 'সংরক্ষিত পেসমেকার' বলা হয়।
৩. বান্ডল অব হিজ (Bundle of His): AVN থেকে উৎপন্ন বিশেষায়িত পেশিতন্তু যা আন্তঃনিলয় পর্দায় এসে ডান ও বাম দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে নিলয়ের দিকে প্রবাহিত হয়। এটি নিলয়ের প্রাচীরে বিদ্যুৎ সংকেত দ্রুত ছড়িয়ে দেয়।
৪. পারকিনজি তন্তু (Purkinje fibres): বান্ডল অব হিজের শাখাগুলো আরও সূক্ষ্ম হয়ে নিলয়ের প্রাচীর ও প্যাপিলারি পেশিতে জালকের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর মাধ্যমে সংকেত দ্রুত ও সমভাবে নিলয়ের সর্বত্র পরিবাহিত হয়ে শক্তিশালী নিলয় সংকোচন (সিস্টোল) নিশ্চিত করে।
এভাবে এই নোডসমূহ সমন্বয় রেখে হৃদস্পন্দন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সৃষ্টি ও নিয়ন্ত্রণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও