উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

'পাওয়ার গ্রিড' কোম্পানি বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের পরিবর্তনশীল ব্যয় ইউনিট প্রতি ৮ টাকা, মোট স্থায়ী ব্যয় ৫ কোটি টাকা, এককপ্রতি বিক্রয় মূল্য ১২ টাকা। উক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট উৎপাদন বা বিক্রির পরিমাণ ২০,০০০ ইউনিট । XYZ হলো অপর একটি কোম্পানি। তাদের এককপ্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় ৩ টাকা, মোট স্থায়ী ব্যয় ৪ কোটি টাকা, এককপ্রতি বিক্রয় মূল্য ৭ টাকা।

  1. ক)

    লোভনীয় পণ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    মার্ক আপ/ব্যয়-যোগ মূল্য নির্ধারণ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে 'পাওয়ার গ্রিড' কোম্পানি-এর ভারসাম্য বিন্দুতে মোট আয় নির্ণয় করো ।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের উল্লেখিত দুইটি কোম্পানি-এর মধ্যে কোনটি লাভজনক বলে তোমার কাছে প্রতীয়মান হয়? যুক্তি দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব ভোগ্যপণ্য ক্রেতারা কোনো প্রকার পূর্বপরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা ছাড়াই হঠাৎ দেখামাত্র তাৎক্ষণিকভাবে ক্রয় করে, সেগুলোকে লোভনীয় পণ্য (Impulse Goods) বলে। যেমন: আইসক্রিম, চকোলেট ইত্যাদি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পণ্যের এককপ্রতি উৎপাদন বা ক্রয় ব্যয়ের সাথে একটি নির্দিষ্ট শতকরা হারে প্রত্যাশিত মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করার পদ্ধতিকে মার্ক-আপ বা ব্যয়-যোগ মূল্য নির্ধারণ (Markup/Cost-plus pricing) পদ্ধতি বলে।

    এ পদ্ধতিতে প্রথমে পণ্যের পরিবর্তনশীল ব্যয় ও স্থির ব্যয়ের সমন্বয়ে মোট ব্যয় বা এককপ্রতি ব্যয় নির্ণয় করা হয়। এরপর ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান তার কাঙ্ক্ষিত লাভের অংশ ঐ ব্যয়ের সাথে যুক্ত করে পণ্যের বিক্রয়মূল্য ধার্য করে। এটি মূল্য নির্ধারণের একটি অত্যন্ত সহজ ও বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে 'পাওয়ার গ্রিড' কোম্পানির ভারসাম্য বিন্দুতে মোট আয় (সমচ্ছেদ বিক্রয় টাকা) নির্ণয় করা হলো:

    আমরা জানি,
    এককপ্রতি দত্তাংশ (Contribution Margin, CM) = এককপ্রতি বিক্রয়মূল্য (P) - এককপ্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় (V)
    = ১২ টাকা - ৮ টাকা = ৪ টাকা

    সমচ্ছেদ বিন্দু (এককে) = মোট স্থায়ী ব্যয় ÷ এককপ্রতি দত্তাংশ
    = ৫,০০,০০,০০০ টাকা ÷ ৪ টাকা
    = ১,২৫,০০,০০০ ইউনিট

    অতএব, ভারসাম্য বিন্দুতে মোট আয় (সমচ্ছেদ বিক্রয় মূল্য) = সমচ্ছেদ একক × এককপ্রতি বিক্রয়মূল্য
    = ১,২৫,০০,০০০ ইউনিট × ১২ টাকা
    = ১৫,০০,০০,০০০ টাকা (১৫ কোটি টাকা)।

    সুতরাং, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ভারসাম্য বিন্দুতে মোট আয় ১৫ কোটি টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০,০০০ ইউনিট বিক্রয় স্তরে উভয় প্রতিষ্ঠানই লোকসানে রয়েছে, তবে কম উৎপাদন ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে XYZ কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির তুলনায় বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

    উভয় কোম্পানির তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
    ১. পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি:

    • মোট স্থায়ী ব্যয় = ৫ কোটি টাকা
    • এককপ্রতি দত্তাংশ (CM) = ১২ - ৮ = ৪ টাকা
    • সমচ্ছেদ বিন্দু (BEP) = ৫ কোটি ÷ ৪ = ১,২৫,০০,০০০ একক
    • সমচ্ছেদ বিক্রয় = ১৫ কোটি টাকা
    • ২০,০০০ ইউনিটে মুনাফা/ক্ষতি = (২০,০০০ × ৪) - ৫,০০,০০,০০০ = ৮০,০০০ - ৫,০০,০০,০০০ = -৪,৯৯,২০,০০০ টাকা (ক্ষতি)।

    ২. XYZ কোম্পানি:

    • মোট স্থায়ী ব্যয় = ৪ কোটি টাকা
    • এককপ্রতি দত্তাংশ (CM) = ৭ - ৩ = ৪ টাকা
    • সমচ্ছেদ বিন্দু (BEP) = ৪ কোটি ÷ ৪ = ১,০০,০০,০০০ একক
    • সমচ্ছেদ বিক্রয় = ১ কোটি একক × ৭ টাকা = ৭ কোটি টাকা
    • ২০,০০০ ইউনিটে মুনাফা/ক্ষতি = (২০,০০০ × ৪) - ৪,০০,০০,০০০ = ৮০,০০০ - ৪,০০,০০,০০০ = -৩,৯৯,২০,০০০ টাকা (ক্ষতি)।

    উভয় কোম্পানির এককপ্রতি দত্তাংশ সমান (৪ টাকা) হলেও XYZ কোম্পানির স্থায়ী ব্যয় কম (৪ কোটি টাকা, যেখানে পাওয়ার গ্রিডের ৫ কোটি টাকা)। ফলে XYZ কোম্পানির সমচ্ছেদ বিন্দু ১ কোটি একক, যা পাওয়ার গ্রিডের (১.২৫ কোটি একক) চেয়ে কম। অর্থাৎ XYZ কোম্পানি কম একক বিক্রয় করেই মুনাফা অর্জন শুরু করতে পারবে এবং তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অতএব, সার্বিক বিবেচনায় XYZ কোম্পানিটি অধিক লাভজনক বলে প্রতীয়মান হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন